ভেঙেই গেল এলডিপি

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভেঙেই গেল এলডিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

print
ভেঙেই গেল এলডিপি

কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতা আবদুল করীম আব্বাসী ও সাহাদাত হোসেন সেলিমের বিরোধের কারণে ভেঙে গেল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অলির সঙ্গে আব্বাসী ও সেলিমের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। যে কারণে এই দুই নেতাতে এলডিপির নতুন কমিটিতে রাখেনি কর্নেল অলি আহমেদ। যার ফলশ্রুতিতে সাবেক হুইপ আবদুল করীম আব্বাসী ও সাহাদাত হোসেন সেলিম কয়েকজনকে নিয়ে গতকাল পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে। এতে সভাপতি হন আবদুল করীম আব্বাসী এবং সদস্য সচিব করা হন সাহাদাত হোসেন সেলিম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আবদুল গনি, এম এ বাশার, সৈয়দ ইব্রাহিম রওনক, তৌহিদুল আনোয়ার ও কাজী মতিউর রহমান।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সেলিম বলেছেন, কর্নেল অলির সঙ্গে রাজনীতি করা যায় না। সে জন্য আমরা আবদুল করীম আব্বাসীকে সভাপতি করে সাত সদস্যের সমন্বয়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সমন্বয়ক কমিটি সারা দেশে এলডিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে। দলের সারা দেশের নেতাকর্মীরা আমাদের পাশে আছে। সেলিম বলেন, একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যেখানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রয়াস চালাবেন, সেখানে জোটের মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য জাতীয় মুক্তি মঞ্চ তৈরি করেন অলি আহমদ। শুরুতে মুক্তি মঞ্চকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম বলা হলেও ধীরে ধীরে তার জিয়া পরিবার আর বিএনপির বিষোদ্?গার করার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিতর্কিত আর দুর্বল করার ষড়যন্ত্র শুরু করে, যা আমাদের মতো জাতীয়তাবাদী আদর্শের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, অলি আহমদের কাছে জাতির যে প্রত্যাশা সেটা তিনি পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। তার আত্ম-অহমিকা, আত্মকেন্দ্রিকতা, চটুলতা এবং নেতাকর্মীদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার প্রবণতায় প্রতিষ্ঠাকালীন যে ৩২ জন সাবেক এমপি ছিলেন, তারা এলডিপি ছেড়ে চলে গেছেন।

এদিকে গতকাল এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, তিনি ছাড়া এলডিপির কর্তৃত্ব নেওয়ার আইনগত অধিকার কারোর নেই। কেননা দলের নিবন্ধন তার নামে।

জানা গেছে, চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু কিছুদিন পরেই দলের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে মতভিন্নতা সৃষ্টি হলে তাকে রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়তে হয়। ২০০৪ সালে তিনি বিকল্পধারা নামে রাজনৈতিক দল দল গঠন করেন। ২০০৬ সালে ২৬ মার্চ তিনি নিজের দল বিকল্পধারা বাংলাদেশকে বিলুপ্ত করে অলি আহমেদসহ বিএনপি ছেড়ে আসা একদল নেতাকে গিয়ে এলডিপি গঠন করেছিলেন।

বি চৌধুরীকে সভাপতি, অলিকে নির্বাহী সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম এ মান্নানকে মহাসচিব করে গঠিত ওই দলে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদকে নিয়ে বিএনপি নেতা সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী যোগ দিলে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরের বছর ২৬ জুন অলি ও রাজ্জাকসহ ১৩ সদস্যকে বাদ দিয়ে বি চৌধুরী এলডিপির সভাপতিম-লী পুনর্গঠনের ঘোষণা দিলে পরের মাসেই অলিকে সভাপতি, রাজ্জাককে নির্বাহী সভাপতি ও অধ্যাপিকা জাহানারা বেগমকে মহাসচিব করে এলডিপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই বছরই ১ অক্টোবর বিলুপ্ত করা ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ পুনরুজ্জীবিত করে নিজের নেতৃত্বাধীন এলডিপির নাম বদলে ফেলেন বি চৌধুরী। তারপর ২০০৮ সালে অলি ও রেদোয়ান আহমেদের নেতৃত্বাধীন একমাত্র এলডিপি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সেলিম বলেন, ২০০৬ সালে আমরা এলডিপি গঠন করে যে অন্যায় করেছি, যে পাপ করেছি বিএনপি আমাদের সেই অন্যায় ও পাপকে প্রায়শ্চিত্ত করার একটা সুযোগ দেবে। সেলিম বলেন, এই সমন্বয়ক কমিটির মাধ্যমে তারা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে থাকবে। আপনারা কি এলডিপিতে আছেন প্রশ্ন করা হলে সেলিম বলেন, আমরাই এলডিপি, আমরা এলডিপি নিয়েই আছি। আমাদের এলডিপির সভাপতি পদ রয়েছে। সেই পদে এখন সভাপতি হচ্ছেন আবদুল করীম আব্বাসী।

সংবাদ সম্মেলন সাবেক হুইপ আবদুল করীম আব্বাসী বলেন, অলি আহমদ নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো কিছু চিন্তা করেন না। উনি একবার ছাতা এদিকে ধরেন, আরেকবার ছাতা ওদিকে ধরেন। এই মুহূর্তে অলির সঙ্গে একজন (রেদোয়ান আহমদ) ছাড়া আর কেউ নেই। তার কমিটি অকার্যকর, তাতে ২০-২৫ সক্রিয় নেতাকর্মী আছেন।