এই প্রশ্নের জবাব আমি দেব না: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

এই প্রশ্নের জবাব আমি দেব না: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ২:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

print
এই প্রশ্নের জবাব আমি দেব না: ওবায়দুল কাদের

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে প্রশ্ন করায় বিরক্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘একজন খালেদা জিয়াকে নিয়ে বারবার প্রশ্নের জবাব দেব সেই সময় আমার নেই। কারণ আমাদের অনেক কাজ রয়েছে, দেশের কাজ দলের কাজ। খালেদা জিয়াকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, এই প্রশ্নটি করবেন না। তিনি আদালতে আবেদন করেছেন, আদালতই বিষয়টি ঠিক করবে।’

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগের সকল সংগঠনের জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্যদের ‌বি‌শেষ যৌথ সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার যে মামলায় সাজা হয়েছে সেটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, এটা দুর্নীতির মামলা। দুর্নীতির মামলা যেটা হবার সেটাই হবে। আদালত যেটা সিদ্ধান্ত নেয়ার নেবে, এটা আওয়ামী লীগের হাতে নেই, শেখ হাসিনার হাতে নেই। আমাদের কারো কাছে নেই, আমাদের এখতিয়ারে নেই। কাজেই একই প্রশ্ন বারবার করে বিব্রত করবেন না। এই প্রশ্নের জবাব আমি দেব না।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদালত যেটা সিদ্ধান্ত নেয়ার নেবে, এটা আওয়ামী লীগের হাতে নেই, শেখ হাসিনার হাতে নেই। আমাদের কারো কাছে নেই, আমাদের এখতিয়ারে নেই। কাজেই একই প্রশ্ন বারবার করে বিব্রত করবেন না। এই প্রশ্নের জবাব আমি দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দল প্রচার কর‌ছে নির্বাচ‌নে (সিটি নির্বাচন) কারচুপি হয়ে‌ছে। কিন্তু ইভিএমে কারচুপি বা জা‌লিয়া‌তির কোনো সুযোগ ছিল না। যদি এরকম সুযোগ থাকতো, তাহলে নির্বাচনে পার্সেন্ট ‌বে‌শি বা অস্থিতিশীলতা হ‌তো। যদি কোন প্রকার কারচুপি ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হতো তাহলে এই নির্বাচনের অবস্থা ভিন্নতর হতে পারতো।’

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে তার কারাজীবনের দুই বছর কেটে গেছে। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত বছরের ১ এপ্রিল মাসে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। এখনও তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার ছয় স্বজন তাকে হাসপাতালে দেখে আসেন। বেরিয়ে এসে তারা জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য তারা বিদেশ নিয়ে যেতে চান। এ জন্য প্যারোলে মুক্তি দিলে তাতে তাদের আপত্তি থাকবে না। অবশ্য প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বিএনপি নেতারা দ্বিধাবিভক্ত। খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে বুধবার আবারও আবেদন করেছে বিএনপি।

সভায় অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনাভাইরাস আড়াই মাসের বেশি দীর্ঘায়ত হলে আমাদের চলমান কাজের ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী দুই মাসে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল (অব.) ফারুক খান, শাজাহান খান, আবদুর রহমান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিভাগীয় বিভিন্ন জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা।