মানুষের পাশে ‘আলোর পথযাত্রী’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৩ কার্তিক ১৪২৭

দুঃসময়ে মানুষের পাশে...

মানুষের পাশে ‘আলোর পথযাত্রী’

এস আর শানু খান ১:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

print
মানুষের পাশে ‘আলোর পথযাত্রী’

সৎ সাহসী ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ‘আলোর পথযাত্রী’। ২০১৭ সালে ৪২ জন সদস্য নিয়ে এলাকা থেকে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে আলোর পথে মানুষকে ডাকা ও আলোর পথ দেখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এ সংগঠন তৈরি করা হয়। যেখানে সবাই স্টুডেন্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জান্নাতুল ফেরদাউস ও আলাফাত হোসেন রোজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শওকত ইসলামসহ দেশের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এই সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। প্রাথমিকভাবে টিউশনি করিয়ে টাকা জমিয়ে সেই টাকা দিয়ে এলাকার স্কুল-কলেজে পড়ুয়া দরিদ্র ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়াত।

কখনও বই কিনে দিয়ে, কখনওবা স্কুল ড্রেস বানিয়ে দিয়ে। এরপর ঈদ পূজায় খুঁজে খুঁজে বের করে নিঃস্ব, সহায়-সম্বলহীনদের বাজার করে দেওয়া হত। এলাকা থেকে কোনও ছেলে এসএসসি কিংবা ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর কোথাও ভর্তি হতে সমস্যা হলে তখন তার পাশে এসে দাঁড়াত এই সংগঠন। যার বেশ কয়েকটি নজির রয়েছে। করোনাভাইরাসের এই দুর্দিনেও এই আলোর পথযাত্রী সংগঠন নিয়েছে নানান পদক্ষেপ। মফস্বলে যে পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়ন তো দূরের কথা ভাবতেও পারেন না অনেকে। দেশে যখন করোনার প্রভাব পড়ল তখন এই আলোর পথযাত্রী ছুটে এল মানুষের পাশে। এই শিক্ষিত সমাজ বুঝতে পেরেছিল তাদের এলাকার মানুষ কতটা অসচেতন। শিক্ষিত এই সমাজ লিফলেট হাতে নিয়ে বের হল এলাকায়।

হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট ডিঙ্গিয়ে মানুষকে নানাভাবে সচেতন করতে শুরু করল। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাবান, হ্যান্ডওয়াশ বিলি করতে শুরু করল চার-পাঁচটা গ্রামে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে দিল এ আলোর পথযাত্রীরা। ৩ শতাধিক পরিবারের মধ্যে সাবান বিতরণ করে এই সংগঠন। এরপর করোনা যখন ভয়াবহতায় রূপ নিতে শুরু করল তখন বিতরণ করল মাস্ক। এরপর মানুষ যখন ঘরবন্দি। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের যখন ঘরে থাকতে বলা হল। 

মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই এই নিম্নবিত্তের মানুষের জীবন হতে শুরু করল দুর্বিষহ। অনাহারে কাটতে লাগল অনেকেরই জীবন। যেটা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তখন আলোর পথযাত্রী আর বসে থাকতে পারল না। মানুষ হিসেবে নিজেদের দায়িত্ববোধকে পুঁজি করেই উদ্যোগ নিল অসহায় মানুষগুলোর ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার।

এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এর সঙ্গে যুক্ত হলেন এলাকার আরও কিছু সিনিয়র ব্যক্তি। যারা করপোরেট লাইফে ভালো ভালো পদে চাকরি করেন। তাদের সহযোগিতায় ও সংগঠনের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে শতাধিক পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি তেল, ১ কেজি আলু, ১ কেজি লবণের প্যাকেজ পৌঁছানো হয়।

আলোর পথযাত্রীর সভাপতি শওকত ইসলাম (জবি) বলেন, এই উপহার দিতে গিয়ে অনেক বাড়িতে আমরা দেখেছি অনেক করুণ অবস্থা। সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদাউস (ঢাবি) বলতে গিয়ে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ পরিবারেরই এমন পরিস্থিতি যে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। যেটা দেখে আমার মনে হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে নয় মানুষগুলো না খেয়েই মারা যেত। এমন আরও পরিবার রয়েছে যাদের পাশে আমরা যেতে পারিনি।’

এই রকম সংগঠনগুলো দেখলে মনে হয়Ñ মানুষ মানুষের জন্য, সেবাই পরম ধর্ম, ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। উক্তিগুলো সত্যিই যথার্থ। ভালো থাকুন আলোর পথযাত্রীর সকল যাত্রী। এরকম আলোর পথযাত্রীরা নিজেদের জীবনের পরোয়া না করে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন তাদের জানাই লাল-সবুজ সংমিশ্রিত সালাম। হ