বরিশালের হেনা আর্টিস্ট মৌ

ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

শখ থেকে সাফল্য

বরিশালের হেনা আর্টিস্ট মৌ

বিবিধ ডেস্ক ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

print
বরিশালের হেনা আর্টিস্ট মৌ

ছোটকাল থেকেই তার আঁকাআঁকির প্রতি খুব ঝোঁক। কোনো একটা কিছু দেখলেই হলো। হুবহু এঁকে দিতেন। তখন ক্লাস সেভেনে পড়েন। ঈদে অনেকের হাতে মেহেদি লাগিয়ে দিলেন। অমনি সবাই চমকে গেল। এই মেয়ে এত সুন্দর মেহেদি লাগাতে পারে! এভাবেই এক সময় তার মনে হল মেহেদি লাগিয়ে তো কিছু ইনকাম করা সম্ভব। বিভিন্ন জায়গা থেকে মেহেদি আঁকার জন্য তার ডাক পড়ল এরই মধ্যে। ২০১৮ সাল থেকে তার প্রফেশনালি মেহেদি আঁকার শুরু।

তিনি একজন হেনা আর্টিস্ট। নাম জান্নাতুল মাওয়া মৌ। স্নাতক শেষ করেছেন বরিশাল বিএম কলেজ থেকে। পাশাপাশি মানুষের হাতে সুন্দর করে মেহেদি লাগিয়ে দেন। নিজে অসংখ্য রকম ডিজাইন জানেন। আবার ক্লাইন্ট ডিজাইন দেখিয়ে দিলে সেভাবে কাজ করেন। যে কেউ কল দিয়ে বাসায় নিয়ে তাকে দিয়ে মেহেদি আঁকাতে পারে। তবে সেজন্য আগে বুকিং দিতে হবে। মৌয়ের হাত খরচের টাকা মেহেদি আঁকা থেকেই আসে।

পরিবারের সবাই তাকে এ কাজে সমর্থন দেয়। একজন নতুন বউয়ের হাতে মেহেদি লাগাতে ৪/৫ ঘণ্টা লাগে। পারিশ্রমিক হিসেবে নেন ১৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা। 

ফেসবুকে গবযবফর ইু গড়ঁ নামে একটি পেজ আছে তার। মৌ এ পর্যন্ত প্রায় ১৫টি ব্রাইডাল মেহেদি পরিয়েছেন। আর নন পার্টি হেনার পরিমাণ শ’ খানেক। মৌয়ের সঙ্গে দুজন মেয়ে সহকারী হিসেবে কাজ করে। তারা স্টুডেন্ট বলে জানান মৌ। মৌ আরও জানান, এই কাজ করতে গিয়ে পড়াশোনার ক্ষতি হয় না।

সমস্যা হয় কাজ করে রাত বিরাতে বাসায় ফিরতে। তবে স্টুডেন্টরা যাদের আঁকার হাত ভালো তারা অনায়াসে এই কাজের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারে। এমনটাই মৌ মনে করেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা এই কাজে খুব একটা মূলধনের প্রয়োজন পড়ে না।

ফেসবুকে মৌ বিভিন্ন অফার দেন। যার প্রয়োজন সে কল দিয়ে কনফার্ম করে। বিয়ের কনে তো পার্লারে গিয়ে মেহেদি লাগাতে পারে না। হেনা আর্টিস্ট মৌ লাল সবুজ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।