করোনাভাইরাসের ৬৪ দিনে বাংলাদেশ

ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২০ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ঢিলেঢালা লকডাউনে বাড়ছে ঝুঁকি

করোনাভাইরাসের ৬৪ দিনে বাংলাদেশ

বিবিধ ডেস্ক ১০:০১ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২০

print
করোনাভাইরাসের ৬৪ দিনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সনাক্তের দুই মাস পার হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যায় গড়ছে নতুন রেকর্ড। বদলে যেতে শুরু করেছে লকডাউন পরিস্থিতি। গণপরিবহন ছাড়া সব ধরণের যানবাহনের দেখা মিলছে সড়কগুলোতে। সচল হয়েছে আরিচা ফেরিঘাট। কাঁচাবাজারের পাশাপাশি চালু হয়েছে দোকানপাটও। মার্কেটগুলোর সামনে বাড়ছে ভিড়, রাজধানীর সড়কে শুরু হয়েছে যানজট। ফলে ক্রমশই কঠিন হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি।

আইইডিসিআর এর তথ্য মতে, ১০ মে পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৬৫৭ জন, এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬৫০জন আর মৃত্যু হয়েছে ২২৮ জনের। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৫৬ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ৫৫৮৬ জন, হোম কোয়ারেন্টাইনে ৩৬৪২২ জন, আইসোলেশনে ২১১৫ জন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউন কাজ করছে না। পুলিশের তৎপরতা কমে গেছে, আক্রান্ত এলাকা থেকে ভালো এলাকায় লোকজন চলে যাওয়া অব্যাহত থাকায় দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আশংকার সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রমেই ঝুকি বাড়ছে চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আর গণমাধ্যমকর্মীদের। দেশে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের হার খুবই উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ওয়ার্ডবয়, আয়ার সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিসের (এফডিএসআর) হালনাগাদ তথ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করতে গিয়ে আক্রান্ত চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা ৭ মে পর্যন্ত এক হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে গতকাল রোববার পর্যন্ত পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৯৪ জনে। করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৭ জন পুলিশ সদস্য। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদেরও আক্রান্তের হার কম নয়, ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিন জন সাংবাদিক, আক্রান্তের ৮০ জন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন সুফলের পাশাপাশি দেশব্যাপী অচলাবস্থায় লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে অর্থনীতি। দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। কর্মহীনতা-আয়হীনতার কারণে খাদ্যাভাব ও পুষ্টিহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশজুড়ে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা নিশ্চিতকরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্রাণ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়।

ঈদ সামনে রেখে প্রায় দুই মাস পর রাজধানীসহ সারাদেশেই বেশ কিছু শপিং মল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মার্কেট ও দোকানপাটে প্রবেশ করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও বেশ সতর্ক। মার্কেট বা দোকানপাটে প্রবেশপথে তারা বসিয়েছেন জীবাণুনাশক স্প্রে মেশিন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জুতা জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা।

ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে মার্কেটে প্রবেশ করছেন। লাইনে দাঁড়ানোর পরপরই তাদের হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এরপর তাদের বিশেষভাবে তৈরি জীবাণুনাশক ঘরে প্রবেশ করিয়ে স্প্রে করে তবেই মার্কেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। মার্কেটের বাইরে হ্যান্ডমাইক হাতে নিরাপত্তা প্রহরীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মার্কেটে প্রবেশের আহ্বান জানাচ্ছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের নাম পরিচয় নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখছে সরকার। আতঙ্ক দূরে রাখতে করোনায় মৃত ব্যক্তির নামও প্রকাশ করছে না সরকার। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) নিজেদের ব্যবস্থাপনায় মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করছে। লাশ আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই প্যাকেট এবং পরিবহনের ব্যবস্থাও করছেন।

মৃত ব্যক্তির লাশ প্যাকেট করার আগে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, গোসল করিয়ে দেন। এরপর কাফনের কাপড় পড়িয়ে প্যাকেট করেন। সেই প্যাকেট কোনো অবস্থাতেই খুলে আত্বীয়-স্বজন লাশের মুখ দেখার সুযোগ নেই। করোনায় মারা যাওয়া রোগীর জানাজায় অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। লাশ সামনে রেখে জানাজা পড়া ও তাতে অংশ নেওয়া যাচ্ছে।