ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি: মান্না

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬

ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক ১:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

print
ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি: মান্না

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তাতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। এই চুক্তির মাধ্যমে সরকার যে বড় রকমের অপরাধ করেছে সেটা ক্যাসিনো অভিযানের মাধ্যমে চেপে রাখা যাবে না।’ সোমবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সমসাময়িক ইস্যুতে দলটির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মান্না বলেন, সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিশেষ করে ২০১৪ সালে কোনো ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে যেকোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় কখনো দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেনি। এবারও সেটার ব্যতিক্রম হয়নি। একটা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা উভয়পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক হতে হবে। 

এবারকার ভারত সফরে বাংলাদেশের ন্যূনতম স্বার্থ রক্ষিত হয়নি জানিয়ে মান্না বলেন, কোন পক্ষ কতটা লাভবান হবে সেটা কিছুটা তারতম্য মেনে নেয়া যায়, কিন্তু এবার যেসব চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে সেগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে এতে বাংলাদেশের ন্যূনতম স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। সর্বপ্রথম আমরা দাবি করব এই চুক্তিগুলোর খুঁটিনাটি জনগণের জন্য প্রকাশ করা হোক। আমরা বিশ্বাস করি তাতে আমাদের সামনে আরও অনেক ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, সরকার এর মধ্যেই এই সফরে সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে বরাবরের মতো। কিন্তু খুঁজলে দেখা যাবে হাতেগোনা যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে সেগুলো খুব তুচ্ছ।

মান্না বলেন, বছরের পর বছর তিস্তা চুক্তি ঝুলে আছে। উপকূলের সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে দুই দেশ। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের উপকূলে ২০টি রাডার স্টেশন স্থাপন করবে ভারত। আমাদের দেশের শক্তিশালী এবং সার্ভাইলেন্সসহ সকল দিক থেকে সক্ষম নৌ-বাহিনী থাকার পরও কেন ভারত সহায়তার রাডার স্টেশন স্থাপন করতে হবে সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আর স্থাপন করা হলে সেখানে মনিটরিংয়ে বাংলাদেশের কর্তৃত্ব কতক্ষণ থাকবে এবং এর দ্বারা আমরা কতখানি উপকৃত হব তা পরিষ্কার করার প্রয়োজন। ভারতে তরল গ্যাস রফতানি করা নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে অস্পষ্টতা আছে। এই গ্যাস আমদানিকৃত এলপিজি বা এলএনজি নাকি আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস তরলীকৃত করে রফতানি করা হবে সেটা স্পষ্ট না। বলাবাহুল্য ভয়ঙ্কর গ্যাস সংকটে থাকা বাংলাদেশ যদি তার প্রাকৃতিক গ্যাস তরল করে ভারতে রফতানি করে তাহলে সেটা ভয়ঙ্কর খারাপ খবর আমাদের জন্য।

মান্না আরও বলেন, ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়ার প্রশ্নে মানবিক কারণে কথা বলেছেন পররাষ্ট্র সচিব। সীমান্তে হত্যার মতো অমানবিক কাজ দিনের পর দিন চলছে। এবার সফরে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছিল- এই ব্যাপারেও খুব দৃঢ়ভাবে কথা বলা হবে। সীমান্তে হত্যা পুরোপুরি বন্ধ হবে এ রকম কোনো মানবিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ অপর পক্ষ থেকে আদায় করতে পারিনি, ন্যূনতম কূটনৈতিক আশ্বাসও ছিল অনুপস্থিত।


বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সবসময় উঁচু গলায় দাবি করা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্মরণকালের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থান করছে। সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা খুবই ভালো কথা। কিন্তু সেই সম্পর্ক শুধুমাত্র দেয়ার আমাদের পাওয়ার নয় তাই সেটা আমাদের দেশের জন্য বিপর্যয়কর। দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটি এখন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে যেসব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে তার প্রায় সবগুলোই শেষ পর্যন্ত একপাক্ষিকই থেকেছে।

মান্না বলেন, নিজের অবস্থান থেকে ভারত সঠিক কাজটাই করেছে, সে দরকষাকষির মাধ্যমে তার পক্ষে সর্বোচ্চ অর্জনটা করে নিচ্ছে। নিজ দেশের প্রতি মমত্ববোধ এবং দায়বদ্ধতা থাকলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উচিত পাল্টা দরকষাকষি করা এবং আমাদের স্বার্থে সবকিছু না হলেও অনেক কিছু অর্জন করে নিয়ে আসা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ঠিক এভাবেই নির্ধারিত হয়। এরমধ্যে চ্যারিটির কিছু নেই। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই হঠাৎ করে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এই দলটি ক্ষমতায় আছে এবং বাংলাদেশকে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বানিয়ে ফেলা হয়েছে এই সময়টাতেই। এই দেশে দুর্নীতি সবসময় ছিল কিন্তু এটা যে ব্যক্তি এবং তীব্রতার এই মুহূর্তে আছে সেটার সঙ্গে আর কোনো সময় কোনোভাবেই তুলনীয় নয়।

যাদেরকে ধরা হচ্ছে তারা আসলে চুনোপুঁটি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, মূল দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে যাদেরকে ধরা হচ্ছে তারা আসলে চুনোপুঁটি। এমনকি এই চুনোপুঁটিদের সরদারকে ধরতেও সরকারের অবিশ্বাস্য গড়িমসি আমরা দেখলাম। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতিকে গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষা করছে- এমন রিপোর্ট আমরা দেখছিলাম বেশ কয়েকদিন ধরেই। দেশের আইন এবং বিচারব্যবস্থা কতটুকু দেউলিয়া হলে কতটুকু সরকারি দলের আজ্ঞাবহ হলে সম্রাটকে ধরার জন্য সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষা করতে হয় সেটা বোঝাই যায়। অবশেষে গতকাল সম্রাট গ্রেফতার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গ্রেফতার এখন মজা করার বিষয়ে পরিণত হয়েছে; এ ঘটনায় দিয়ে আরেক ঘটনাকে ধামাচাপা দেবার এই অস্ত্র ব্যবহারে ভোঁতা হয়ে গেছে।