পেছাচ্ছে ছাত্রদলের কাউন্সিল

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬

পেছাচ্ছে ছাত্রদলের কাউন্সিল

হাসান ওয়ালী ১০:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০১৯

print
পেছাচ্ছে ছাত্রদলের কাউন্সিল

বয়সসীমা নির্ধারণ করায় বাদ পড়া নেতাদের দাবির মুখে ছাত্রদলের আসন্ন কাউন্সিল পেছাচ্ছে। নির্ধারিত ১৫ জুলাই থেকে পিছিয়ে চলতি মাসের শেষ নাগাদ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য বঞ্চিত নেতাদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হতে পারে। ছাত্রদলের একটি অংশ খোলা কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু খোলা কাগজকে বলেন, অল্প কিছুদিনের জন্য কাউন্সিল পেছাতে পারে। এ বিষয়ে এক-দুদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সিনিয়রদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনই কোনো মন্তব্য করব না।

নতুন কমিটিতে নেতা নির্বাচনে ‘২০০০ সালের পরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে’ মর্মে শর্তারোপ করায় অপেক্ষাকৃত তরুণরা চলে এসেছেন লাইমলাইটে। এ শর্তে বাদ পড়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ অধিকাংশ সদস্য। এ নিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। তবে এ বিক্ষোভ পাত্তা না দিয়ে উল্টো ১২ নেতাকে বহিষ্কার করে বিএনপি। তবে বিএনপির আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে বঞ্চিতরা। এরপর কয়েক দফা দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে নিজেদের পক্ষে দেনদরবার করে নেতারা। বঞ্চিত অংশের দাবির মুখেই কাউন্সিল পেছানো হচ্ছে বলে গুঞ্জন বাতাসে ভাসছে। সেক্ষেত্রে ১৫ দিন পিছিয়ে মাসের শেষ সময়ে কাউন্সিলের সময় নির্ধারিত হতে পারে। বাকি এ সময়ের জন্য আহ্বায়ক কমিটি করে বঞ্চিতদের পদায়ন করার চিন্তাভাবনাও চলছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সার্চ কমিটির নেতারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কাউন্সিল পেছানোর বিষয়ে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোখতার হোসেন বলেন, সিনিয়র-জুনিয়রের ক্রাইটেরিয়া নিয়ে যে অচলাবস্থা শুরু হয়েছে, তা এখনো শেষ হয়নি। যার কারণে আমরা মনে করছি, এ অবস্থার উত্তরণ হওয়ার পরে কাউন্সিল হলে ভালো হয়।

কতদিন পেছানোর দাবি আপনাদের-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সে সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা চাচ্ছি, অন্তর্র্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হোক, আমাদের মূল্যায়ন করা হোক। কাউন্সিল আমরা করে দিয়ে যাব। নতুন কমিটির পদ প্রত্যাশী নেতারা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও কাউন্সিল পেছানোর বিপক্ষে অবস্থান করছেন। তবে দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে শীর্ষ দুই নেতা হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা নেতারা। এর মধ্যে সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আল মেহেদি তালুকদার, একই ইউনিটের প্রথম সহ-সভাপতি তানভীর রেজা রুবেল, সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুল টিটো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ফকির আশরাফ লিংকন ও কেন্দ্রীয় সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাসান, শাহ নেওয়াজ, ইকবাল হোসেন শ্যামল, শরীফ মাহমুদ জুয়েল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জ্যেষ্ঠ সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মুতাছিম বিল্লাহ। এর বাইরেও বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা দেনদরবার করছেন শীর্ষ মহলে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট উপগ্রুপে ভাগ হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন পদপ্রত্যাশীরা।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০১৪ সালের অক্টোবরে। রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসানের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চলতি বছরের মার্চে সাবেক ছাত্রনেতাদের দিয়ে একটি সার্চ কমিটি করে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব পেয়ে সার্চ কমিটির নেতারা নিজেদের মধ্যে এবং তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেও কোনো সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি।