সাপের জন্য মাহফুজের ভালোবাসা

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সাপের জন্য মাহফুজের ভালোবাসা

বিবিধ ডেস্ক ৫:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০২০

print
সাপের জন্য মাহফুজের ভালোবাসা

সাপ! নাম শুনলেই আঁতকে ওঠে বুক। কেউ লাঠি নিয়ে মারতে যান। কেউবা দৌড়ে পালান। তিনি এর কোনোটাই করেন না। পরম মমতায় সাপ ধরেন। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাও করেন। তারপর উপযুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় একশ’টি সাপ রেসকিউ করেছেন। ছোবলও খেয়েছেন চারবারের মতো। সর্পপ্রেমিক মাহফুজুর রহমান পড়াশোনা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, দর্শন বিভাগে।

তখন মাহফুজ ক্লাস ফোরে পড়েন। একদিন প্রাইভেট পড়ে ফিরছিলেন। ড্রেনের ওপরে একটি সাপ দেখে মায়া হল। সাপটাকে বোতলে ভরে বাসায় নিয়ে এলেন। মা, বাবা দেখে একটু অবাকই হলেন। তাকে বোঝালেন। সাপ পালার জিনিস না। এক পর্যায়ে বাবা তাকে মারধরও করলেন। এই ঘটনার ঠিক ১৫ দিন পর আরেকটি সাপ বাসায় নিয়ে আসেন। তখন আর বাবা কিছু বলেননি। মাহফুজুর রহমান জানান, তখন কোনটা বিষধর, কোনটা নির্বিষ জানতেন না। একটা অসুস্থ পেঁচাকে তিনি চিকিৎসা করে ছেড়ে দেন। অসুস্থ পশুপাখির প্রতি তার খুব মায়া। ছোটবেলা থেকেই। সাপুড়েদের সঙ্গে থেকে প্রাথমিকভাবে সাপ ধরা শেখেন। পরে প্রচুর পড়াশোনা করেন সাপ নিয়ে।

২০১৫ সালের ঘটনা। মাহফুজ তখন সরকারি মাগুরা কলেজে পড়েন। গ্রন্থাগারের সামনে আড্ডা দিতেন। একদিন দেখলেন, লোহার কোচ দিয়ে এক লোক একটা সাপকে আঘাত করল।

ভাগ্য ভালো ছিল, সাপটি কোচের দুই লোহার মাঝে পড়ে। আহত সাপটিকে নিয়ে এসে চিকিৎসা করে ছেড়ে দেন। এটিই ছিল তার প্রথম সাপ রেসকিউয়ের ঘটনা। আরেকবার প্রায় ৩০টি কোবরার বাচ্চা রেসকিউ করেন মাহফুজ। আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানুষ প্রচুর সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলত। এখন আর মারে না। তাকে খবর দেয়। সাপ ধরে এনে তিনি নিরাপদ পরিবেশে ছেড়ে দেন।

মাহফুজ বললেন, সাপ ধরার বিশেষ গাম বুট আছে। সেটা তার নেই। হুক দিয়ে সাপ ধরেন বটে। তবে তার প্রয়োজন ব্ল্যাক ক্লেইট। সাপ ধরার আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। সাপ ধরা এবং ছেড়ে দেওয়ার একটি লাইন্সেস বা পারমিশন মাহফুজের প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে সাপের মত উপকারী প্রাণী রক্ষায় দেশে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন কাজ করছেন।

এদের মধ্যে মাহফুজের সফলতা সবচেয়ে বেশি।

এলবিনো পদ্মগোখরা। অসম্ভব সুন্দর একটি সাপ। মাহফুজের সাপটি খুব ভালো লাগে। এমন একটি সাপ তিনি রাখতে পারবেন। সাপের জন্য পার্ক থাকবে। এসবই তার স্বপ্ন।