সম্পত্তির লোভেই জি এম কাদের নির্যাতন করছেন এরিককে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সম্পত্তির লোভেই জি এম কাদের নির্যাতন করছেন এরিককে

সংবাদ সম্মেলনে বিদিশা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

print
সম্পত্তির লোভেই জি এম কাদের নির্যাতন করছেন এরিককে

সম্পত্তির লোভে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদপুত্র এরিককে নির্যাতন করেছেন তার চাচা জি এম কাদের। আর এমনই অভিযোগ করেছেন এরিকের মা এবং এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা। শুক্রবার গুলশানে প্রেসিডেন্ট পার্কে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদিশা বলেন, তার চাচার (জি এম কাদের) এরিকের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। আগ্রহ এরিকের সম্পদের প্রতি। সম্পত্তির জন্যই এরিককে নানাভাবে নির্যাতন করছেন তার চাচা। এমনকি এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেকে খেতে পর্যন্ত দিচ্ছেন না। এরিকের প্রতি নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ফ্রিজে খাবার ছিল না। না খেতে পেরে শুকিয়ে গেছে ছেলেটা। একটি অনলাইনে দেখলাম, এক মাসেই একটি রেস্টুরেন্টে এরিক ৫৪ হাজার টাকার খাবার খেয়েছে, এমন বিল করেছে ওই রেস্টুরেন্ট। এত টাকার খাবার খেলে ৩০ কেজি ওজন কীভাবে কমে? এরিকের ওজন কমা দেখে তার ডাক্তারও অবাক হয়েছেন। এরিকের নামে বিল করে খাবারগুলো কারা খেল?

তিনি বলেন, আমার ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট পার্কে আসিনি। গুলশানে আমার দুটি বাড়ি আছে। লন্ডন ও আমেরিকায় আমার বাড়ি আছে। আমার তো বাড়ির কোনো প্রয়োজন নেই। আমার জীবনই তো শেষ। আর কতদিনই বা আমি বাঁচবো। তিনি বলেন, ওরা বারবার প্রচার করছে আমার আরও কয়েকটা বিয়ে হয়েছে। কোনো কিছুই তো লুকোচুরি নয়, আমি ব্রিটিশের ঘরে ছিলাম। এরিকের বাবা জেনেই তো আমাকে বিয়ে করেছে। আমি আমার সন্তানের অধিকার ছাড়বো না। আমার সন্তানের জন্য এখন আমি একা নয়, সন্তানই এখন লড়াই করছে। আমার সন্তান চাচ্ছে আমি যেন এরিকের সঙ্গে থাকি।

তিনি আরও বলেন, ওনাদের মূল টার্গেট হচ্ছে এরিকের সম্পত্তি, এরিক নয়। তিনি বলেন, ড্রাইভার এরিকের গায়ে হাত তুলেছে। ড্রাইভার কীভাবে সাহস পায় ওর গায়ে হাত তোলার? আরও যেসব অত্যাচার-নির্যাতন করেছে সেটা মা হিসেবে বলতে পারব না।

বিদিশা এরশাদ বলেন, এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা বাইরে যেতে পারছি না। আমরা ভয় পাচ্ছি। আমরা বের হলে ঘরে ফিরতে পারব কি না এটার নিশ্চয়তা নেই। শেষ কথা আমি আমার সন্তানের অধিকার ছাড়ব না। আমি আমার ছেলের সঙ্গে থাকব। সে আমাকে যেখানে থাকতে বলবে আমি সেখানেই থাকব।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার আর তা হচ্ছে এখানে আমি জোর করে আসিনি বা ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্যও আসিনি। এ বাসায় অনেক সিকিউরিটি সদস্য রয়েছে, পুলিশ রয়েছে। তারা আমাকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। বাসার কাজের লোকে দরজা খুলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি এসে দেখি ছেলেটি ক্ষুধায় কাঁপছিল। ছোট্ট একটি ফ্রিজ, সেটাও বন্ধ ছিল। কোনো স্টাফ ওকে খাবার দিত না। দিনে এক বেলা খেত, বলতে গেলে। বিদিশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মা হিসেবে আমি আমার সন্তানকে চাই। শুধু সন্তানকে চাই। গত ১৪ বছর আমি আমার সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেছি। যতদিন ওর বাবা বেঁচে ছিলেন আমার চিন্তা করতে হয়নি। কারণ ওর বাবা ওকে চোখের আড়াল করতো না। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর অন্যরা ওর সঙ্গে আমাকে যোগাযোগ করতে দেননি, বিশেষ করে ওর চাচা।

জাতীয় পার্টি প্যাডে দাবি করা হয় আর্মস নিয়ে বিদিশা প্রবেশ করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিদিশা বলেন, আমি যখন প্রবেশ করি তখন পুলিশ ছিল। তাহলে তারা কি দেখতো না। আমাকে তো তাহলে তারা গ্রেফতারও করতে পারতো কিন্তু এখন পর্যন্ত তো আমি গ্রেফতার হইনি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন কেউ বাসার আশপাশে আর্মস রেখে আমাকে ফাঁসাতে পারে। বাসাটা তো ছোট না, অনেক বড় বাসা আপনারা ঘুরে দেখতে পারেন। আমি ভয়ে আছি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তারা আপনাকে কেন রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে মনে করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারণ আমি রাজনৈতিকভাবে সফল। তিনি বলেন, আমি এরিকের সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই। আগে এরিক পরে অন্য কিছু।

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এরশাদপুত্র এরিক। এরিক বলেন, আমার মাকে আমি নিজে এনেছি। আর্মস নিয়ে বাসায় ঢুকেছে বলে অভিযোগ তাদের। এটা সত্যি হলে পুলিশ এখানে আসতে দিত না। আমি মাকে বলেছি আমি খেতে পারছি না। সে জন্য মা রান্না করে এনেছে। আমি বলেছি মাকে আমার সঙ্গে থাকতে।

তিনি বলেন, বাবা বলে গিয়েছিল মাকে কষ্ট না দিতে। রাজনৈতিক কারণে তোমার মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। নতুন করে মাকে কষ্ট দিও না, মায়ের পায়ের তলে সন্তানের বেহেশত।

মাকে কাছে পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে। মা যখন ছিল না আমার খারাপ লেগেছে। আমাকে অবহেলা করা হয়েছে অনেক।