নীরব গুলশান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

তফসিলের পর দুই দলের কার্যালয়

নীরব গুলশান

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

print
নীরব গুলশান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। তফসিল ঘোষণার পরদিনই গতকাল শুক্রবার উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। অন্যদিকে বিএনপি কার্যালয়ে নেই কোনো নির্বাচনী তৎপরতা। গতকাল ছিল শুক্রবার। গুলশান ৮৬ নম্বর সড়কে ছিল প্রায় সুনসান নীরবতা।

ইরান দূতাবাসের কাছেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়। যেন রাজনীতির এক অচেনা কার্যালয়ের ঠিকানা। খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবি না থাকলে বোঝার উপায় নেই, এটি একটি দলীয়প্রধানের অফিস। অথচ এই কার্যালয়কে ঘিরেই রাজনীতির অন্যরকম এক ইতিহাস। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের পরিচিতি পেয়েছিল ‘মিডিয়াপাড়া’ হিসেবে।

এই অফিস থেকেই বিএনপিপ্রধান আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন দীর্ঘসময়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় বালুর ট্রাক দিয়ে তার কার্যালয় ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়। সময় পাল্টালে যা হয়। খালেদা জিয়া এখন ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। আদালত-কারাগার-হাতপাতালেই দিন কাটছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। খালেদাবিহীন গুলশান কার্যালয় যেন অনেকটাই নীরবতার চাদরে ঢাকা।

আর গতকাল বেলা ১১টায় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনে দলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় দলের অল্প কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো সিনিয়র নেতাকে দেখা যায়নি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গতকাল ৭ দফা দাবিতে রাজশাহীতে পূর্বঘোষিত সমাবেশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটের অন্যতম এবং একক বড় দল বিএনপিও জোটের সঙ্গে রয়েছে। যে কারণে দলটির সিনিয়র বেশিরভাগ নেতাই রাজশাহীতে জনসভায় যোগ দেন। সে কারণে বিএনপি কার্যালয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি। এ ছাড়া দলটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি।

সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের বেশ কয়েকটি গাড়ি বিএনপি কার্যালয়ের সামনে রাখা। দলটির কার্যালয়ের একটু পাশে একটি বেসরকারি হোটেলের সামনে দাঙ্গা পুলিশের একটি দল সতর্কাবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে থাকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্য বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন।

বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক সংকট সমাধান না হওয়ার আগেই আকস্মিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। তিনি বলেন, গত চার দিনে সারা দেশে বিএনপির প্রায় ২ হাজার ৩০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দলের অনেক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। কয়েক লাখ নেতাকর্মী ‘মিথ্যা’ মামলায় আদালতে হাজিরা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিয়ে দেশের সংকট সমাধান করুন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি মেনে নিন। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও প্রচারে সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করুন।

এরপর গণমাধ্যমকর্মীরা নয়াপল্টন কার্যালয় ত্যাগ করলে বিএনপি কার্যালয় আগের মতো সুনসান নীরবতা চলে আসে। কয়েকজন নেতাকর্মী দলের দপ্তরে বসে ছিলেন। তফসিল ঘোষণার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আলাপ-আলোচনা চলার মধ্যে আকস্মিকভাবে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় দেশের মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি এ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। নির্বাচনে যাওয়া, না যাওয়া ও অন্য বিষয় নিয়ে দল ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একতরফা নির্বাচন করার জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে আরও প্রতিক্রিয়া পরে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাইয়ের তারিখ ২২ নভেম্বর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর। ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর। নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যেই এ তফসিল ঘোষণা করা হয়।

তফসিল ঘোষণার পর গতকাল থেকেই মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিন বিএনপির গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় ও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছিল ভিন্ন চিত্র।