‘সাঈদ খোকনের সামনে সংক্ষিপ্ত কোনো পথ নেই’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | ১৭ চৈত্র ১৪২৬

‘সাঈদ খোকনের সামনে সংক্ষিপ্ত কোনো পথ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

print
‘সাঈদ খোকনের সামনে সংক্ষিপ্ত কোনো পথ নেই’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন জাতীয় সংসদের ঢাকা-১০ আসনে উপ-নির্বাচনে নিজ দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি।

সাঈদ খোকন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। সদ্য সমাপ্ত দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন চেয়ে তিনি ব্যর্থ হন। দল ডিএসসিসি মেয়র পদে মনোনয়ন দেয় ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে। নির্বাচনে শেখ ফজলে নূর তাপস জয়লাভ করেছেন এবং মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে মেয়র পদে নির্বাচন করেন। সংসদ সদস্য পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ানোয় ঢাকা-১০ আসন শূন্য হয় এবং এই আসনে উপ-নির্বাচন হবে। এতে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, মেজর (অব.) ইয়াদ আলী ফকির, অ্যাডভোকেট বশির, আদম তমিজী হক, ড. আবদুল ওয়াদুদ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, কুদ্দুসুর রহমান, এএসএম কামরুল আহসান ও কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল। তারা সবাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। গত শনিবার রাতে দলের পক্ষ থেকে এই আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয় শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে।

ঢাকা দক্ষিণের বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কৌতূহলীদের ধারণা ছিল, ঢাকা-১০ আসনে উপ-নির্বাচনে সাঈদ খোকন মনোনয়ন পেতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না পাওয়ায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তিনি দলের ভেতর গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছেন। আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতারাও বলছেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে সাঈদ খোকনকে আপাতত দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য সাঈদ খোকনের সামনে সংক্ষিপ্ত কোনো পথ নেই।

রাজনৈতিক কৌতূহলী ও সমালোচকদের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে খোকনের এমন অবস্থা হওয়ার কারণ তিনি রাজনীতির মাঠে খেলোয়াড়ি দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হননি। তার আভাস মিলেছে তখন, যখন ডিএসসিসি মেয়র পদে নির্বাচনে ফজলে নূর তাপস আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। সে সময় সাঈদ খোকন দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার রাজনৈতিক জীবনে একটা কঠিন সময় যাচ্ছে। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে পরিস্থিতি আর অনুকূল হলো না, তার আগেই তিনি আরও কঠিন অবস্থায় পড়লেন।

আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, সাঈদ খোকন এখনও রাজনীতির খেলায় পরিপক্ক হয়ে উঠতে পারেন নি। মেয়র হিসেবে তিনি কোন কোন ক্ষেত্রে দলকে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। তার ওপর দলের যে আস্থা ছিল, তা তিনি সঠিকভাবে রাখতে পারেন নি। এর আগে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পেছনে তার প্রয়াত বাবার ভাবমূর্তিই বেশি কাজ করেছে। সাঈদ খোকনের বাবা মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। তিনি ত্যাগী ও দলের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। বাবার ইমেজে ভর করে সাঈদ এর আগেরবার মেয়র পদে মনোনয়ন পেলেও রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন নি।

নির্বাচিত মেয়র হিসেবে তার উল্লেখযোগ্য কোন সাফল্যও নেই। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব পাওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন তা কাজে লাগাতে পারেননি। দলীয় নেতারা মনে করছেন, সাঈদ খোকনের আপাতত দলের কাজে মনোযোগী হওয়া উচিত। তাহলে নিশ্চয়ই তিনি এক সময় ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।