বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থন

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থন

ইউপিতে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

print
বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থন

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতালে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। গত শুক্রবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাম দল যারা আছে, তারা ৭ জুলাই হরতাল আহ্বান করেছে। আমরা এ হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছি। মানুষ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সে কারণে এটা যৌক্তিক হরতাল বলে আমরা মনে করি। এ হরতালে আমরা নীতিগত সমর্থন জানাচ্ছি।

উচ্চ দামে আমদানি করা এলপিজিতে ভর্তুকির ভার লাঘবের জন্য সমাজের বিভিন্ন অংশের আপত্তির মধ্যেই সম্প্রতি সব পর্যায়ে গ্যাসের দাম গড়ে ৩২.৮ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। এর প্রতিবাদে আগামীকাল রোববার সারা দেশে আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে বামপন্থী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট। তাদের এ হরতালে ইতোমধ্যে সমর্থন জানিয়েছে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্থায়ী কমিটি মনে করে, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। শুধু দুর্নীতির যে ধাপগুলো আছে, বিশেষ করে গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংক্রান্ত- এসবকে অর্থায়ন করার জন্য মূলত গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে সমগ্র অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সেটা অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়বে, শিল্প উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১ জুলাই জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে বিএনপি। ফখরুল বলেন, জনগণের সর্বস্তর থেকে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ হয়েছে। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল কর্মসূচি দিয়েছে, নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু সরকার এটাকে মেনে নেয়নি অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেনি।

আর কোনো কর্মসূচি দেবে কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। বাম দলের কর্মসূচিতে সমর্থন দিলাম। এরপর আমরা চেষ্টা করব যদি অন্য কোনো কর্মসূচি দেওয়া যায়।

স্থানীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেবে বিএনপি : স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো বিএনপি। দলীয় প্রতীকে নয়; স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে দলীয় প্রার্থীরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল শুক্রবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা অংশ নেবেন। দলটি মনে করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক রাখা উচিত নয়।

ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যে হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচন হচ্ছে, এখনো পুরো ইউপি নির্বাচনের শিডিউল আসেনি। এর মধ্যে বিভিন্নভাবে আমাদের নেতাকর্মীরা জানতে চাচ্ছেন, এখানে আমাদের অবস্থান কী হবে?

সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, এর আগে যখন পার্টির প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করার প্রশ্ন এসেছিল, তখনই আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, পার্টির প্রতীক দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করাটা বাংলাদেশের জন্য উপযোগী হবে না এবং এটা বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করবে রাজনীতির ক্ষেত্রে। আমরা এখনো মনে করি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতীক ব্যবস্থা তুলে নেওয়া উচিত। প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয়দের প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে-বিএনপির যেসব নেতাকর্মী বা যারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন, তারা যদি কেউ অংশ নিতে চান, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু প্রতীক সেক্ষেত্রে আমরা বরাদ্দ করব না।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এ বৈঠক হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ওই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া শতাধিক নেতাকে বহিষ্কারও করে দলটি।