বুধবার দেশব্যাপী বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ভোলায় সংঘর্ষ

বুধবার দেশব্যাপী বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

print
বুধবার দেশব্যাপী বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথনে ধর্ম অবমাননা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে আগামী বুধবার (২৩ অক্টোবর) সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন সোমবার দুপুরে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোলার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিএনপির উদ্যোগে আগামী বুধবার ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় এবং সারাদেশের জেলা ও মহানগরীতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে।

তিনি বলেন, আমি ভোলার সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, এই দেশ অনাদিকাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনুপম নিদর্শন হয়ে আছে। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস। কোনো ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করা বা কারও ধর্মবিশ্বাসকে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করায় দেশের আবহমানকালের ঐতিহ্যে নেই। আমরা মনে করি ভোলার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। যে কারণে ভোলাকে রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে এ ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এছাড়াও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খালা নিয়ন্ত্রণে জেলায় বিজিবি, র‌্যাব ও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষে চারজন নিহতের প্রতিবাদে মুসলিম ঐক্য পরিষদের ডাকা সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে এই প্রতিবাদ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় তারা সমাবেশ করছেন না।

এছাড়াও ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে মুসলিম তাওহিদী জনতার সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং জেলায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

রোববার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন এ মামলা করেন। বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

এদিকে সংঘর্ষে চারজন নিহতের প্রতিবাদে মুসলিম ঐক্য পরিষদের ডাকা সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে এই প্রতিবাদ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় তারা সমাবেশ করছেন না।

সংগঠনের নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের বাধার কারণে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে না পারায় তারা ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মুসলিম ঐক্য পরিষদকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জেলায় চার প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন র‌্যাব ও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (২৫) নামে এক যুবক ফেইসবুক আইডি ‘হ্যাক’ করে মহানবীর বিরুদ্ধে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য ছড়ানোর পর রোববার মুসলিম তাওহিদী জনতার ব্যানারে সমাবেশ থেকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক মাদ্রাসার ছাত্রসহ চারজন নিহত ও ১০ পুলিশসহ শতাধিক আহত হয়।