কাজে নেই ততটা কাগজে যতটা

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট

কাজে নেই ততটা কাগজে যতটা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

print
কাজে নেই ততটা কাগজে যতটা

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট যেন মরা গাঙ। চাঞ্চল্য হারিয়ে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। সভা-সমাবেশ তো দূরের কথা, নিদেনপক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে একসঙ্গে বসার চিত্রও ঝাপসা হয়ে আসছে সমর্থকদের স্মৃতিতে। অনেকটা কাজীর গরুর মতো কিতাবে বা কাগজে আছে, গোয়ালে নেই।

রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দেশের বৃহৎ দুটি দল যেন চম্বুকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলো তখন বিদ্যমান দুই রাজনৈতিক বলয়ে ঢোকার প্রাণান্ত চেষ্টায় থাকেন। তুলনামূলক বড় দলটিকে আশ্রয় করে রসুনের কোয়ার মতো একত্রিত হতে থাকেন সবাই। কিন্তু নির্বাচন শেষে আলগা হতে থাকে এসব রাজনৈতিক বন্ধন। ২০ দলীয় জোটের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি ঘটেছে আরও মারাত্মকভাবে। গত নির্বাচনের পর তাদের একসঙ্গে দেখা যায়নি বললেই চলে। ১৯৯৯ সালে নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি (একাংশ) এবং ইসলামী ঐক্যজোট মিলিত গঠিত হয়েছিল চার দলীয় ঐক্যজোট। দীর্ঘ সময় চলার পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে চারদলীয় জোটের পরিসর বাড়িয়ে ১৮ দলীয় জোট গঠন করা হয়েছিল বিএনপির নেতৃত্বে।

এরপর এরশাদের সঙ্গ ত্যাগ করে কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি যোগদান করলে ১৮ দলীয় জোট ১৯ দলে রূপ নেয়। ২০১৪ সালের ৩ জুন দিলীপ বড়–য়ার সঙ্গ ছেড়ে সাম্যবাদী দলের একাংশের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমদের নেতৃত্বে যোগ দিলে ১৯ দলীয় জোট ২০ দলে রূপ লাভ করে। শুরুর দিকে কিছু সভা-সমাবেশ হলেও ধীরে ধীরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ‘ফটোসেশন সর্বস্ব’ হয়ে পড়ে এই জোট। এরপর সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নানা টানাপড়ের কারণে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’য়ের মতো জোট ছাড়তে থাকে একের পর এক দল। একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম তো দূরের কথা, উল্টো ২০ দলীয় জোট এখন আসলে কত দলের, সেটাও যেন বড় এক ধাঁধা।

২০ দলীয় জোটে বিএনপির পর সবচেয়ে শক্তিশালী দল জামায়াতে ইসলামী। বলা চলে, এই দুটি বাদে বাকি দলগুলো সব সাইনবোর্ড সর্বস্ব। কিন্তু তুলনামূলক শক্তিশালী এই জামায়াতও জোটে নেই বললেই চলে। জোটের নেতৃত্বে থাকা বিএনপিও তাদের নিয়ে রয়েছে ‘না-ঘরকা না-ঘটকা’ অবস্থায়। জামায়াতও বজায় রাখছে নিরাপদ দূরত্ব। ঢাকাসহ সারা দেশে তাদের দলীয় অফিস বন্ধ। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেককেই যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে। এ ছাড়াও নানা কারণে জেলবন্দী আছেন আরও অনেক নেতা। এমতাবস্থায় ভবিষ্যতেও জামায়াতকে জোটে সক্রিয় অবস্থায় পাওয়ার কোনো আশা নেই।

জামায়াতের মতো বড় দল না হলেও বিএনপির পুরনো মিত্র বলে পরিচিত ছিল আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। ২০ দলীয় জোট গঠন হওয়ার আগে চারদলীয় জোটেরও অংশ ছিল এই দলটি। কিন্তু সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের সময় ‘বিশ দলের রাজনীতি ঐক্যফ্রন্টমুখী হয়ে পড়েছে’ বলে জোট ত্যাগ করেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

আনুষ্ঠানিকভাবে জোট না ছাড়লেও জোটেরই কয়েকজন শরিককে নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করে জোটে নিষ্ক্রিয় আছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমেদ। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগের ওই সময়ে জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, তার সঙ্গী ছিলেন এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজাও।

সবমিলিয়ে বিশ দলীয় জোট যেন থেকেও নেই। উল্টোপাশে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট তুলনামূলক বেশ সক্রিয়। তবে বিশ দলীয় জোটের নেতৃত্বধীন বিএনপিসহ জোটের অন্যান্য নেতারা বরাবরের মতোই এই নিষ্ক্রিয়তার দায় সরকারের ঘাড়েই চাপাচ্ছেন। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে তাদের কোথাও দাঁড়াতে দিচ্ছে না।