গাছের ফেরিওয়ালি সিমা

ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৬ কার্তিক ১৪২৭

নারী উদ্যোক্তাদের সফলতা

গাছের ফেরিওয়ালি সিমা

বিবিধ ডেস্ক ২:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০২০

print
গাছের ফেরিওয়ালি সিমা

ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি গাছ লাগাতে পছন্দ করত। সবুজ গাছগাছালি তাকে খুব টানে। তার বাসায়ও নানা রকম গাছ থাকত। বাঁশের ঝুড়ি, পটারি, প্লাস্টিকের পাত্রে। সুন্দর করে মেয়েটি গাছ সাজিয়ে রাখত। পরিচিতজনরা দেখে মুগ্ধ হত। প্রশংসা করত।

একসময় ভাবলেন, ইনডোর প্ল্যান্টের ব্যবসার কথা। যেমন ভাবনা তেমনি তার কাজ। বরিশালে প্রথম ইনডোর প্ল্যান্ট শপের কর্ণধার। সফল উদ্যমী মানুষটির নাম ইসরাত জাহান সিমা। পড়াশোনা করছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। গ্রামের বাড়ি বানারীপাড়ার চাখারে। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে তার অনলাইন ব্যবসা শুরু। এর আগে টুকটাক অফলাইনে বিক্রি করতেন।

সিমা প্রথমে গাছ সংগ্রহ করেন। পরে সে তা থেকে চারা করে বিক্রি করেন। আবার অনলাইনে বীজ সংগ্রহ করেন। আর ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য পটারি, বাঁশের ঝুঁড়ি এগুলো বাউফল, উজিরপুর, ঢাকার দোয়েল চত্বর, পান্থপথ থেকে সংগ্রহ করা হয় বলে তিনি জানান। মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, লাকি বাম্বু, জিজি প্ল্যান্ট, এরিকা পাম, ক্রিসমাস ট্রি, অক্সালিস, রাবার প্ল্যান্ট, হানি স্নেকপ্ল্যান্ট, মাদার অব থাউজেন্ড ইত্যাদি গাছ তার শপে রয়েছে। অনলাইনে অর্ডার করে মূল্য বিকাশ করতে হয়। পরে কুরিয়ার করে দেওয়া হয়। তবে কাছাকাছি হলে ক্যাশ অন ডেলিভেরি দেওয়ার সিস্টেম আছে বলে সিমা জানান। আবার নির্দিষ্ট জায়গা থেকেও গাছ সংগ্রহ করার উপায় আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায় তাকে তার মা সাহায্য করেন।

সিমার দেখাদেখি আরও অনেকে শুরু করেছে বলে জানা যায়। শহরের ববি প্রাঙ্গণে দামে সস্তা কিন্তু বড় হয়ে বেশ ছায়া দেবে এমন কিছু গাছ লাগিয়েছেন তিনি। ওষুধি গাছ রোপণ, সংরক্ষণ নিয়েও কাজ করেছেন। সিমার কাজে অনুপ্রেরণায় আছেন তার মা-বাবা। মা প্রত্যক্ষভাবে তাকে সাহায্য করেন। বাবার উক্তি, ‘কাজ সেটাই শ্রেষ্ঠ যেটা তোমাকে আনন্দ আর উৎসাহ দেয়।’

মা-বাবা কখনো কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বলে সিমা জানান।

সিমা মনে করেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন কিছু একটা করা। কারণ ইকমার্সে অমিত সম্ভাবনা বিদ্যমান। ব্যবসায় লাভের অংশ সিমা কিছুটা পুনঃ বিনিয়োগ করেন। নিজের, পারিবারিক খরচ মেটান। আবার সমাজের পিছিয়ে পড়া গরিব, অসহায় দুস্থদের কল্যাণে ব্যয় করেন। গরিব অসহায় মানুষদের জন্য সিমার খুব মায়া। তাদের জন্য কিছু করতে পারলে সিমার ভালো লাগে বলে জানান। ইনডোর ব্যবসার পাশপাশি কপালকু-লা নামে একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান আছে সিমার। এখানে হ্যান্ডমেড গয়না, হ্যান্ডমেড ব্যাগ, দেশীয় শাড়িসহ আরো অনেক অঙ্গসাজের প্রোডাক্ট বিক্রি হয়।