ভাবমূর্তি ফেরানো মূল চ্যালেঞ্জ

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

যুবলীগের নেতৃত্বে আসছেন নতুনরা

ভাবমূর্তি ফেরানো মূল চ্যালেঞ্জ

হাসান ওয়ালী ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

print
ভাবমূর্তি ফেরানো মূল চ্যালেঞ্জ

শুদ্ধি অভিযানের ঝড়ের শেষে আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুবলীগের সপ্তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন (কংগ্রেস)। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাসিনোকা-সহ নানা অপরাধে কোণঠাসা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতারা। ফলে তুলনামূলক নীরবেই চলছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। কানাঘুষা চলছে, শীর্ষ দুই পদেই এবার নতুন মুখ আসছে। সেক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা আছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার পছন্দের তালিকায়। তবে রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, যুবলীগের বদনাম ঘুচিয়ে যুববান্ধব কর্মকাণ্ডে মনযোগী হওয়ার মাধ্যমে ভাবমূর্তি ফেরানো হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি হয় ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হন হারুন-অর-রশিদ। ২০১৬ সালের আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন করা হলেও যুবলীগের আর সম্মেলন হয়নি। সারা দেশের অবস্থা আরও নাজুক। দুই যুগ পার করা ইউনিটের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। এ বিশৃঙ্খলাকে কাজে লাগিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সম্রাট-খালেদরা। নেতারা সুবিধাভোগী হওয়ায় এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেননি। শেষমেশ আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানে যুবলীগ নেতাদের দৌরাত্ম্য থেমেছে। সূত্র বলছে, যুবলীগের ‘মনস্টার’দের ইন্ধনদাতা ছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। সম্রাটদের গ্রেফতারের পর তিনিও কোণঠাসা এখন। সর্বশেষ ১০ অক্টোবর সম্মেলনকে সামনে রেখে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা মিটিং করেছেন প্রতাপশালী চেয়ারম্যান ছাড়াই। সেই মিটিংয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে চেয়ারম্যানের আশীর্বাদপুষ্ট বিতর্কিত দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে। 

টালমাটাল পরিস্থিতিতে সুবিধাভোগীদের পরিবর্তে নতুন কমিটিতে তুলনামূলক যুবক, ত্যাগী, ক্লিন-ইমেজধারীরা আসবেন নেতৃত্বে। সেক্ষেত্রে অনেকেই বলছেন, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার মতো সেলিব্রেটিরা আসতে পারেন শীর্ষ নেতৃত্বে। তবে যুবলীগের রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সেলিব্রেটি নয়, রাজপথের যোগ্যদের হাতেই উঠবে যুবলীগের ঝাণ্ডা। সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আছেন বতর্মান কমিটির ১ নং সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন ও এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, বর্তমানে প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

অন্যদিকে সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক সুব্রত পাল, মহিউদ্দিন মহি, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, অর্থ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হালদার, প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, উপশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক কাজী মাজহারুল ইসলাম, কার্যানির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার আলী আসিফ খান আছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায়। এর বাইরে ছাত্রলীগের বিগত কয়েক কমিটির শীর্ষ নেতারা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

এ দিকে যুবলীগের সম্মেলনের বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিতে আগামীকাল গণভবনে সংগঠনটির নেতাদের ডেকেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বয়স ও অপকর্মকারীদের প্রশ্রয় দেওয়াসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত যুবলীগ চেয়ারম্যানকে ওই বৈঠকে ডাকেননি তিনি। ওই বৈঠকে যুবলীগের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫০ নির্ধারণ করা হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ খোলা কাগজকে বলেন, ‘যুবলীগের শীর্ষ দুই পদ চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসতে পারে।’ সেক্ষেত্রে নেতৃত্বে কারা আসবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। সেক্ষেত্রে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা মূল নেতৃত্বে আসতে পারেন। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন যারা যুবলীগে আছেন তারা যে কেউ সংগঠন চালানোর যোগ্যতা রাখেন।

স্বাধীনতার পরের বছর ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি। যুবলীগকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বিবেচনা করা হয়। ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যুবলীগের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক নূর হোসেন ছিলেন যুবলীগ কর্মী। কিন্তু আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় হাইব্রিডদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে সংগঠনটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্মেলনের মাধ্যমে যুবলীগকে যুববান্ধব কর্মকাণ্ডে ফেরানোই মূল চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ সরকারের ইশতেহারের ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং গ্রামকে শহর করার রূপরেখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে যুবলীগ। ক্যাসিনোবাণিজ্য, চাঁদাবাজি বাদ দিয়ে কর্মঠ, প্রশিক্ষিত যুবসমাজ গড়তে যুবলীগ হতে পারে সত্যিকার অর্থেই কল্যাণকর প্রতিষ্ঠান। তাতে করে মূল দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও উপকৃত হবে দেশ।