পাখিদের জন্য ফ্ল্যাট চাই

ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

পাখিদের জন্য ফ্ল্যাট চাই

এস এম মুকুল ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০১, ২০২০

print
পাখিদের জন্য ফ্ল্যাট চাই

প্রকৃতি এখন প্রাণহীন। গ্রামাঞ্চলে নেই ঝোপঝাড়। বন উজাড়ের সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। অপরিকল্পিত আবাসন নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি, ইটভাটা, রাস্তাঘাট নির্মাণ, কারখানাসহ নানাভাবে বনভূমির বিনাশ ঘটছে। পাখিরা এখন আশ্রয়হীন। কোথায় থাকবে ওরা। একটি পাখির এতটুকুর ছোট্ট বাসা বাঁধার ঠাঁইটুকুও অবশিষ্ট রাখছি না আমরা। ‘পাখিদের জন্য ফ্ল্যাট চাই’। লিখেছেন এস এম মুকুল

পাখিগ্রাম বেলগাছী
গ্রামের এক পাশ দিয়ে মাখালডাঙ্গা অভিমুখে চলে গেছে একটি সড়ক। এ সড়কের ধারে আছে একটা বিল। এই বিলে সারস, শামুকখোল, বক, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আসত একসময়। তখন এলাকার কিছু মানুষ অবাধে পাখি শিকার করত। সে সময় বেলগাছীর দুই সন্তান গাইদঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বখতিয়ার হামিদ বিপুল ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ছাত্র আরিফুজ্জামান মিলে পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। প্রথমে তারা পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন গাছে কলস ও ঝুড়ি টাঙিয়ে দেন পাখি সংরক্ষণের জন্য। তাদের দেখে গ্রামের তরুণ, কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ এগিয়ে আসে তাদের সহযোগিতার জন্য। ২০০৭ সালে। পাখি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন টাকা। এই টাকার জোগান দিতে শিক্ষক বিপুলের পাশাপাশি আরিফুজ্জামান বখতিয়ার শুরু করেন টিউশনি।
প্রতিমাসে যে টাকা রোজগার করেন তার সবই তিনি খরচ করেন পাখি সংরক্ষণের বিভিন্ন কাজে। ওই এলাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে একত্রিত করে একটি ফান্ড তৈরি করে। অসুস্থ পাখির চিকিৎসার জন্য বিপুল ও বখতিয়ার চুয়াডাঙ্গা ভেটেরিনারি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গড়ে তোলেন একটি পশুপাখির চিকিৎসা কেন্দ্র। বর্তমানে বেলগাছী, মাখালডাঙ্গাসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন গাছে দেড় হাজারেরও বেশি ভাঁড় ও ঝুড়ি দেওয়া আছে পাখি সংরক্ষণের জন্য। শিক্ষক বিপুল ছুটি পেলে চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের স্কুলে পাখি ও পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন। গান শুনিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করেন। ২০১১ সাল। তরুণদের নিয়ে কাজে হাত দিলেন বিপুল। গ্রামের পাখি আর বনের প্রাণীদের গ্রামে ফিরিয়ে আনার এই পরিকল্পনায় তার সঙ্গে যুক্ত হলেন আশরাফুলসহ আরও ৩৫ তরুণ। তাদের সম্বল টিউশনি থেকে জমানো তিন-চার হাজার টাকা আর পাখপাখালির প্রতি ভালোবাসা। এক বছরের মাথায় পাখি আর প্রাণীরা বুঝতে পারল তাদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা। ২০১২ থেকেই বেলগাছী গ্রামের পথে-মাঠে-গাছে আনাগোনা বেড়ে গেল পাখিদের। শীতকালে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে থাকল শালিক, ঘুঘু, পেঁচা, শ্যামাসহ নাম না-জানা পাখিরা। ফসলের মাঠের কোণে ঝোপঝাড়গুলোতে সাদা-কালো ও ছাইরঙা দুর্লভ প্রজাতির খরগোশরাও আশ্রয় নিল।

বিরল পাখি কানাইপুকুর গ্রামে
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কানাই পুকুর গ্রামের আব্দুস সামাদ ম-ল ও সোবহান ম-লের পুকুরের শতাধিক গাছে শামুক খৈলসহ ছয় প্রজাতির হাজার হাজার পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রম। প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে সেখানে বাসা বেঁধে আছে মাছরাঙা, পানকৌড়ি, রাতচোরা, বক আর বিরল প্রজাতির এশিয়ান শামুক খৈল পাখি। প্রজনন থেকে শুরু করে ডিম, বাচ্চা, প্রাপ্ত বয়স্ককাল সব এখানেই তারা সম্পন্ন করে। ক্ষেতলাল উপজেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে আলমপুর ইউনিয়নের কানাইপুকুর গ্রামের ম-লপুকুরে পাখিদের অভয়াশ্রম প্রায় ১৮ বছর ধরে।


