অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ | ৬ চৈত্র ১৪২৫

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছাত্রলীগ

অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা

হাসান ওয়ালী ১১:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৯

print
অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা

সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে চলতি মাসের মধ্যে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে নবনির্বাচিত ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর, প্রগতিশীল ছাত্রঐক্য, স্বতন্ত্র জোট, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করা অধিকাংশ প্যানেল। গত দুই দিন ধরে ক্যাম্পাসে চলছে নানামুখী বিক্ষোভ। বিক্ষুব্ধ এ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। এ অবস্থাকে প্রশাসনের সঙ্গে অন্যান্য সংগঠনের সমস্যা বলেই বিবেচনা করছে তারা। তবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি হলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছে সংগঠনটি। ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল সূত্র খোলা কাগজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১১ মার্চ ভোটগ্রহণের সময় শেষ হওয়ার ঘণ্টা দেড়েক আগেই ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সব প্যানেলের নির্বাচন বয়কট করার মধ্য দিয়ে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত। নির্বাচন বয়কটের মধ্যেও ভিপি নির্বাচিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। কেন্দ্রীয় প্যানেলে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নুরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের আখতার হোসেন বিজয়ী হলেও বাকি পদগুলো যায় ছাত্রলীগের দখলে। ভিপি নির্বাচিত হয়ে নানা নাটকীয়তা শেষে ‘সুষ্ঠু ভোট হলে ছাত্রলীগ একটি প্যানেলেও বিজয়ী হবে না’ বলে চ্যালেঞ্জ দিয়ে চলতি মাসেই সব পদে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুর। অন্যদিকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাম জোটের নেতা লিটন নন্দী আগামী শনিবারের মধ্যে নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। একই দাবিতে ক্যাম্পাসে উপস্থিতির জানান দিয়েছে ছাত্রদলও।

ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য হারানোর আশঙ্কা করছেন সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতারা। তাদের দাবি, ডাকসু নির্বাচনকে পুঁজি করে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় আন্দোলনে থাকা সংগঠনগুলো।
পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আন্দোলন তীব্র হলে তাতে বাধা দেওয়ার পক্ষে তারা। তবে এখনই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চায় না ছাত্রলীগ। এ প্রসঙ্গে দলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস খোলা কাগজকে বলেন, ‘সংগঠনগুলোর আন্দোলন তো প্রশাসনের বিরুদ্ধে, তারা আন্দোলন করুক; আমরা বাধা দেব না। কিন্তু এ সুযোগে কোনো প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর মদদে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়, তাহলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বসে থাকবে না। আমরা তাদের প্রতিহত করব।’

আন্দোলনকারীদের পুনর্নির্বাচনের দাবির বিষয়ে ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক পদে বিজয়ী সাদ বিন কাদের খোলা কাগজকে বলেন, ‘কুয়েত মৈত্রী হল বা রোকেয়া হল, যেখানেই অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তো ভোট বন্ধ করে সমস্যার সমাধান করে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচিত ভিপি-তো ফল মেনে নিয়েছেন। তাহলে আন্দোলনের যৌক্তিকতা কীভাবে থাকল?’

নুরুল হক নুর চলতি মাসের মধ্যেই পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন জানালে তিনি বলেন, ‘উনি তো একদিনে চার রকম কথা বললেন, আমরা কোনটা মানব।’

অন্যদিকে ডাকসুর ২৫ পদের ২৩ পদে ছাত্রলীগের বিজয় হলেও ভিপি পদে দলীয় প্রধানের পরাজিত হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ছাত্রলীগের একটি অংশ মনে করছে, ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ‘বলি’ হয়ে পরাজিত হতে হয়েছে দলের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে। ওই অংশের নেতাকর্মীদের দাবি, অল্প সংখ্যক রিজার্ভ ভোটের মাধ্যমে শোভনকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দলের একটি অংশ শোভনকে ভিপি পদে বিজয়ী দেখতে চায়নি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তারা। অন্য অংশের দাবি, কুয়েত মৈত্রী হল এবং রোকেয়া হলের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সহানুভূতি পেয়েছেন নুর।

২০১২ সালে করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ২৮ বছর ১০ মাস পর গত ১১ মার্চ (সোমবার) সেকেন্ড পার্লামেন্ট-খ্যাত ডাকসু নির্বাচনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।