আপিলে প্রথম দিন বৈধ ৮১ প্রার্থী

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

আপিলে প্রথম দিন বৈধ ৮১ প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:১৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

print
আপিলে প্রথম দিন বৈধ ৮১ প্রার্থী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা প্রথম ১৬০টি আপিল আবেদনের মধ্যে ৮১টিকে বৈধতা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে ২টি আবেদন। বাকি ৭৭টি আবেদন খারিজ করেছে ইসি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ শুনানি চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

ইসির অস্থায়ী এজলাসে প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ৫৪৩ জন। এগুলোর মধ্যে প্রথম দিন ১৬০টি আপিলের শুনানি হয়। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় দিনে ১৬১ থেকে ৩১০ এবং শেষদিন ৩১১ থেকে ৫৪৩ ক্রমিক পর্যন্ত আপিল আবেদনের শুনানি হবে।

গত ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ-অবৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। পরদিন ৩ ডিসেম্বর থেকে আপিল গ্রহণ শুরু করে ইসি। আপিল গ্রহণের শেষদিন ছিল গত বুধবার।

নির্বাচনে অংশ নিতে এবার ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭৮৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন। ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের হয়ে দুই হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ৪০২ জনের। স্বতন্ত্র হিসেবে দাখিল করা ৪৯৮ জনের মধ্যে ৩৮৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৪ জনে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২৬৪টি আসনে ২৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার বৈধ প্রার্থী ২৭৮ জন, ৩ জনের আবেদন বাতিল হয়। বিএনপির ২৯৫টি আসনে ধানের শীষে ৬৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৫৫৫ জন, বাতিল হয়েছে ১৪১ জনের মনোনয়নপত্র। ২১০ আসনে জাতীয় পার্টির ২৩৩ জন প্রার্থীর দাখিল করা মনোনয়নপত্রের মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে বৈধতা পেয়েছেন ১৯৫ জন, বাতিল হয়েছে ৩৮ জনের মনোনয়নপত্র।

প্রথম ১০০ জনের মধ্যে ৫৬ জনের মনোনয়ন আপিলে বৈধতা পেয়েছে। বাকি ৪৪ জনের মধ্যে ৪০ জনের আপিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপি নেতা মীর নাছির মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তিনজন আপিল শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। প্রার্থিতা বাতিল করা হবে তাদেরও।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির নেতৃত্বে চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী আপিল শুনানি নেন। গতকাল সকাল ১০টায় শুরু হওয়া প্রথম দিনের এ আপিল শুনানির শুরুতেই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বহুল আলোচিত বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টন, ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপিপ্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মজিদ ও ঢাকা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক।

তারপর একে একে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন- জামালপুর-৪ আসনে ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, পটুয়াখালী-৩ আসনে মোহম্মদ শাহজাহান, পটুয়াখালী-১ আসনে মো. সুমন সন্যামত, মাদারীপুর-১ আসনে জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সিলেট-৩ আসনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জয়পুরহাট-১ আসনে ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ আসনে হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আসনে আবিদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে আয়নাল হক, গাজীপুর-২ আসনে মাহবুব আলম, গাজীপুর-২ আসনে জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জেসমিন নূর বেবী, রংপুর-৪ আসনে মোস্তফা সেলিম, খুলনা-৬ আসনে এস এম শফিকুল আলম, হবিগঞ্জ-১ আসনে জুবায়ের আহমেদ, ময়মনসিংহ-৭ আসনে জয়নাল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আবদুল্লাহ আল হেলাল, ঝিনাইদহ-৩ আসনে কামরুজ্জামান স্বাধীন, কুমিল্লা-৩ আসনে কে এম মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ আসনে মো. তোজাম্মেল হক, সিলেট-৫ আসনে ফয়জুল মুনীর চৌধুরী, ময়মনসিংহ-৩ আসনে আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে আব্দুল মান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে সৈয়দ আনোয়ার আহাম্মদ লিটন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মামুনুর রশিদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আবু আসিফ, ঢাকা-১৪ আসনে জাকির হোসেন ও ময়মনসিংহ-২ আসনে মো. আবু বকর সিদ্দিক।

অন্যদিকে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে মো. শামসুল হুদা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. তৈয়ব আলী, মাদারীপুর-৩ আসনে মো. আবদুল খালেক, দিনাজপুর-২ আসনে মোকারম হোসেন, দিনাজপুর-১ আসনে মো. পারভেজ হোসেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে এস এম খলিলুর রহমান, ফেনী-১ আসনে মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ড. মিজানুল হক, ময়মনসিংহ-৪ আসনে আবু সাইদ মহিউদ্দিন, নেত্রকোনা-১ আসনে মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-২ আসনে এমদাদুল হক, খুলনা-২ আসনে এস এম এরশাদুজ্জামান, নাটোর-১ আসনে বীরেন্দ্র নাথ সাহা, ঢাকা-১ আসনে আইয়ুব খান, বগুড়া-৩ আসনে আবদুল মুহিত, রাঙ্গামাটি আসনে অমর কুমার দে, বগুড়া-৪ আসনে আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম), হবিগঞ্জ-২ আসনে মো. জাকির হোসেন, ঢাকা-১৪ আসনে সাইফুদ্দিন আহমেদ, সাতক্ষীরা-১ আসনে এস এম মুজিবর রহমান, খাগড়াছড়ি আসনে আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ঝিনাইদহ-১ আসনে আবদুল ওয়াহাব, দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, পঞ্চগড়-১ আসনে মো. তৌহিদুল ইসলাম, বগুড়া-৬ আসনে এ কে এম মাহবুবুর রহমান, ফেনী-৩ আসনে হাসান আহমদ ও মৌলভীবাজার-২ আসনে মহিবুল কাদির চৌধুরীর। এদের আপিল গ্রহণ করা হয়নি, মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে চূড়ান্তভাবে।

কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রার্থিতা ফেরত পেলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ফেরত পাওয়া এখনো অনিশ্চিত। গতকাল শুনানি শেষে বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমাদের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়েছে কমিশন। এখন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর আমাদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি নির্ভর করছে।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দ-প্রাপ্ত গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারা অভ্যন্তরীণ রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার নামে ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ায় আইনগত বাধ্যবাধকতায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করে দেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ায় ইসিকে ধন্যবাদ জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি এটাও আশা করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে খালেদা জিয়াও নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হবেন, বিবেচিত হবেন।

উল্লেখ্য, ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল ও ২ ডিসেম্বর বাছাই এবং ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহার এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।