বিপ্লবের সন্তান

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৯ কার্তিক ১৪২৫

বিপ্লবের সন্তান

রাশেদ রহমান ৩:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৮

print
বিপ্লবের সন্তান

‘চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়/আমার ঠোঁট শুকনো হয়ে আসে, বুকের ভেতরটা ফাঁকা...’ বাঙালি এক কবির কবিতার পঙ্ক্তি, হৃদয় নিগড়ানো ভালোবাসা, প্রাণ উজাড় করা শ্রদ্ধা। ‘চে গুয়েভারার প্রতি’ নামে এই কবিতার কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। চের মৃত্যুর পর রচিত শোকগাঁথা। নয়-নয়টি গুলি, একে একে বিঁধে ছিল তার বুকে। আর সেদিন এক নিখাঁদ বিপ্লবী পৃথিবীর আলো-বাতাস থেকে দূরে চলে গেল। যদিও শোষণের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ, তার সংগ্রাম আজও চলছে এবং চলবে। চের মৃত্যুতে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা সে সময় লিখেছিল, ‘একজন মানুষের সঙ্গে সঙ্গে একটি রূপকথাও চিরতরে বিশ্রামে চলে গেল।’

১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ায় নিরস্ত্র অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয় বন্দি চেকে। মৃত্যুর আগে হ্যান্ডকাপ পরিহিত হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চে সেদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবিতা আবৃত্তি করে গেলেন, ‘আমি জানি তোমরা আমাকে মারতে এসেছো। কাপুরুষরা গুলি করে। তোমরা একজন মানুষকে হত্যা করছো মাত্র, বিপ্লবের মৃত্যু নেই।’ সেদিন মৃত্যুর হাতে ধরা দিলেন বটে কিন্তু হয়ে গেলেন পৃথিবীর বিপ্লবের আইকন। লাখ লাখ বিপ্লবী তরুণের প্রেরণার উৎস।

১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন চে গেভারা। তার প্রকৃত নাম আর্নেস্তো গেভারা দেলা সের্না। সারা বিশ্বে তিনি চে গেভারা নামেই পরিচিত। তরুণ বয়েসে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়ার সময়ই চে দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন। সেখানে দেখতে পান মানুষে মানুষে কী বৈষম্য।

শোষণ-পীড়নের জাঁতাকলে মানুষ কত অসহায়। যা তাকে অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট অনুধাবন করার সুযোগ এনে দেয়। চে বুঝতে পারেন ধনী-গরিবের এই ব্যবধান ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য বিপ্লব ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

চে দীক্ষা নিয়েছিলেন মার্ক্সবাদে। গুয়াতেমালায় গিয়ে টিকে থাকার ব্যর্থ চেষ্টার পর চলে গেলেন মেক্সিকোয়, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। সেখানেও একই দৃশ্য। লাতিন আমেরিকাজুড়ে চলমান সিআইয়ের হিংস্র তাণ্ডবলীলা। সব খানেই শ্রেণি-বৈষম্য আর শ্রেণি-শোষণ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন। চে চান বিপ্লব। মুক্তি চান এই শোষণের নরক থেকে।

১৯৫৫ সালের জুলাইয়ে ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে দেখা হলো। কাস্ত্রো তখন কিউবার স্বৈরশাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে লড়ছেন। তার গেরিলা দলে যোগ দিলেন চে। ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর কিউবার উদ্দেশে যাত্রা করে কাস্ত্রোর গেরিলা দলের যুদ্ধজাহাজ গ্র্যানমা। ১৯৫৭ সালে কাস্ত্রোর গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার নির্বাচিত হলেন। ১৯৫৮ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে সান্তা ক্লারার যুদ্ধে তার সফল নেতৃত্ব যুদ্ধের নিয়তি নির্ধারণ করে দিল। কিউবার  স্বৈরশাসক বাতিস্তা সদলবলে পালালেন কিউবা ছেড়ে। বিপ্লব সফল হলো কিউবায়।

১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চে কিউবার শিল্পবিষয়কমন্ত্রী ছিলেন। এ সময় তিনি কিউবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। কিউবান নোটগুলোতে তার স্বাক্ষরে শুধু ‘চে’ লেখা থাকত। ১৯৬৫ সালে চে আবার বিপ্লবের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আফ্রিকায় নিষ্পেষিত মানুষের জন্য লড়াই করার জন্য অস্ত্র তুলে নেন হাতে।

 
.