পাখির জন্য ঘর সংসার
প্রথমে নিজ বাড়ির গাছে পাঁচটি কলস বাঁধেন মামুন বিশ্বাস। কিছুদিন যেতেই এসব কলসে আশ্রয় নেয় শালিক পাখি। তিনি অবাক হয়ে দেখতে থাকেন পাখিদের ঘর সংসার, বংশ বৃদ্ধি। এরপর শুরু হয় গ্রামের গাছে গাছে কলস লাগানোর কাজ। এতে সাফল্যও আসে। পেঁচা ও শালিক এখানে বাসা বাঁধছে। অন্যান্য পাখির মধ্যে দোয়েল আসা-যাওয়া করছে। রাস্তার ধারে, পুকুরপাড়ে, জমির পাশে, বিভিন্ন বাসাবাড়ির গাছের ডালসহ গ্রামটির আনাচে-কানাচের বিভিন্ন গাছের মগডালে বেঁধে দেওয়া হয়েছে কলসি। কয়েকটি মাটির কলসিতে পাখিরা এসে আশ্রয় নিয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে পাখিদের জন্য ঘর সংসার। শুরু হয়েছে প্রজনন। এই চিত্রের দেখা মিলবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালী গ্রামে। পাখিপ্রেমিক মামুন বিশ্বাসের চেষ্টায় এ গ্রামে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে পাখির অভয়াশ্রম। নিজ অর্থায়নে তিনি পাখিদের জন্য ঘর সংসার গড়ে দিচ্ছেন। মামুনের এই কাজে সহায়তা করছেন বন্ধু ইমন, শাহীন, সুজন, নবী, আজিজুল। মামুনের এমন ব্যতিক্রমী কাজে মুগ্ধ গ্রামবাসীসহ আশপাশের লোকজন। পাখি সংরক্ষণ, প্রজনন ও নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘দি বার্ড সেফটি হাউজ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন মামুন।


পাখিদের নিরাপত্তা দিচ্ছে গ্রামবাসী
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাখি গ্রাম আশুরহাট। এখন পাখির কিচিরমিচির আওয়াজে মুখর। কিন্তু পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে স্থান সংকুলানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসী জানায়, ২০০৭ সালের শীতকালে এক ঝাঁক পরিযায়ী পাখি উপজেলার শামুক খোল গ্রামের একটি শিমুল গাছে আশ্রয় নেয়। ভোরে পাখিরা আহার সংগ্রহে বের হত। সন্ধ্যার আগে আবার ফিরে ওই শিমুল গাছে রাত কাটাত। শীত শেষে তারা চলে যায়। পরের বছর ফের এসে সেই শিমুল গাছেই আশ্রয় নেয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত পাখিরা আশুরহাট গ্রামে আসা-যাওয়া করতে থাকে। ২০১৩ সালে আসার পর পাখিরা শীত শেষে ফিরে যায় না।


সারসে শান্তির গ্রাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লান গ্রামে গড়ে উঠেছে সারস বক পাখির অভয়ারণ্য। এলাকার শিমুল, কড়াই, কদম, পিঠালিসহ বেশ কিছু বড় বড় গাছে বাসা বেঁধে অবস্থান করছে শত শত পাখি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মহানন্দা নদীর শেখ হাসিনা সেতু পেরিয়ে মাত্র আট কিলোমিটার দূরের গ্রামীণ জনপদ মোল্লান। জানা যায় মোল্লানে ১৯৯৮ সালের দিক থেকে আসা শুরু হয় বক পাখির। গাছে ডিম পাড়ে।


কলকাকলিতে মুখরিত মগলিশপুর
পাখির কলকাকলিতে মুখরিত গ্রামটি। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মগলিশপুর গ্রামে দেখা মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির। গ্রামের পুকুরপাড়ে আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাঁশঝাড়ে অভয়াশ্রম হিসেবে বসবাস করছে পাখিগুলো। এখানে দেখা মিলছে বিভিন্ন ধরনের শামুকখোল, জ্যাঠা বক, কানি বক, পানকৌড়ি, রাতচোরা, ডাহুক, দোয়েল, ঘুঘু, শালিক, বাবুইসহ নানান জাতের দেশীয় পাখি। এই গ্রামের মানুষরাও প্রকৃতিপ্রেমী। পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকে পাখি রক্ষায় নানা উদ্যোগও নিয়েছেন তারা। গ্রামের ভেতরে গাছ কাটা ও উচ্চ শব্দে আওয়াজ করাও নিষিদ্ধ। প্রথমে এসব পাখির শব্দ ও বিষ্ঠা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন সব সয়ে গেছে। গ্রামের সবাই পাখির প্রতি মমতাশীল।


