মাইশা আতিকা হামানদিস্তা

ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

নারী উদ্যোক্তাদের সফলতা

মাইশা আতিকা হামানদিস্তা

বিবিধ ডেস্ক ২:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০২০

print
মাইশা আতিকা হামানদিস্তা

চার সন্তান। সবই মেয়ে। মা-বাবার মাথায় হাত। একটিও পুত্রসন্তান হল না। ভবিষ্যৎই তো নেই! পুত্রসন্তান মানেই তো ভবিষ্যৎ। শিশুকালেই এই বিষয়গুলো তাকে নাড়া দিত। মনে প্রাণে চাইতেন, বড় হয়ে এমন কিছু করবেন যেন মেয়েসন্তানও ভবিষ্যৎ এটা অন্তত প্রমাণ হয়। সত্যিই বড় হয়ে তিনি সফল উদ্যোক্তা হলেন। হামানদিস্তা নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। সফলতার এই গল্প মাইশা আতিকার। চট্টগ্রামের মেয়ে।

বিব্এি পড়ছে তৃতীয় বর্ষে। তিন বছর ধরে ব্যবসা করছেন। তার পণ্য হলো দেশীয় প্রসাধনী ও রূপচর্চার সামগ্রী। তিনি বলেন, আমি ৩ বছরে ১৯০০০ মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে দেশীয় ও প্রাকৃতিক পণ্য দিয়ে কীভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়। ভেজালের ভিড়ে কীভাবে নিজেদের প্রকৃতির কোলে আড়াল করতে পারি। 

ছাদ ও ছোট্ট বারান্দায় শুরু করেছিলেন। এখন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস আছে। আছে গোডাউনও। সহকারী হিসেবে কাজ করে তিনজন। তার প্রতিষ্ঠান সরকার নিবন্ধিত। ছোটবেলা থেকেই তার প্রাকৃতিক উপায়ে রূপচর্চার প্রতি ঝোঁক। পাশাপাশি ভেজাল, নকল ক্ষতিকর প্রসাধনী পণ্যের ছড়াছড়ি। এসব তাকে নাড়া দিত। তিনি বেছে নিলেন প্রাকৃতিক উপায়ে প্রসাধনী সামগ্রী তৈরির কাজ। যাতে নারীদের কাছে একদম রেডিমেড রূপচর্চা ও শরীর চর্চার পণ্য এবং পাশাপাশি রন্ধন সৌখিনদের জন্য নানান রেডিমেড মসলা পৌঁছে দেওয়া যায়।

ব্যবসার প্রথম মূলধন মায়ের কাছ থেকে তিনি পান। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাকে সহযোগিতা করে বলে জানান। নিজের প্রথম আয়ের টাকা তিনি মায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন। এটাই তার বড় সুখ।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মাইশা মনে করেন, বর্তমানে নারীদের জন্য চমৎকার একটি সহজ প্ল্যাটফর্ম অনলাইন বিজনেস। তাই নিজেকে ডিটার্মাইন্ড করে, চোখ বন্ধ করে নেমে পড়াই মূলমন্ত্র। অনলাইনে তার পণ্য বিক্রি হয়। ক্রেতা পণ্য পছন্দ করে বিকাশ করলে তিনি কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছে দেন।