করোনার প্রভাবে দূরাবস্থায় মধ্যবিত্ত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ঢিলেঢালা লকডাউনে বাড়ছে ঝুঁকি

করোনার প্রভাবে দূরাবস্থায় মধ্যবিত্ত

বিবিধ ডেস্ক ৭:২২ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২০

print
 করোনার প্রভাবে দূরাবস্থায় মধ্যবিত্ত

করোনায় দেশে লকডাউন পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে থাকার পরামর্শ মানতে গিয়ে নি¤œ আয়ের মানুষের আয় অনেক কমে গেছে। আর মধ্যবিত্তরা পাচ্ছে না কোনো সহযোগিতা। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণœ হওয়ার ভয়ে ত্রাণের জন্য রাস্তায়ও দাঁড়াতে পাচ্ছেন তারা।

করোনার চলমান এই সঙ্কটে দেশব্যাপী ‘অঘোষিত লকডাউনে’ চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। সবকিছু বন্ধ থাকায় পাচ্ছেন না কোনো কাজ। সঙ্কট দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হওয়ায় কবে পরিত্রাণ মিলবে তা বলতে পারছে না কেউই। এই সঙ্কটের দিনগুলো কিভাবে কাটবে তা চিন্তা করেও পাচ্ছেন না অনেকে।

অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যাদের দৈনিক আয় ১০ থেকে ৪০ ডলারের মধ্যে, তারাই মধ্যবিত্ত। এ হিসাবে তাদের মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে। তবে আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, সামাজিক মর্যাদা, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধাকেও মানদ-ে আনতে হবে। ওই বিবেচনায় বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা ৪ কোটির মতো।

তবে উল্লেখযোগ্য অংশই নিম্নমধ্যবিত্ত। এরা ছোট বেসরকারি চাকরি, ছোট ব্যবসা এবং দৈনন্দিন কাজের ওপর নির্ভরশীল। করোনার কারণে দেশ লকডাউন হওয়ায় বর্তমানে এদের বড় অংশের আয়-রোজগার বন্ধ। এতে খাবার ও বাসা ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। কিন্তু সামাজিক সম্মানের কারণে কারও কাছে টাকা-পয়সা বা খাবার চাইতে পারে না। নীরবে দিন পার করতে হচ্ছে এদেরকে।

করোনা পরিস্থিতিতে পরিচালিত এক জরিপে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক বলছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশে চরম দারিদ্র্য অবস্থা আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, আর খাবার নেই প্রায় ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে। সরকারি ছুটি বা সামাজিক দূরত্বের কারণে ৭২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন অথবা তাদের কাজ কমে গেছে। আর ৮ শতাংশ মানুষের কাজ থাকলেও এখনও বেতন পাননি।

অন্যদিকে মানুষের পারিবারিক আয় ৭৫ শতাংশের মতো কমে এসেছে। আর করোনা প্রাদুর্ভাবে ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই এবং ২৯ শতাংশের ঘরে আছে ১ থেকে ৩ দিনের খাবার। দেশের ৬৪ জেলার দুই হাজার ৬৭৫ জন নিম্ন আয়ের উত্তরদাতার মধ্যে পরিচালিত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।