লায়ন : ঘরে ফেরার গল্প

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

লায়ন : ঘরে ফেরার গল্প

বিশ্বজিৎ দাস ১২:৪১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

print
লায়ন : ঘরে ফেরার গল্প

করোকালে বেশ কিছু মুভি দেখেছি। চিপ্পা নামের একটি মুভি দেখলাম। এখানে সানি পাওয়ার নামের একজন শিশুশিল্পী অসাধারণ অভিনয় করেছে। পরে গুগলের মাধ্যমে জানলাম ছেলেটি লায়ন নামের আরো একটি মুভিতে অভিনয় করেছে, যা অস্কার নমিনেশন পেয়েছিল। কৌতূহলী হলাম। নেটফ্লিক্সে সার্চ দিতেই পেয়ে গেলাম মুভিটি। সামান্য অংশ দেখব এই আশায় শুরু করলাম দেখতে। আস্তে আস্তে কখন যে মুভির মধ্যে ডুবে গেলাম টেরই পেলাম না। সত্য ঘটনা অবলম্বনে লিখিত ‘এ লং ওয়ে হোম’ নামের উপন্যাস থেকে করা হয়েছে এর চিত্রনাট্য। ডিউক ডেভিসের চিত্রনাট্য পরিচালনা করেছেন গার্থ ডেভিস। অভিনয়ে আছেন দেব প্যাটেল, নিকোল কিডম্যান, সানি পাওয়ার, ঋদ্ধি সেন, দীপ্তি নাভাল, নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী প্রমুখ।

ঘটনার শুরু ১৯৮৬ সালে। ভারতের খান্ডয়া নামক জায়গায় ৫ বছর বয়সী সারু তার বড়ভাই গুড্ডুর পিছুপিছু ঘুরে বেড়ায়। বাসায় আরো আছে এক ছোট বোন আর পাহাড়ে পাথরভাঙা শ্রমিক মা। দুই ভাই মিলে ট্রেন থেকে কয়লা চুরি করে। এক ভোররাতে দুই ভাই মিলে বেরিয়ে পড়ে এমনি এক অভিযানে। পথে ছোট্ট সারুর ঘুম পেয়ে যায়। সে গুড্ডুকে বলে, আমার ঘুম পাচ্ছে।

গুড্ডু তাকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রেখে চুরি করতে চলে যায়। এদিকে ঘুম থেকে উঠে সারু বড় ভাইকে খুঁজতে থাকে। খুঁজতে খুঁজতে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে উঠে ঘুমিয়ে পড়ে সে। ঘুম থেকে উঠে দেখে ট্রেন চলছে। সেই ট্রেন তাকে কলকাতায় নিয়ে আসে। বাংলা ভাষা সে জানে না। বাচ্চা অপহরণকারীরা তাকে তুলে নিয়ে যেতে চায়। মানব পাচারকারীরা তাকে বিক্রি করে দিতে চায়। সে বুদ্ধি করে সব জায়গা থেকে পালায়।

মন্দিরের প্রসাদ খেয়ে, ডাস্টবিনের ময়লা ঘেটে কলকাতায় টিকে থাকে। অবশেষে একজনের সহায়তায় চাইল্ড হোমে আশ্রয় পায় সারু। সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার এক দম্পতি সুই আর জন তাকে দত্তক নেয়। ভারত থেকে সে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ায়। ওই দম্পতির স্নেহ ও ভালোবাসায় তাসমানিয়ায় বড় হয়ে ওঠে সারু। ২০ বছর পর সে হোটেল ম্যানেজমেন্টের ওপর গ্রাজুয়েশন করতে মেলবোর্নে আসে।

আমেরিকান ছাত্রী লুসির সঙ্গে তার হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। বন্ধুদের সঙ্গে এক পার্টিতে জিলাপি দেখে তার কথা মনে পড়ে যায়। বড় ভাই গুড্ডু ফিরে এসে তাকে জিলাপি খাওয়াবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্ল্যাটফর্মে রেখে গিয়েছিল তাকে। বন্ধুদের সঙ্গে সে নিজের স্মৃতির কথা শেয়ার করে। সে তার ঠিকানা জানে না।

শুধু আবছা আবছাভাবে কিছু অবকাঠামোর কথা মনে আছে। বন্ধুরা তাকে গুগল আর্থের হেল্প নেওয়ার কথা বলে। সারু সে চেষ্টাই করে। সারু কি পারবে তার হারানো পরিবারকে খুঁজে বের করতে? এ এক ইন্টারেস্টিং জার্নি। মুভিটির বিশেষত্ব এই যে সারুর সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরাও তার পরিবার খুঁজে বের করতে শুরু করে। ছবির শেষে যখন সারু তার বায়োলজিক্যাল মায়ের দেখা পায়, তখন দর্শকদের জন্য চোখের পানি ধরে রাখা মুশকিল হয়।

মুভির একেবারে শেষে গিয়ে পরিচালক আমাদের জানান, আসলে তার নাম সারু নয়, শেরু যার অর্থ লায়ন বা সিংহ। আর ছোট্ট সারুর চরিত্রে সানি পাওয়ারের অভিনয় অসাধারণ। বড় সারুর চরিত্রে দেব প্যাটেল এবং সুই-এর চরিত্রে নিকোল কিডম্যানের অভিনয় দেখার মতো। ৮৯তম অস্কার প্রতিযোগিতায় লায়ন মুভিটি ৬টি ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পায়।

বাফটা পুরস্কার পেয়েছে মুভিটি। আইএমডিবিতে মুভিটির রেটিং ৮/১০, রটেন টমেটো-তে ৮৪ শতাংশ। গুগল ইউজারদের ৯৩ শতাংশ এটি পছন্দ করেছে। অস্ট্রেলিয়া, ইউএসএ এবং ইউকে-র যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত মুভিটি ২০১৬ সালে প্রথম সিঙ্গাপুরে ও ২০১৭-এ ওয়ার্ল্ডওয়াইড মুক্তি পায়। অস্ট্রেলিয়ায় মুভিটি দারুণ ব্যবসা করে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে মুভিটি একবার দেখাই যায়! পাওয়া যাবে নেটফ্লিক্সে।