অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ওয়ার্কার্স পার্টি

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ওয়ার্কার্স পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক ৫:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

print
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ওয়ার্কার্স পার্টি

রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মতাদর্শিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। পার্টির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, ১৪ দলে থাকা না থাকা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই এ মতপার্থক্য চলে আসছে।

এদিকে কংগ্রেসকে সামনে রেখে এ মতপার্থক্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। এছাড়া পার্টিতে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নেতাকর্মীদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। তাদের অভিযোগ, একটি কমিউনিস্ট আদর্শভিত্তিক পার্টির যে রাজনৈতিক চরিত্র থাকা উচিত, ওয়ার্কার্স পার্টি তা থেকে অনেকটাই সরে গেছে।

আগামী ২ নভেম্বর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির চার দিনব্যাপী দশম কংগ্রেস (কেন্দ্রীয় সম্মেলন) শুরু হবে। তবে কংগ্রেসে পার্টির রাজনৈতিক দলিলের সঙ্গে দ্বিমত করে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন পলিট ব্যুরোর সদস্য নুরুল হাসান ও ইকবাল কবির জাহিদ।

বিকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পার্টি আজ অস্তিত্বের সংকটে। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সস্তম ও অষ্টম কংগ্রেসে বাম ও দক্ষিণপন্থি বিচ্যুতির সুনির্দিষ্ট বহিঃপ্রকাশগুলো চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে মতাদর্শিক সংগ্রাম করার কথা বলা হয়েছিল। সে কাজটি একেবারেই অবহেলিত ও গুরুত্বহীন থেকেছে।

শীর্ষ দুই নেতা বলেন, পার্টিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করা হয়েছে। পার্টির রণনীতির স্থলে বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তি স্থান পেয়েছে। লুটেরা বুর্জোয়া শ্রেণি সরকারের অংশ হিসেবে পার্টি নেতৃত্বকে রাষ্ট্রক্ষমতার সুবিধাভোগী করে তোলার কাজ সুনিপুণভাবে করা হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্র ও ক্ষমতার অংশীদারিত্ব অর্জনের বুর্জোয়া ধ্যান-ধারণা ও কর্মকৌশল সর্বক্ষেত্রে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক সময় সিপিবি বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তি এবং পার্টি এখন ১৪ দলের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে ও সরকারে অংশ নিয়ে বুর্জোয়া লেজুড়বৃত্তির নজির স্থাপন করেছে।

এ বিষয়ে ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, আমি ও নুরুল হাসান বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। পার্টিতে মতাদর্শগত কিছু পার্থক্যের কারণে আমরা দলিলে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। আসন্ন কংগ্রেসকে সামনে রেখেই মূলত এসব বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে।

সার্বিক বিষয়ে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সদস্য করার ক্ষেত্রে আমাদের নিয়ম আছে, সেটা অনুসরণ করেই পার্টির নতুন সদস্য করা হয়। পার্টিতে কিছু নেগেটিভ লোক থাকে, যারা এসব নেগেটিভ কথা ছড়িয়ে বেড়ায়। তবে যা-ই হবে সেটা কংগ্রেসে হবে।