মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুস সোবহান আর নেই

ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুস সোবহান আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

print
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আব্দুস সোবহান আর নেই

জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর ও পাবনা-৫ আসনের ৫ বারের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আবদুস সুবহান আর নেই (ইন্না...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত এ নেতা শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুবহানের আত্মীয় গোলাম হাদী সাঈদী। তিনি জানান, আবদুস সুবহান কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি আবদুস সুবহানকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগছিলেন তিনি। আজ দুপুর ১ টা ৩৩ মিনিটে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনপেক্টর বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক মর্গে রয়েছে। 

উল্লেখ্য, আবদুস সুবহান জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করায় সংগঠনে তার প্রভাব ছিল উল্লেখ করার মত। তিনি দলীয় টিকিটে পাবনা-৫ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সবশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান পাকিস্তান আমলে ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য। তিনি পাবনা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক হেড মাওলানা ছিলেন।

২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের এই প্রভাবশালী নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে প্রাণদণ্ড দেন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আনা ৯ টি অভিযোগের মধ্যে ছয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আব্দুস সুবহান হলেন জামায়াতের নবম শীর্ষ নেতা, যিনি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন।