আইসক্রিম স্টিক আর্টিস্ট রুবেল আহমেদ

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

শখ থেকে সাফল্য

আইসক্রিম স্টিক আর্টিস্ট রুবেল আহমেদ

বিবিধ ডেস্ক ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

print
আইসক্রিম স্টিক আর্টিস্ট রুবেল আহমেদ

অন্যরা ছবি আঁকত। ছেলেটি অবাক বিস্ময়ে তা দেখত। কীভাবে সাদা কাগজে একটা বক আঁকা হয়ে যায়। একটা বাড়ি এবং নদীও হয়। দেখতে দেখতে সে উৎসাহী হয়ে উঠল। কলম, পেন্সিল যা পেত লুকিয়ে লুকিয়ে তাই দিয়ে ছবি আঁকত। গল্পের বইয়ে ছবি দেখে আঁকার চেষ্টা করতো।

সত্যি সত্যি একদিন সুন্দর সব ছবি আঁকেন তিনি। পরিবার, বন্ধুরা ছবি দেখে প্রশংসা করল। ছবি আঁকার গল্পটা যার তার নাম রুবেল আহমেদ। আইসক্রিমের স্টিকে ছবি এঁকে সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন। দেশ-বিদেশে তার ব্যতিক্রমী মাধ্যমে আঁকা ছবি প্রশংসিত। রুবেলের বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাট এলাকায়।

তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ থেকে। মা, বাবা আর দুই ভাই নিয়ে তার পরিবার। ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকেন। তবে আইসক্রিমের স্টিকে ছবি আঁকা শুরু ২০১৭ সালে। ছবি আঁকার অসংখ্য মাধ্যম রয়েছে। আইসক্রিম এর স্টিক কেন? জানতে চাইলে রুবেল বলেন, আমি মূলত স্কেচ বেশি করতাম।

একদিন বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিলাম। চিন্তা করছিলাম যে অনেকেই ভালো ছবি আঁকে আমি যা আঁকি তা কিছুই না। শুধু জল রঙ, স্কেচ এগুলো থেকে আলাদা কোন মাধ্যমে আঁকতে পারলে সেটা দারুণ হত। ততক্ষণে আইসক্রিমটি প্রায় শেষ। খেয়াল করলাম আইসক্রিম এর কাঠিতে খোদাই করা লেখা আর ছবি।

তখনি মাথায় আসলো এই আইসক্রিম এর কাঠিতে তো ছবি আঁকতে পারি। তখন আরো ৪টা আইসক্রিম কিনে কাঠিগুলো রেখে ধুয়ে শুকিয়ে একসঙ্গে করে ছবি এঁকে ফেললাম। সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করতেই প্রচুর সাড়া পেলাম। এরপর ঠিক করলাম আইসক্রিম স্টিক আর্টই হবে আমার ছবি আঁকার ক্যানভাস। স্কুল, কলেজে ছবি আঁকার জন্য রুবেল অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

তিনি বেশ কয়েকটি প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ২০১৪ সালে প্রথম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বাংলা ইনিশিয়েটর-এর আয়োজন প্রম ন্যাশনাল আর্ট ও ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন বাংলা ইনিশিয়েটর প্রদর্শনী, ডি ফটোক্যাফে এক্সিবিশন, জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ পেন্সিলের ৩য় বর্ষপূর্তি এক্সিবিশন, অবিস্কিউর আর্ট এক্সিবিশন। এছাড়া তিনি পেন্সিল ফাউন্ডেশন এর বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন। ফেসবুকে আইসক্রিম স্টিক আর্ট পেজ রয়েছে। যেখানে গেলে রুবেলের কাজ দেখা যায়।