দশানী এখন পাখির গ্রাম
পাখ-পাখালির প্রাকৃতিক চিড়িয়াখানায় পরিণত হয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার নদীঘেরা গ্রাম দশানী। বাঞ্ছারামপুর সদর উপজেলা থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে দশানী গ্রামের লোকসংখ্যা নিতান্তই কম। মাত্র ৩ হাজার। মানুষ কম হলে কী হবে, এখানে রয়েছে প্রায় ৫০০ প্রাতির পাখি। এলাকাবাসীর ঘুম ভাঙে পাখির গানের সুরে। দিনভর শোনা যায় বিভিন্ন পাখির কণ্ঠে মিষ্টি মধুর সুর। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে পাখিগুলোও মানুষের প্রতি যে ভয়ভীতি ছিল তা ভুলে গিয়ে নির্ভয়ে অবলীলায় এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এখানে পাখি শিকারিদের নেই কোনো উপদ্রব ও আতঙ্ক। তাই মানুষ ও পাখির গভীর বন্ধুত্বে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোরম সৌহার্দ্যময় পরিবেশ।


নওগাঁর পাখির অভয়াশ্রম
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নিভৃত গ্রাম আলীদেওনায় সবুজ গাছগাছালিতে ভরা গ্রামটিতে আগে থেকেই ছিল অসংখ্য পাখির বসবাস। স্থানীয় যুবকরা পাখির আবাসস্থল গড়ে তুলেছেন। এই পাখি কলোনি এখন মানুষের বিনোদনের খোরাক হয়েছে। পাখির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে সেখানে মেলার আয়োজনও করা হচ্ছে। পাখির জন্য অভয়াশ্রম সৃষ্টি করতে স্থানীয় যুবকরা গড়ে তুলেছেন সামাজিক সংগঠন ‘প্রাণ ও প্রকৃতি’। এখন ওই গ্রামে বিকালে পাখির ঘরে ফেরার দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীর ভিড় জমে।


হাসানপুরের পাখির প্রীতি
‘পাখিদের ভয় দেখাবেন না, ওরাও বাঁচতে চায়’, ‘প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাখি, সৌন্দর্যের প্রতীক পাখি’Ñ পাখি সংরক্ষণের এমন নানা সাইনবোর্ডের দেখা মিলবে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার হাসানপুর গ্রামে। এই অভয়াশ্রম গড়ে তোলার প্রধান উদ্যোক্তা ও হাসানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউনুছার রহমান হেফজুল। জানা যায় ২০০৬ সালে তিনিসহ গ্রামের বেশ কয়েকজন যুবক এলাকাটিকে পাখির জন্য নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। ওই গ্রামের সোনালী সংসদ নামে সংগঠনের মাধ্যমে গ্রামের যুবকরা নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের মানুষদের সচেতন করতে মাইকিং করেন। গ্রামের প্রতিটি প্রবেশপথে স্থাপন করা হয় সাইনবোর্ড। গ্রামের মানুষ পাখি মারেন না, কাউকে মারতেও দেন না। প্রায় ৯০টি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠা এই গ্রাম গাছগাছালিতে ভরা। গ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে একটি পুকুর। পুকুরপাড়সহ প্রায় চার বিঘা জমিতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা গাছে বিচরণ করছে নানা প্রজাতির পাখি। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, বালিহাঁস, শামুক খৈল, রাতচরা, ডাহুক, ঘুঘু, শালিক, বাবুই চোখে পড়ে হরহামেশা। এলাকায় শেয়াল, বনবিড়ালের মতো বন্যপ্রাণীও দেখা যায়। আবার পুকুরের একপাশে পাখির উড়ে চলা দেখতে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বসার স্থান। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা সেখানে বসে পাখি দেখে। পাশাপাশি গ্রামের ভেতরে গাছ কাটা ও উচ্চশব্দে আওয়াজ করা নিষিদ্ধ করা হয়। আর গ্রামের কেন্দ্রে থাকা পুকুরটিতে মাছ শিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়।


যশোরের আন্দলপোতা
আন্দলপোতা গ্রাম এখন পাখির গ্রাম হিসেবে পরিচিত। পুরো গ্রাম যেন পাখির অভয়ারণ্য। যশোরের শার্শা নাভারন বাজার থেকে ২ কিলোমিটার দূরে আন্দলপোতা গ্রামের আমির আলীর বঁভশবাগানে গড়ে উঠেছে এই পাখিপল্লী। এ বাগানের নারিকেল, শিশু, মেহগনি ও বাঁশঝাড়ে নিরিবিলি ও নির্জন পরিবেশ পাখিদের খুবই পছন্দের। সন্ধ্যায় পাখির কিচিরমিচিরে রূপ বদলে যায় আন্দলপোতা। যশোরের নাভারন আন্দলপোতা পল্লীতে পাখির আবাস গড়ে তাক লাগিয়েছেন মাস্টার আবদুল আলিম। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই আবাসে ফেরে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার পাখি। পাখ-পাখালির কলকাকলিতে মুগ্ধ এখানকার সবাই। তার এই পাখির আবাস দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন শত শত নারী-শিশু-পুরুষ।


