আমার বাবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার: ইশরাক

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

আমার বাবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার: ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

print
আমার বাবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার: ইশরাক

অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র, প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমার বাবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও দেশের মাটিতে মরতে পারেননি। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে স্বাধীন করা দেশে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে পারেননি তিনি।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এখনই দূর করা প্রয়োজন। আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এর আগে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোকার জানাজার আগে তার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, প্রায় সময়ই আব্বু বলতেন- 'যেই বাংলাদেশ নিজ হাতে স্বাধীন করেছি, সেই দেশে আমাকে কি বাক্সবন্দি হয়ে ফিরতে হবে...।' শেষ পর্যন্ত বাবার কথাই সত্যি হলো। তাকে দেশে আনা হলো, তবে সুস্থ অবস্থায় নয়, একেবারে কফিনে মুড়িয়ে বাক্সবন্দি করে।

বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোকার মরদেহবাহী গাড়িটি পৌঁছায়। পরে দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ীভাবে স্থাপিত মঞ্চে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এ সময় সেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্প অর্পণের মাধ্যমে তার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাসদের নাজমুল হক প্রধান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, গণফোরাম নেতা আবু সাঈদ, বীর প্রতীক হাবিবুল আলম, শিল্পী ফকির আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দল, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণতান্ত্রিক বাম জোট, স্বাধীনতা ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা দলের উলফাক ও সাদেক খান, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অনিক রায় ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল।

শ্রদ্ধা জানানোর পর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে বাদ জোহর সাদেক হোসেন খোকার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ৩টায় ৪র্থ জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবনে। পরে বাদ আসর গোপীবাগ নিজ বাসা হয়ে ধূপখোলা মাঠে পঞ্চম জানাজা নামাজ শেষে জুরাইন গোরস্তানে দাফন করা হবে।

এর আগে সকাল ৮টা ২৮ মিনিটের দিকে খোকার মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সাদেক হোসেন খোকার কফিন গ্রহণ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ সময় অন্যদের মধ্যে বিমানবন্দরের সামনে উপস্থিত ছিলেন- আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আতাউর রহমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, ইমরান সাহলে প্রিন্স, এনামুল হক, কামরুজ্জামান রতন, শামীমুর রহমান শামীম, এস এম জাহাঙ্গীর, মীর সরাফত আলী সফু, ফিরোজ আহমেদ, মকবুল আহমেদ টিপু, মেজর কামরুল, আব্দুল আলি।

এর আগে সাদেক হোসেন খোকার কফিনবাহী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ২০২ নম্বর ফ্লাইটটি নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে) দুবাইর পথে রওনা হয়। সেখান থেকে একই এয়ারলাইন্সের ইকে ৫৮২ নম্বর ফ্লাইটে খোকার লাশ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।