ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন: সরকারকে গয়েশ্বর

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মে ২০২২ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন: সরকারকে গয়েশ্বর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
🕐 ২:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২২

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন: সরকারকে গয়েশ্বর

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন। তাহলে জনগণ আপনাদের অবস্থা শ্রীলংকার মতো করবে না।

 

গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচকালীন সরকারের নাম নিয়ে কী যায় আসে? আগে ঐকমত্য হোন। তারপর নাম রাখা যাবে। কারণ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে পরেও নাম রাখা যায়।

তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য বাধা হলো শেখ হাসিনা ও তার সরকার। আমরা তার অধীনে নির্বাচনে যাবো না তবে যেনতেনভাবে আরেকটি নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। কারণ সেই সক্ষমতা তাদের নেই। জনতার শক্তির কাছে কোনো শক্তি টিকতে পারবে না। আসুন তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিন। আমরা বিশ্বাসযোগ্য আন্দোলন উপহার দিতে পারবো।

"গ্রহণযোগ্য নির্বাচন-সংকটের একমাত্র সমাধান" শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। কর্নেল অলি ও ড. রেদোয়ান নেতৃত্বাধীন এলডিপি থেকে পদত্যাগ করা ড. আবু জাফর সিদ্দিকী ও তমিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী অতিথিদের হাতে ফুল দিয়ে আব্বাসী ও সেলিম নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগদান করেন।

এলডিপির সভাপতি আব্দুল করিম আব্বাসীর সভাপতিত্বে ও এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আবুল বাশারেরর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, বিশদলীয় জোটের শরিক এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দলের এহসানুল হুদা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, এলডিপির নেতা ও সাবেক এমপি আব্দুল গণি, চাষী এনামুল হক, তাঁতী দলের কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা এখন ঐক্যের জন্য সংগ্রাম করছি। এরপর একটি লক্ষ্য আদায়ের জন্য হবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। ফলে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা আর বেশি দূরে নয়। যেকোনো সময় সেটা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। সেইসঙ্গে আগামী দিনের আন্দোলনের রুপরেখা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান তুলে ধরবেন। আমাদের প্রস্তুতি শেষ দিকে।

তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তি যখনই ঐক্য প্রতিষ্ঠা করবে তখনই ফ্যাসিস্ট ও লুটেরারা বিতাড়িত হবে। আজকে সরকার লুটপাট নিয়ে ব্যস্ত। সরকারের চারপাশে লুটেরা গোষ্ঠী রয়েছে। আজকে অর্থনীতি ধ্বংস।

গয়েশ্বর বলেন, শ্রীলংকা শতভাগ শিক্ষিত দেশ। একসময়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ আজকে ধ্বসে পড়লো। কারণ একটি সেখানকার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পরিবারের সদস্যরা লুটপাট করেছে। আমেরিকার পাচারের অর্থ জব্দ করেছে। সেখানকার চেয়েও খারাপ অবস্থা বাংলাদেশে। যার সততা মিলেছে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে। শেখ হাসিনাকে ঘিরে লুটের সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করেছে। তারা মুদ্রা পাচার করছে। সুতরাং বাংলাদেশে কী ঘটবে সেটা বলা যায় না। আমরা চাই না শ্রীলংকার পরিস্থিতি বাংলাদেশে আসুক। কিন্তু শেখ হাসিনা সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সাবধান হোন।

তিনি বলেন, আজকে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি পারেনা। দিনের ভোট রাতে কাটে। সুতরাং আমরা সব রাজনৈতিক দল যদি একসাথে বলি নির্বাচনে যাবো না তাহলে নির্বাচন কমিশন আর ইভিএম নিয়ে কথা হবেনা। আমরা অযথা সময় নষ্ট করছি কেনো? মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। আমাদের নেতা তো খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান। খালেদা জিয়া বন্দী কিন্তু তারেক রহমান তো নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ফ্যাসিবাদ থেকে বাংলাদেশ মুক্ত করতে চান।

গয়েশ্বর আরো বলেন, এই সরকার পদত্যাগ করলেই শুধু হবে না জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। তা না হলে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হবে। সংসদ বহাল রেখেই কিভাবে আরেকটি সংসদ নির্বাচন হয়?

তিনি বলেন, আজকে সরকার শুধু মাথাপিছু আয়ের কথা বলেন কিন্তু ঋণের কথা বলেনা। বিদেশ থেকে যত টারা ঋণ করেছেন তার সুদের টাকা যোগান দেয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। ফলে আগামী দুই বছর পর চালের কেজি হবে ৩০০ টাকা। শ্রমিক পাওয়া যায় না। কাজের বুয়া পাওয়া যায় না। আজকে ট্যাক্স ও ভ্যাট বাড়িয়ে বাজারমূল্য ঊর্ধ্বমুখী।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা তো আন্দোলনে আছি। আন্দোলনের গতি হয়তো পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়বে বা কমবে। এটাই আন্দোলনের কৌশল। তবে আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে প্রতিশোধ নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের পরিস্থিতি যা করেছে তাতে আমাদের লাগবেনা। শেখ হাসিনার লোকেরাই তাকে কাঁঠালের মতো ছিড়ে খাবে। কারণ আওয়ামী লীগের লুটপাটের ভাগ তাদের দলের একটি অংশ পায়নি।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আজকে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেমন কলম্বোতে ফয়সালা হচ্ছে রাজপথে তেমনই ঢাকার ফয়সালাও হবে রাজপথে। আওয়ামী লুটেরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে হবে।

ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।

আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট সমাধানে একটিই মাত্র পথ সেটা হলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। তার আগে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আমাদের ফয়সালা করতে হবে। এক্ষেত্রে বিএনপিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যেমন হচ্ছে শ্রীলঙ্কায়।

সভাপতির বক্তব্যে আবদুল করিম আব্বাসী বলেন, আজকে সময় এসেছে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে অবৈধ স্বৈরাচার আওয়ামী লুটেরা সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। সদ্য যোগদানকারী এলডিপি নেতাকর্মীদের স্বাগত ও ধন্যবাদজানান

 
Electronic Paper