নড়াইলের পানিপাড়া
চিত্রা-কাজলা-নবগঙ্গা-মধুমতি বিধৌত নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পানিপাড়ায় বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে দেশের একমাত্র কৃষি পর্যটন কেন্দ্র অরুনিমা রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ ক্লাব। তবে এটি অরুনিমা ইকোপার্ক, অরুনিমা কান্ট্রিসাইড বা পানিপাড়া পর্যটন কেন্দ্র নামেই স্থানীয়দের কাছে বেশি পরিচিত। প্রায় ৫২ একর জমিতে গড়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কয়েক হাজার বাসস্থান। নড়াইল শহর থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে নড়াগাতি থানাধীন মধুমতি ও নবগঙ্গা নদীর সংযোগস্থল পানিপাড়া এলাকায় অবস্থিত এ বিনোদন কেন্দ্রে বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতি বছর শীত মৌসুমে হাজার হাজার অতিথি পাখির কলতান-সৌন্দর্য পিয়াসীদের মন জুড়িয়ে দেয়। পর্যটন কেন্দ্রের পুরো এলাকাজুড়ে চোখে পড়ে বক, বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস, পানকৌড়ি, শালিক, টিয়া, দোয়েল, ময়না, মাছরাঙা, ঘুঘু, শ্যামা, কোকিল, টুনটুনি, চড়াইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পাখির প্রজনন ঘটছে। ডিম থেকে ফুটছে বাচ্চা। তাই কৃষি পর্যটন কেন্দ্রটি পরিণত হয়েছে পাখির অভয়ারণ্যে। প্রজননের সুযোগ থাকায় বাড়ছে পাখির সংখ্যা।


পাখিদের স্বর্গরাজ্য দালাইলামার বিল
সীমান্ত গ্রামটিতে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ঘরে ফিরে যেমন প্রান্তির ঘুম দেয় পাখিগুলোও সন্ধ্যা হলেই দল বেঁধে ফেরে আপন ঠিকানায়। আশ্রয় নেয় গ্রামের গাছে, ঝোপঝাড়ে, বাঁশবাগানে। লালমনিরহাট জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মোগলহাট সীমান্তের শেষপ্রান্তের গ্রাম কুমারটারী।
গ্রামটির পেছনে বিশাল বিল। এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত দালাইলামার বিল নামে। চারপাশে নানা প্রজাতির গাছ, আর বিশাল বিশাল বাঁশবাগান। গ্রামের মানুষগুলো খুবই সহজ-সরল ও নিরীহ। মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রতিবছর অতিথি পাখিরা গ্রামবাসীর সরলতার আতিথেয়তা নেয়। মানুষের ভালোবাসা পেয়ে বারবার ফিরে এসে বাসা বাঁধে।


নাটোরের সমসখলসী
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার সমসখলসী নামে এই গ্রামটি এখন পরিচিত ‘পাখি গ্রাম’ হিসেবে। প্রায় সারা বছরই এই গ্রামের ফসলের মাঠ, পুকুরপাড়, আম, কাঁঠাল, শিমুল, তেঁতুল, খেজুর, তালগাছ আর বাঁশঝাড় সবখানেই হরেক প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। এ গ্রামের বিভিন্ন খাল, পুকুর, ঝাড় ও গাছে পাখিদের বিচরণ ও আবাস। এলাকাবাসী জানান, নাটোর জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে নিভৃত এই গ্রামে ২০০৫ সালের দিকে প্রথম পরিযায়ী পাখির আনাগোনা শুরু হয়। সেই সঙ্গে আগে থেকেই এখানে দেশীয় প্রজাতির আধিক্য ছিল। গ্রামের বিভিন্ন স্থানে শামুকখোল, পানকৌড়ি, দোয়েল, ঘুঘু, শালিকসহ নানান জাতের দেশি পাখির দেখা মেলে। শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে আসা পরিযায়ী পাখি দেখা যায়। পরিযায়ী পাখির মধ্যে অধিকাংশই ছোট সরালি, বড় সরালি, খঞ্জনা, পাতিহাঁস প্রজাতির। এই গ্রামের মানুষ প্রকৃতিপ্রেমী। পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকে পাখি রক্ষায় নানা উদ্যোগও নিয়েছেন তারা। পাখির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠা সমসখলসীতে প্রতিদিন আসছেন পর্যটকরা। পাখিদের সার্বিক নিরাপত্তা ও বংশ বিস্তারে স্থানীয় যুবকদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘ইয়ুথ সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নামে পরিবেশবাদী একটি সংগঠন।