ফারিহার শিল্পকর্ম গাছের পাতায়

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

শখ থেকে সাফল্য

ফারিহার শিল্পকর্ম গাছের পাতায়

বিবিধ ডেস্ক ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

print
ফারিহার শিল্পকর্ম গাছের পাতায়

হাতের কাছে যা পেতেন তার ওপরই ছবি আঁকতেন। হোক সেটা নষ্ট বাল্ব বা অন্য কিছু। বাসায় নানা রকম গাছের বাগান ছিল। গাছের পাতা পড়ে থাকত। হঠাৎ একদিন তিনি ভাবলেন, গাছের ঝরেপড়া পাতার ওপর ছবি আঁকলে কেমন হয়। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। শুকনো নয়। গাছের কাচা পাতার ওপর ছবি আঁকলেন। ব্যতিক্রমী ক্যানভাসে ছবি একে জনপ্রিয় হয়েছেন মারগুবা তাবাসসুম ফারিহা। সিদ্ধেশ^রী গার্লস কলেজে স্নাতর্ক শেষ বর্ষে ইংরেজি সাহিত্য পড়ছেন তিনি। এ পর্যন্ত তিনটি এক্সিবিশনে অংশ নিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকিতে ফারিহার প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ে।

 

তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়েন। শিল্পকলায় এক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রথম পুরস্কার দেন কবি আল মাহমুদ। পুরস্কার দেওয়ার সময় কবি ফারিহার ছবির প্রশংসা করে বলেন, ছবি আঁকাটা চালিয়ে যেও। ছোটকালের কবির এই উক্তি আজও ফারিহাকে উৎসাহ জোগায়। মায়ের হাতে ছবি আঁকার হাতেখড়ি হয় ফারিহার। তার মাও ছবি আঁকতেন শখের বসে। আঁকাআঁকির ওপর প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। শুধু কিছুদিন একটা আর্ট স্কুলে পড়েছিলেন তিনি। 

অসংখ্য মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হন ফারিহা। অনেকে ছবি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে বলে জানান। তবে আপাতত পাতার ওপর ছবি আঁকাটা শখের জায়গায়ই রাখতে চান। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এ ধরনের শিল্পকর্মের মূল্যায়ন খুব একটা হয় না। অনেকে আলু, পটলের দামে শিল্পকর্ম কিনতে চায়। যা শিল্পীর জন্য অপমানজনক। তবে পাতার ব্যতিক্রমী শিল্পের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে। মানুষ শখ করে বসার ঘরে এইসব ছবি রাখে।

মানিপ্ল্যান্টের পাতার ওপর প্রথম ছবি আঁকেন ফারিহা। এই ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিতেই হইচই পড়ে যায়। ভিন্ন মাধ্যমে এত সুন্দর প্রাণবন্ত ছবি। সকলের মন জয় করে নেয়। ফারিহা বলেন, অনেকেই শুকনো পাতার ওপর ছবি আঁকে। আমি আঁকি কাঁচা পাতার ওপর। এজন্য পাতাকে কেমিকেল দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়। যাতে নষ্ট না হয়ে যায়।

ফারিহা একশ’টির মতো ছবি এঁকেছেন। দেশের মধ্যে একমাত্র তিনিই পাতার শিল্পী। পরিবার থেকে ছবি আঁকার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন পান বলে জানান। তিনি আরও বলেন, পাতার ছবি একটি ইউনিক জিনিস। কেবল দেশে নয়।

দেশের বাইরেও এ ধরনের শিল্পকর্মের প্রচুর চাহিদা রয়েছে কালিগ্রাফিতেও ফারিহার জুড়ি নেই। ফেসবুকে ওয়ার্ডগ্রাফি তার বিপুল জনপ্রিয়। বাংলা, ইংরেজি, চাইনিজ ভাষায় ক্যালিগ্রাফি করেন তিনি। গানের লাইন, কবিতার লাইন প্রভৃতি সুন্দর করে বিভিন্ন ডিজাইনে লেখেন। ভবিষ্যতে তিনি ফেসবুকে পেজ খুলবেন। পাতার ওপর ছবি আঁকার ব্যতিক্রমী শখকে বাণিজ্যিক রূপ দেবেন। এমনটাই তার ইচ্ছা।