ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ | ৬ আষাঢ় ১৪২৫
ইউনাইটেডে বিএনপি বঙ্গবন্ধুতে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
Published : 2018-06-11 22:31:00
ইউনাইটেডে বিএনপি বঙ্গবন্ধুতে সরকার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা খুবই উদ্বিগ্ন। তারা খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান। আর কারা কর্তৃপক্ষ বলছে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে

(বিএসএমএমইউ) নেওয়া হবে। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন গতকাল সোমবার কারা অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তিনি বলেন, খালেদা জিয়া রাজি থাকলে কাল (আজ মঙ্গলবার) তাকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হবে। গত শনিবার খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চার চিকিৎসক কারাগারে তাকে দেখে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা বলেন, তারা ধারণা করছেন, খালেদা জিয়া মাইল্ড স্ট্রোক করেছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, ৫ জুন খালেদা জিয়া কারাগারে হঠাৎ পড়ে যান। তারা অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সুপারিশ করেন।
এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রোববারই বিএসএমএমইউতে নেওয়া হবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে।
কিন্তু পরে আর নেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল পরে সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবে।
সৈয়দ ইফতেখার বলেন, আমরা উনাকে (খালেদা জিয়া) আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) সকালে বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাব। বিএসএমএমইউ তৈরি রাখতে বলেছি। তবে উনি যদি রাজি থাকেন। উনার রাজি হওয়ার একটা বিষয় আছে। বিএসএমএমইউতে খালেদার চিকিৎসার ‘যথাযথ’ ব্যবস্থা নেই বলে বিএনপি দাবি করলেও কারা বিধিতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক। কারা মহাপরিদর্শক বলেন, জেল কোড অনুযায়ী, সরকারি অর্থ খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই। তবে সরকার চাইলে বেসরকারি হাসপাতালে কারও চিকিৎসায় অনুমোদন দিতে পারে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় কে বহন করবে, কীভাবে করবে, তার ফয়সালা করতে হবে বলে তিনি জানান।
বিএসএমএমইউ নিয়ে বিএনপির আপত্তির প্রেক্ষাপটে সৈয়দ ইফতেখার বলেন, বিএসএমএমইউ চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান। যদি সেখানে তার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকে, তাহলে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার প্রশ্ন আসে।
খালেদার ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ হওয়ার যে ধারণা খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দিয়েছিলেন, দৃশ্যত তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন কারা মহাপরিদর্শক।
তিনি বলেন, উনি পুরোপুরি অজ্ঞান হননি। কিছুটা ইমব্যালেন্সড হয়েছিলেন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাও করা হয়েছে। এ কারাগারেই রয়েছেন খালেদা জিয়া।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটিতে খালেদা জিয়া আপিল করে জামিন পেলেও অন্য মামলায় জামিন না হওয়ায় ঈদ তাকে কারাগারেই করতে হচ্ছে।
কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার জানান, ঈদের দিন বিশেষ খাবার পাবেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া তার স্বজনরা দেখা এবং বাড়ি থেকে খাবার নিয়েও আসতে পারবেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা বলেছেন, তিনি (খালেদা) সাত মিনিট অজ্ঞান ছিলেন। একথা সঠিক হয়ে থাকলে তার নিশ্চয়ই টিআইএ হয়েছিল। অর্থাৎ তার সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গিয়েছিল। এ ধরনের রোগীর ভবিষ্যতে ব্রেন স্ট্রোক বা প্যারালাইসিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সেহেতু ভালো চিকিৎসার জন্য নিউরোলজিক্যাল সেন্টারে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, দেশনেত্রীর জীবন বিপন্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে মেতেছে সরকার। বেগম জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে বিধ্বস্ত। তাকে একটি কক্ষের মধ্যে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সরকার তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি চিকিৎসাবঞ্চিত, তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত, বেঁচে থাকার অধিকার অপহৃত। তিনি বলেন, দেশনেত্রী গত ৫ জুন ‘ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক’ (টিআইএ)-এ ৫/৬ মিনিট অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। অথচ দুদিন পর বেগম জিয়ার নিকটাত্মীয়রা তার সঙ্গে দেখা করে আসার পর ঘটনা আমাদের অবহিত করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কারা কর্তৃপক্ষ নীরব-নিশ্চুপ থেকেছে। রিজভী বলেন, আমরা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানে না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন। তাহলে কি দেশনেত্রীর জীবন ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতেই কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে? তাহলে বুঝা যায় খালেদা জিয়াকে যে বন্দি করে রাখা হয়েছে তা আইনি প্রক্রিয়ায় নয় বরং প্রতিহিংসার প্রক্রিয়া। তাকে তিলে তিলে ধ্বংস করার জন্যই এই প্রতিহিংসার প্রক্রিয়া। তারা ইউনাইটেড হাসপাতালেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করাতে চান।
রিজভী বলেন, চিকিৎসকরা বেগম জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেছিলেন। দেশনেত্রীর জ্ঞান হারানোর মতো এত বড় একটি দুঃসংবাদের পরেও কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, বরং দিনের পর দিন সময়ক্ষেপণ করে দেশনেত্রীর অসুস্থতাকে আশঙ্কাজনক মাত্রায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে।
বিএনপি মুখপাত্র আরও বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এসে বলেছিলেন- তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না দিয়ে তার শারীরিক পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর খারাপের দিকে যেতে পারে।
রিজভী বলেন, তারপরও সরকারের জবরদস্তিমূলকভাবে বেগম জিয়াকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা দুরভিসন্ধিমূলক, সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিরাপদ মনে করেন না বলেই তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান গতকাল খোলা কাগজকে বলেন, খালেদা জিয়াকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করানো দরকার। কেননা তার অবস্থা এখন খুব একটা ভালো না। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে তাকে (খালেদা জিয়া) পিজি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে। কিন্তু খালেদা জিয়ার সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার আগ্রহ বা ইচ্ছা কম। তার ইচ্ছা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া। বিএনপি কেন বারবার ইউনাইটেডের কথা বলছে, ভালো আরও তো অনেক হাসপাতাল আছে এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব বলেন, হয়তো এমনটা হতে পারে খালেদা জিয়ার ইউনাইটেডের ওপর আস্থা আছে। তাছাড়া সেখানে তিনি একাধিকবার চিকিৎসা নিয়েছেন সে কারণেই বিএনপি ইউনাইটেডের কথা বলছে। সেখানে তিনি একাধিকবার চিকিৎসা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। পুরাতন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়াকে প্রথমে জেল সুপারের পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মহিলা ওয়ার্ডে। বন্দিজীবনে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার দাবি করার পর গত এপ্রিলের শুরুতে তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বিএসএমএমইউতে আনা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে ওইদিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়। এরপর এপ্রিল ও মে মাসে একাধিকবার বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কারাগারে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দলটি তাকে ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে বা বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানায়। এর মধ্যেই গত ৫ জুন খালেদা জিয়ার কারাগারে ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ করার খবর আসে।

