সচেতনতা সৃষ্টিতে সজীবের করোনাবট

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

দুঃসময়ে মানুষের পাশে...

সচেতনতা সৃষ্টিতে সজীবের করোনাবট

জেলি আক্তার ১:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

print
সচেতনতা সৃষ্টিতে সজীবের করোনাবট

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী রাকিব হোসাইন সজীব উদ্ভাবন করেছেন করোনাবট। বটের লিঙ্ক : http://m.me/sciencebeepage
এই করোনাবট হচ্ছে একটি ম্যাসেঞ্জার চ্যাটবট যার মাধ্যমে করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ সচেতন হতে পারবে। লাইভ আপডেটের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে ডাটা প্রয়োজন হত, রাকিব হোসাইন সজীবের উদ্ভাবনে এই চ্যাটবট ফ্রিতেই কোনো প্রকার ডাটা চার্জ ছাড়াই বটের মাধ্যমে করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও লাইভ আপডেট জানাতে পারে।

রাকিব হোসাইন সজীবের কাছে চ্যাটবট উদ্ভাবন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, কোয়ারান্টিনে বাসায় বসে তেমন কিছু করার ছিল না। সিএসই স্টুডেন্ট হিসেবে টেকনোলজিকে ব্যবহার করে মানুষের কল্যাণে কিছু করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের অনলাইন ইউজারদের অধিকাংশ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন এবং বর্তমানে ফেসবুক সম্পূর্ণ ফ্রি হওয়ার কারণে এটিকে ব্যবহার করে মানুষকে সচেতন করার কথা ভাবি। তারপর, সায়েন্স বী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মবিন শিকদার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং উনার মাধ্যমে বটটিকে সায়েন্স বী-এর পেজে ইনস্টল করি। মূলত মবিন ভাইয়ার মাধ্যমেই এত দূর আসা। 

তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে জার্নিটা অনেক কঠিন ছিল। বট তৈরির জন্য আমার যথেষ্ট ইন্টারনেট স্পিড ছিল না। দিনের বেলায় প্রায় সময় ২০-৩০ কেবিপিএস নেট দিয়ে কাজ করেছি। রাত জেগেও প্রায় সময় কাজ চালিয়েছি। প্রায় ১২০ ঘণ্টার ওপরে ব্যয় হয়েছে এবং ২ বার প্লাটফর্ম পরিবর্তন করতে হয়েছে।

চ্যাটবট ফিচার্স সম্পর্কে তখন খুব বেশি একটা ধারণাও ছিল না। গুগল করে করে নতুন জিনিস শিখেছি এবং সেগুলো বটে ব্যবহার করেছি। তারপর শুরু হয় চ্যালেঞ্জিং বিষয়। অনেক বট আমার সামনে এল, যারা আমাদের বটের মতোই করোনা সম্পর্কে বেসিক তথ্য প্রদান করে। সেজন্য বটটিকে ব্যতিক্রম করার জন্য এতে লাইভ আপডেটের ব্যবস্থা করি।

বাংলাদেশের তথ্য ছাড়াও এটি বিশ্বের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ দেশের করোনা আপডেট প্রদান করতে পারে, সেইসঙ্গে জেলাভিত্তিক করোনা আপডেট ও ১০ মিনিট পরপর বিশ্বের সামগ্রিক আপডেট প্রকাশ করে। পুরো বিষয়টি অচও ব্যবহার করে অটোমেটিকভাবে হয়ে থাকে, তার জন্য ফজলে রাব্বি এবং মাহমুদুল হাসান নামে আমার দুজন বন্ধু এপিআই (অচও) ডেভেলপ করতে যথেষ্ট সহায়তা করেছেন।

আর প্রতিদিনের বাংলাদেশের আপডেটসমূহ স্বাস্থ্য অধিদফতরে প্রেস রিলিজের পরপরই মবিন ভাইয়া বট সার্ভারে আপডেট করে দেন, যার ফলে অতি দ্রুতই মানুষের কাছে করোনা আপডেট পৌঁছে যায়।

এছাড়াও করোনাবট-এর আর কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই চ্যাটবট সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও গুজব খ-ন, ইমারজেন্সি হটলাইনের নম্বর, সেল্ফ করোনা টেস্ট ও বিজ্ঞান সংবাদ পাওয়া যায়।

বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার মানুষ এবং প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারও তাদের করোনা ওয়েবসাইটে এটিকে রেজিস্টার্ড ভলান্টিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে, যা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের সংবাদ।

নেটওয়ার্ক সমস্যা ও কম্পিউটারের অভাববোধ রাকিব হোসাইন সজীবের ইচ্ছা শক্তিকে থামিয়ে দিতে পারেনি, নেটওয়ার্ক সমস্যা ও কম্পিউটারের অভাববোধ করা সত্ত্বেও দিন রাত পরিশ্রম করে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে একটি স্মার্টফোনে এই করোনাবট উদ্ভাবন করেন। সাধুবাদ জানাই তার চিন্তাধারাকে। পরবর্তী সময়ে আমরা আরও ভালো কিছু পাওয়ার আশা রাখি। এগিয়ে যাক রাকিব হোসাইন সজীবের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা।