মশা নিধনের নামে ক্যামেরা শুটিং: রিজভী

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬

মশা নিধনের নামে ক্যামেরা শুটিং: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক ২:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৯

print
মশা নিধনের নামে ক্যামেরা শুটিং: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মশা নিধনে যদি সত্যিকারের কার্যকরী ওষুধ আনা হতো তা হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেত না। মানুষ বাঁচাতে সরকারের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। তারা যেটি করছেন সেটি হলো লোক দেখানো মশা নিধনের নামে ক্যামেরা শুটিং।’

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশ উন্নত হচ্ছে বলেই ডেঙ্গু হচ্ছে, যে দেশ যতবেশি উন্নত হচ্ছে সে দেশে ততবেশি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু এলিট শ্রেণির মশা।’ তিনি আরও বলেছেন- ‘সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও কোলকাতায় ডেঙ্গু দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ যেহেতু এখন উন্নত হচ্ছে, তাই এখানেও ডেঙ্গু হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কোনো সক্ষমতা নেই এ সরকারের। তারা সকালে এক কথা বিকেলে আরেক কথা বলছেন। উন্নয়নের নামে পকেট ভারী করার জন্যই আজকে ডেঙ্গুর মতো এ দুর্যোগ মোকাবেলায় অক্ষম সরকার।’

রিজভী আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী কোন ব্যুরো থেকে উল্লিখিত তথ্যসমূহ সংগ্রহ করেছেন তা জানালে দেশবাসীর উপকার হতো। দেশ উন্নত হলে যদি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তা হলে লন্ডন, নিউইয়র্ক, প্যারিস, কোপেনহেগেন ইত্যাদি উন্নত দেশের শহরগুলোতে ডেঙ্গুতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাত।’

তিনি বলেন, ‘মশা নিধনের টাকা লুটেপুটে খেয়েছে মেয়ররা। সুতরাং আর্থিক উন্নতি হয়েছে মন্ত্রী-মেয়রদের, দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। ডেঙ্গু নিয়ে স্ববিরোধী, বিপরীতধর্মী কথাবার্তা, রাতের কথার সঙ্গে সকালের কথার গরমিল।’

রিজভী বলেন, যেদিন রিপোর্ট দেয়ার কথা বলা হয়, সেদিন ডেঙ্গু রোগীরা রিপোর্ট পান না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্ট নিয়ে প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পরিবারগুলোকে। আবার হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অসংখ্য শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ। হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝেতে কাতরাচ্ছে শিশুরা।