জিয়া অরফানেজ মামলা : খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে। গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় (নিম্ন) বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত ১৬ মে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিল খারিজ করে বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ।
রায়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। ওইদিন আপিল বিভাগ শুধুই আদেশের অংশ ঘোষণা করেন। এ অবস্থায় ২৫ দিন পর পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি গতকাল প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়। একইসঙ্গে, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে দণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করেন।
১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিন স্থগিত চেয়ে পরদিন ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।
পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এ দুই আবেদনের শুনানির জন্য ১৪ মার্চ দিন ধার্য করেন। এরপর ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে) দায়ের করতে বলে চার মাসের জামিন ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন। এ আদেশ অনুসারে পরের দিন ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক লিভ টু আপিল দায়ের করে।
এ লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হয় ১৮ মার্চ। শুনানি শেষে আবেদনের ওপর আদেশের জন্য ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। পরে ১৯ মার্চ আদালত লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেন। তারপর আপিল শুনানি শেষে ১৬ মে রায় দেন আপিল বিভাগ।




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক
মো. আহসান হাবীব
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
ড. কাজল রশীদ শাহীন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত খোলাকাগজ ২০১৬
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: বসতি হরাইজন ১৮/বি, হাউজ-২১, রোড-১৭, বনানী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : +৮৮-০২-৯৮২২০২১, ৯৮২২০২৯, ৯৮২২০৩২, ৯৮২২০৩৬, ৯৮২২০৩৭, ফ্যাক্স: ৯৮২১১৯৩, ই-মেইল : editorkholakagoj@gmail.com    kholakagojnews@gmail.com
Developed & Maintenance by Poriborton IT Team. Email : rafiur@poriborton.com
var _Hasync= _Hasync|| []; _Hasync.push(['Histats.start', '1,3452539,4,6,200,40,00010101']); _Hasync.push(['Histats.fasi', '1']); _Hasync.push(['Histats.track_hits', '']); (function() { var hs = document.createElement('script'); hs.type = 'text/javascript'; hs.async = true; hs.src = ('//s10.histats.com/js15_as.js'); (document.getElementsByTagName('head')[0] || document.getElementsByTagName('body')[0]).appendChild(hs); })();