‘আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি অসম্ভব’

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

‘আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি অসম্ভব’

নিজস্ব প্রতিবেদক ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৯

print
‘আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি অসম্ভব’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে। জেলের তালা ভেঙেই তাঁকে মুক্ত করতে হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ জেলের তালা ভেঙেছে, বিএনপিকেও ভাঙতে হবে- এটাই রাজনীতি, এটাই এখন আমাদের লক্ষ্য।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, পা‌কিস্তা‌ন আমলে শেখ ম‌ুজিবকে বের করার জন্য যেমন স্লোগান দেওয়া হতো- জেলের তালা ভাঙব, শেখ ম‌ুজিবকে আনব। তেমনই একইভাবে এখন স্লোগান দিতে হবে, ‘জেলের তালা ভাঙ‌ব, খালেদা জিয়াকে আনব’। আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির আর কোনো পথ খোলা নাই।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে দুদু এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দুদু বলেন, খালেদা জিয়া যদি এখন জেলের বাইরে থাকতেন তাহলে তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেন, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতেন, ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেন, ঢাকা শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষ যে অসহায় জীবনযাপন করছে তাদের পাশে দাঁড়াতেন। কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ধানক্ষেতে আগুন দিয়েছে, তিনি তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন। ব্যাংকে ও শেয়ার মার্কেটে যে টাকা লুট হয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। কিন্তু তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে না পারেন, যাতে তিনি অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে না পারেন।

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক দুদু বলেন, সিনিয়র আইনজীবীরা বলেছেন, আইন-আদালত করে কোনো লাভ হবে না। যদি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করতে হয় তাহলে আন্দোলন করেই তাঁকে মুক্ত করতে হবে। জেলের তালা ভেঙেই বেগম জিয়াকে আনতে হবে। আওয়ামী লীগ জেলের তালা ভেঙেছে, বিএনপিকেও ভাঙতে হবে- এটাই রাজনীতি এটাই এখন আমাদের লক্ষ্য।

দুদু অভিযোগ করে বলেন, জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্যই খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে, তাঁর ছোট ছেলে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিদেশে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানকে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে এবং দেশে আসতেও দেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তাঁর পরিবার বারবার নির্যাতিত গরিব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। এজন্যই জিয়া পরিবারের প্রতি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এত রাগ, এত বিদ্বেষ।

দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ ও শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, কৃষকদলের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, মৎস্যজীবী দলের নেতা ইসমাঈল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।