স্বেচ্ছাসেবক হতে চায় সাবেক ছাত্রনেতারা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

স্বেচ্ছাসেবক হতে চায় সাবেক ছাত্রনেতারা

সম্মেলন ১৬ নভেম্বর

হাসান ওয়ালী ১০:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

print
স্বেচ্ছাসেবক হতে চায় সাবেক ছাত্রনেতারা

দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলন। ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতাদের নাম আসায় শীর্ষ দুই পদেই নেতৃত্বের পালাবদল হবে বলে গুঞ্জন উঠেছে। দীর্ঘ সময় পর এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। পদপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন শীর্ষ মহলে। দীর্ঘদিন পদ-পদবী না পাওয়া সাবেক ছাত্রনেতারা স্বপ্ন দেখছেন নতুন পরিচয়ের।

সূত্র বলছে, তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় সুবিধাভোগীদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠা সহযোগী সংগঠনগুলোকে গতিশীল করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই লক্ষ্যেই ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে চান তিনি। বিশেষ করে মূল দল এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃত্বপ্রতিম সংগঠনের ‘মনস্টার’ হয়ে ওঠা নেতাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ, নিষ্কলুষ নেতাদের হাতে দিতে চান সংগঠনটির দায়িত্ব। শুদ্ধি অভিযানের এই উদ্যোগে প্রথম ধাপেই কপাল পুড়তে পারে দুই শীর্ষ নেতার। সভাপতি মোল্লা কাওছারের ক্যাসিনো সম্পৃক্ততা ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের পরিবহন বাণিজ্য ভালোভাবে নেননি আওয়ামী লীগ প্রধান। দুই শীর্ষ পদে পরিবর্তন হলে তুলনামূলক ক্লিন-ইমেজের কারও হাতে দিতে পারেন সংগঠনটির দায়িত্ব।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠা ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই। সাবেক এমপি হাজি মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে প্রথম কমিটি গঠিত হয়। ২০০৩ সালের ২৭ জুলাই সংগঠনের প্রথম সম্মেলনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সভাপতি ও পংকজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের ২০০৯ সালের জাতীয় সম্মেলনে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সাংগঠনিক সম্পাদক হলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং পরে সভাপতি মনোনীত হন। ২০১২ সালের ১১ জুলাই সংগঠনের দ্বিতীয় সম্মেলনে মোল্লা মো. আবু কাওছারকে সভাপতি এবং পংকজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তিন বছর মেয়াদি সে কমিটি সাত বছর পেরিয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর বেলা ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংগঠনটির তৃতীয় জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর আগে ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ১২ নভেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহানগর উত্তরের সম্মেলন হবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ সূত্র বলছে, সম্মেলনে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত থাকবেন। ৭৯টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিটি থেকে ২৫ জন করে কাউন্সিলর আসবেন। এর বাইরে সংগঠনের কেন্দ্র ও সাংগঠনিক মহানগর শাখা মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কাউন্সিলর নতুন নেতা নির্বাচন করবেন। তবে বিগত কাউন্সিলের মতো এবারও নেতা নির্বাচনের ভার প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত করবেন কাউন্সিলররা।

এদিকে দীর্ঘদিন পরের সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। পদপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন শীর্ষ মহলে। ক্যাসিনোকাণ্ডে এতদিনের প্রতাপশালীরা আতঙ্কে থাকায় তুলনামূলক ক্লিন-ইমেজের নেতারা চলে এসেছেন লাইমলাইটে। এর বড় অংশই সাবেক ছাত্রনেতা। স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় ছাত্রলীগের বিগত কয়েক কমিটির কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহানগরের নেতারা পদবঞ্চিত। জাতীয় রাজনীতিতে নামতে পরিচয় সংকটে ভুগছেন তারা। আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে তাদের আশা, ছাত্রলীগ থেকে যাওয়া কারও কাঁধেই যেন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শাকিব বাদশার সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশা আসন্ন সম্মেলনে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। খোলা কাগজকে তিনি বলেন, ‘নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেইটাই হবে। আমার প্রত্যাশার কথা যদি বলেন, আমি চাই সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকে যেন নেতৃত্ব আসে। সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে যাদের ক্লিন-ইমেজ আছে, তারাই নেতৃত্বে আসুক।’

বাদশা ছাড়াও আসন্ন কাউন্সিলে শীর্ষ দুই পদে ঘুরেফিরে আসছে বেশকিছু নাম। এর মধ্যে নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, আফজালুর রহমান বাবু, মতিউর রহমান মতি, যুগ্ম সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, খাইরুল হাসান জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আজিম, শেখ সোহেল রানা টিপু, আবদুল আলীম, খাইরুল হাসান জুয়েল, দফতর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্পাদক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন। এর মধ্যে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্পাদক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম উচ্চারিত হচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

৭৫-এর ঘাতক নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম ছাত্রাবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আসন্ন কাউন্সিল নিয়ে মোয়াজ্জেম খোলা কাগজকে বলেন, ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্পাদক হয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পজেটিভ ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এতদিন পলিটিক্স করতে যেয়ে কখনো টেন্ডারবাজি করিনি, চাঁদাবাজি করিনি। অন্য কোনো দুর্নাম নেই। সবসময় সংগঠনের পেছনে নিরলসভাবে শ্রম দিয়েছি। ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে রাজনীতি করছি, আমি তো এখন সাধারণ সম্পাদক পদ আশা করতেই পারি। তবে দল যাকে দায়িত্ব দেবে তাকেই আমরা মেনে নেব।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের আসন্ন কাউন্সিল নিয়ে কথা হয় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে। কেমন নেতৃত্ব চান, এমন প্রশ্নে খোলা কাগজকে তিনি বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ আছে তাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা হওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। যারা সমাজ জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন তাদেরও সুযোগ নেই। রাজনৈতিক জীবনে ধারাবাহিকভাবে জাতির পিতার আদর্শের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, যারা অভিজ্ঞ তারাই আগামীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে আসবে বলে বিশ্বাস করি।’