বুবলীর এমপি পদের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বুবলীর এমপি পদের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ

জালিয়াতির ঘটনায় বাউবি থেকে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

print
বুবলীর এমপি পদের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ

জালিয়াতির মাধ্যমে বিএ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি তামান্না নুসরাত বুবলীর সব পরীক্ষা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তাকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। রোববার বাউবি ভিসি অধ্যাপক ড. এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।

তামান্না নুসরাত বুবলী একজন এমপি হয়েও পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পুরো এমপি পদটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও নৈতিকতাবিদ্ধ করে ফেলেছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন যারা সংসদে তাদের জন্য আইন প্রণয়ন করেন তাদের নৈতিকতা যদি এমন হয় তাহলে তাদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে কি বার্তা যায়। বুবলী যে কাজটা করেছেন এ জন্য সংসদে অন্য এমপিরাও বিব্রত। এমন নৈতিকস্খলনে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান না থাকলেও দলীয়ভাবে বুবলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দল এখন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা সেটা দলের সিদ্ধান্তের বিষয়।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য এবং সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ পরীক্ষা নিজে না দিয়ে পরপর ৮টি পরীক্ষায় তার পক্ষ থেকে অন্য পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। শেষ দিনের পরীক্ষা দিতে গিয়ে হলে একজন হাতেনাতে ধরা পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ এমপি গণমাধ্যমকে জানান, কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদ সদস্যদের আচরণ কী হবে তা নির্ধারিত রয়েছে। এর বাইরে কোনো নৈতিকস্খলনজনিত সমস্যা থাকলে সে বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আছে। এছাড়া স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনিও এ বিষয়ে একটি রুলিং দিতে পারেন। তবে এটি প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে জাতি আরও নৈতিকতা ও তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করা প্রত্যাশা করে।

জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, এমন ঘটনা লজ্জাজনক। একজন আইন প্রণেতা হয়ে তিনি নিজেই আইন ভঙ্গ করে নৈতিকতা হারিয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপের বাইরে সংসদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে বলে আমার জানা নেই।

নরসিংদীর একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, তিনি যা করেছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি কাজ। একজন সংসদ সদস্যের এমন কর্মকাণ্ড আমাদের মুখে চুনকালি পড়েছে। এটা খুবই লজ্জাজনক কাজ।

জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেট লাভের আশায় প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন নরসিংদীতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি তামান্না নুসরাত বুবলী। জালিয়াতির বিষয়টি অনুসন্ধানে কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুবলীর দেবর কামরুজ্জামান কামরুল নরসিংদী পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি। অপর দেবর শামীম নেওয়াজ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। পুরো পরিবারই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুবলী এইচএসসি পাস। উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেট লাভের আশায় তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হন। এ পর্যন্ত চারটি সেমিস্টারের ১৩টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে ১৩টি পরীক্ষার একটিতেও সশরীরে অংশ নেননি তিনি। তার পক্ষে একেক সময় একেকজন অংশ নিয়েছে। আর এমপির প্রক্সি প্রার্থীকে সুবিধা দিতে পরীক্ষাকে কেন্দ্রসহ হল পাহারায় থাকতেন এমপির লোকজনসহ ক্যাডার বাহিনী। তাই ভয়ে ছাত্র-শিক্ষক কেউই মুখ খুলতে পারে না। সর্বশেষ গত শুক্রবার পরীক্ষা দিতে এসে প্রক্সি পরীক্ষার্থী এশা হাতেনাতে ধরা পড়েছেন।

প্রক্সি পরীক্ষার্থী এশা নিজেকে তামান্না নুসরাত বুবলী হিসেবে দাবি করেন। তবে ছবি সংবলিত প্রবেশপত্র দেখাতে পারেনি। এমপি তামান্নার পরীক্ষা কীভাবে দিচ্ছেন তা জানতে চাইলে তার কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেনি প্রক্সি পরীক্ষার্থী এশা। ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একজন পরীক্ষার্থীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার বিধান থাকলেও এর কিছুই করেননি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। অনেকটা বীরদর্পেই হল থেকে বেরিয়ে যায় ওই পরীক্ষার্থী।

নরসিংদী সরকারি কলেজ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক/হল ইনচার্জ প্রফেসর শফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীর ছবি সংবলিত প্রবেশপত্র ছিল না। প্রবেশপত্র নাকি হারিয়ে গেছে। তাই থানার জিডি কপি নিয়ে পরীক্ষা হলে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসছে। তাই আমরা চিনতে পারিনি।

বিষয়টি জানার পর প্রক্সি পরীক্ষার্থী এশাকে আটক করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্বে ছিল একজন পুলিশ সদস্য। তাই কথা বলার ফাঁকে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে পরে অনেক পুলিশ সদস্যই কলেজে এসেছেন।