নেতৃত্বহীন ছাত্রদলের কাউন্সিল সেপ্টেম্বরে

ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নেতৃত্বহীন ছাত্রদলের কাউন্সিল সেপ্টেম্বরে

হাসান ওয়ালী ১০:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০১৯

print
নেতৃত্বহীন ছাত্রদলের কাউন্সিল সেপ্টেম্বরে

দুই মাস নেতৃত্বহীন বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। গত ১৫ জুলাই কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে কাউন্সিল অনুষ্ঠানে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সার্চ কমিটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বয়সসীমায় বাদ পড়া নেতাদের আপত্তিতে এ উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। তবে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সীমা বলে খোলা কাগজকে জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল।

তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ‘ঈদ শেষে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ছাত্রদলের কাউন্সিল হবে। আমাদের প্রস্তুতি শেষ। ভোটার তালিকা প্রণয়ন করেছি। এখন কাউন্সিল দিলেই হবে।’ ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০১৪ সালের অক্টোবরে। রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসানের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর নতুন কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাবেক নেতাদের নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করে দলটি। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ১৫ জুলাই কাউন্সিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সে কাউন্সিলের পথে হাঁটেনি সার্চ কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী একটি অংশের দাবি, ‘২০০০ সালের পরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে’ মর্মে শর্তারোপ করায় বাদ পড়া নেতাদের বাধার মুখে কাউন্সিল অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয়েছে সার্চ কমিটি। বাদ পড়া নেতাদের দাবি ছিল নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে আপদকালীন আহ্বায়ক কমিটি করে বঞ্চিতদের পদায়ন। এ দাবি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করে তারা। তবে শেষ অবধি সে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ায় বিক্ষোভে নামা নেতাদের বহিষ্কারাদেশও এখনো উঠেনি।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের নেতা নির্বাচনে গঠিত সার্চ কমিটির সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, ‘প্রেসার না। তাদের একটা দাবি ছিল, তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। আমাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে।’

ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে শীর্ষ দুই নেতা হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা নেতারা। এর মধ্যে সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আল মেহেদি তালুকদার, একই ইউনিটের প্রথম সহ-সভাপতি তানভীর রেজা রুবেল, সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুল টিটো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ফকির আশরাফ লিংকন ও কেন্দ্রীয় সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, তানজিল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জ্যেষ্ঠ সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মুতাছিম বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, শরীফ মাহমুদ জুয়েল এবং ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলে ভিপি পদে নির্বাচন করা মোস্তাফিজুর রহমান। এর বাইরেও বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা দেন-দরবার করছেন শীর্ষ মহলে।

ছাত্রদলের ১১৭ ইউনিটের ৫৮৫ জন প্রতিনিধি নির্ধারণ করবেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনটির তফসিল ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসেছিলেন শীর্ষ পদ-প্রত্যাশীরা। কাউন্সিল পেছানোয় প্রচারণায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে দৌড়ঝাঁপ থেমে নেই। নেতাকর্মীদের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-সবখানেই চলছে প্রচারণা।

পূর্বনির্ধারিত কাউন্সিল পেছানোর কারণে উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভাটা পড়ল কিনা এমন প্রশ্নে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. মুতাছিম বিল্লাহ খোলা কাগজকে বলেন, ‘বিভিন্ন পরিবেশ পরিস্থিতির আলোকে পার্টি কাউন্সিল পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভাটা পড়ার কারণ নেই। ক্যান্ডিডেট হিসেবে ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং কাউন্সিলরদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখছি, দলের মধ্যে উৎসবমুখর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আর দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার রেওয়াজ সূচনা করতে চেয়েছিলেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। তারই অংশ হিসেবে কাউন্সিলের ডেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। আশা করছি, দেরিতে হলেও কাউন্সিল হবে।’