ছাত্রদলে উভয় সংকট

ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬

ছাত্রদলে উভয় সংকট

হাসান ওয়ালী ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৯

print
ছাত্রদলে উভয় সংকট

নতুন সংকটে পড়েছে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত এবং নতুন কমিটিতে বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ চরমে উঠেছে। বয়সসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে অপেক্ষাকৃত তরুণরা স্বাগত জানালেও বাধ সেধেছে ২০০০ সালের আগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নেতারা। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে নামেন তারা। ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত এ পরিস্থিতিকে ‘উভয় সংকট’ বলছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি ঘোষণা করা হয় ২০১৪ সালের অক্টোবরে। রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসানের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চলতি বছরের মার্চে সাবেক ছাত্রনেতাদের দিয়ে একটি সার্চ কমিটি করে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব পেয়ে সার্চ কমিটির নেতারা নিজেদের মধ্যে এবং তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেও কোনো সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর নতুন কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাবেক নেতাদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, বাছাই কমিটি ও আপিল কমিটি গঠন করে দলটি। কমিটিগুলোকে ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠনের কথা বলা হয়।

নতুন কমিটিতে নেতা নির্বাচনে তিন শর্ত দেওয়া হয়। ১. প্রার্থীদের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে; ২. অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে হবে; ৩. ২০০০ সালের পরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়সসীমা নির্ধারণ করায় ক্ষুব্ধ হন নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী গত কমিটির নেতারা। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার নয়াপল্টন দলের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে নামেন তারা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে অবরুদ্ধ করে রাখে দিনভর। রিজভীর অনুসারী নেতাদের মারধরও করে বিক্ষুব্ধরা।

আন্দোলন নিয়ে বিক্ষুব্ধরা বলছেন, হামলা-মামলার মধ্যেও যারা দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তাদের বঞ্চিত করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখনই বয়সসীমা নির্ধারণ না করে ধারাবাহিকভাবে তরুণদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার পক্ষে তারা। যুক্তি হিসেবে তারা বলছেন, বয়সসীমার কারণে বিলুপ্ত কমিটির কয়েক শতাধিক নেতা নতুন কমিটিতে থাকতে পারছেন না। দলের দুঃসময়ে অবদান রাখা নেতাদের মূল্যায়ন করার জন্য চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য একটি কমিটি এবং আগামী বছরের জন্য আরেকটি কমিটি করা। এ দুই কমিটিতে সিনিয়রদের (জ্যেষ্ঠ নেতাদের) পদায়ন শেষে ২০২১ সালের কমিটিতে পুরোপুরিভাবে রানিং শিক্ষার্থীদের হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিলে দলের দুঃসময়ে অবদান রাখা নেতারা বঞ্চিত হবেন না।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় সদ্যবিলুপ্ত হওয়া কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোখতার হোসেনের সঙ্গে। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে মিটিংয়ে তিনি আমাদের দাবি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে ভুল বুঝিয়ে বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ২০০০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের যদি ৩৫ বছর বয়স হয় তাহলে ৩৭ বছরের একজন নেতৃত্বে আসলে অসুবিধা কী? যেহেতু কমিটিতে নেতৃত্বের জট তৈরি হয়েছে, আমরা বলেছিলাম চলতি বছর এবং আগামী বছরে দুইটা কমিটি করে যোগ্যদের স্থান দেওয়ার জন্য। এই দুই কমিটির মাধ্যমে তরুণরাও যোগ্য হয়ে উঠত। ২০২১ সালে বয়সসীমা দিয়ে কমিটি করলে যোগ্য তরুণরা ছাত্রদলের হাল ধরত।

তবে বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় খুশি অপেক্ষাকৃত তরুণরা। এতে করে ছাত্রদলে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে বলেও আশা করছেন তারা। একই সঙ্গে বয়সসীমা নির্ধারণ করায় সিনিয়র নেতাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করাকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ হিসেবে দেখছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি তানভীর রেজা রুবেল খোলা কাগজকে বলেন, ছাত্রলীগ বা অন্য সংগঠনগুলোতে বয়সসীমা আছে। এবার ছাত্রদলের কমিটিতেও হাইকমান্ড বয়সসীমা নির্ধারণ করেছেন। সংগঠনের জন্য মঙ্গলজনক মনে করেছেন বলেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত না মেনে দলীয় কার্যালয়ে যা করা হলো, তা তো দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ। সংগঠন করতে গেলে সিদ্ধান্ত তো মানতে হবে।

বয়সসীমা বাতিলের দাবিতে ছাত্রদলের আন্দোলন সামলানো ও নতুন কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপি উভয় সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকায় এ পরিস্থিতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা উভয় সংকটে। ছাত্ররা দীর্ঘদিন জেল খাটলো, মামলা এবং পুলিশি হয়রানির শিকার হলো। তাদের অবদানের বিনিময়ে কী পাবে? কী মূল্যায়ন হবে? দোষটা কার? দোষ কারও নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না।’