এলিফ্যান্ট রোড এবং অন্যান্য

ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬

এলিফ্যান্ট রোড এবং অন্যান্য

খোলা কাগজ ডেস্ক ১২:৩১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

print
এলিফ্যান্ট রোড এবং অন্যান্য

ঢাকা নিয়ে এখন কত নেতিবাচক খবর! অবাসযোগ্য শহরের তালিকায় নিকট অতীত থেকে বরাবরই অন্যতম শীর্ষস্থান দখল করে আছে। কিন্তু এ শহরের আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য। আজকের বিবিধ-তে আমরা সেসব খোঁজ করার চেষ্টা করেছি...

ঢাকাকে এককালে ‘বাহান্ন বাজার তেপান্ন গলির’ শহর নামেও ডাকা হতো। ঐতিহাসিকদের মতে, এ সড়ক ও স্থাপনাগুলোর নামকরণের পেছনে রয়েছে মোঘল, ফ্রেঞ্চ, ব্রিটিশ ও বাংলার নবাবদের শাসনামলের নানা ঘটনা। এখানে তেমন কিছু জায়গা এবং তার নামকরণ সংক্রান্ত ঘটনা উল্লেখ হলো...

নামকরণ যেভাবে

ঢাকার নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকে ঢাক্কা, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর, সুবাদার ইসলাম খান পর্যন্তÑনানা মিথ, ইতিহাস জড়িয়ে আছে আমাদের এই রাজধানী ঢাকার নামকরণের ইতিহাসের সঙ্গে। 

যেমন অনেকেই মনে করেন সুবাদার ইসলাম খাঁর আমলেই ঢাকার নামকরণ ‘ঢাকা’ করা হয়। তিনি যখন জিনজিরা থেকে বুড়িগঙ্গা হয়ে এখানে আসেন তখন দেখতে পান, এখানের অধিবাসীরা ঢাকঢোল পিটিয়ে উৎসবে ব্যস্ত। পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ইসলাম খাঁ ঢাকের শব্দে অভিভূত হয়ে যান। নতুন রাজধানীর সীমানা নির্ধারণ করার জন্য পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিকে তিনজন কর্মকর্তাকে প্রেরণ করেন এবং তাদের এই মর্মে আদেশ দেন যে যতক্ষণ না পর্যন্ত ঢাকের শব্দ শুনা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত যেন তারা চলতে থাকেন। তিনি এও বলে দেন যেখানে গিয়ে ঢাকের শব্দ আর শোনা যাবে না দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা রেখে সেখানেই হবে নতুন রাজধানীর সীমানা।

আর তখন ইসলাম খাঁর পালিত আজ্ঞায় এলাকাটিকে রাজধানীর মর্যাদা দেওয়া হয়। ঢাকের শব্দে ভিত্তিতে জায়গা নির্বাচন হয়েছে বলে নতুন রাজধানীর নাম হয়ে যায় ঢাকা। তবে ঢাকার নামকরণ নিয়ে নানা মত, নানা গল্প, কল্পনা, মিথ এবং ইতিহাসের বিতর্ক তো থেকেই যায়। এই যেমন, ১৫৯৪ থেকে ১৬০৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মোঘল সুবাদার শাহবাজ খাঁ এবং মানসিংহ মধ্যকার যুদ্ধের বর্ণনায় ঢাকা নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবার ইসলাম খাঁর সমসাময়িক সময়ে বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা নামের একটি অঞ্চলের অস্তিত্ব স্বীকার করেন ঐতিহাসিকরা।

পুরান ঢাকায় অবস্থিত ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে ঢাকা নামের উৎপত্তি এমন একটি কিংবদন্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। রাজা বল্লাল সেনের মা যখন বিশ্বাসঘাতিনীর অপবাদ মাথায় নিয়ে নিজ স্বামী দ্বারা নির্বাসিত, তখন হতোদ্যম মাতা আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে একটি জঙ্গলে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই জন্ম নেন বিক্রমপুরের শাসক বল্লাল সেন।

বল্লাল সেন যখন বেড়ে উঠছিলেন জঙ্গলের মধ্যে, এমন এক দিন জঙ্গলের আবৃত অবস্থায় একটি দেবমূর্তির দৃষ্টিগোচর হয় তার। তার নিপাট বিশ্বাস এ দেবমূর্তিই তাকে ও তার মাকে রক্ষা করে আসছে। এ ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে একং একে দৈব সংকেত গণ্য করে ঠিক যে জায়গায় দেবমূর্তিটি আবিষ্কার করেছিলেন তিনি, সেখানেই একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার নাম দেন ঢাকেশ্বরী মন্দির।

আর এ ঢাকেশ্বরী নাম থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তির একটি কিংবদন্তি ইতিহাসে স্থান করে নেয়। তবে ভাষাতাত্ত্বিক দিক দিয়ে দেখলে দেখা যায়, প্রাচীনকালে ঢাকা শহর তুলনামূলক উঁচু ছিল। তাই পার্শ্ববর্তী শহর সোনারগাঁ এবং বিক্রমপুরের সংযোগস্থল হিসেবে এখানে একটি পর্যবেক্ষণ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। প্রাকৃত উপভাষায় ফাঁড়িকে বলা হতো ঢাক্কা। ঢাক্কা থেকে কালক্রমে ঢাকা নামের উদ্ভব।

Dacca থেকে Dhaka

ধারণা করা হয়, ঢাক্কা বা ডাক চৌকি থেকে ‘ঢাকা’ শব্দটি এসেছে। ‘ঢাক্কা’ থেকে যে ‘ঢাকা’ শব্দটি এসছে তার একটি প্রমাণ ছিল ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত ‘ঢাকা’র ইংরেজি বানানে। তখন পর্যন্ত ঢাকার বানান ছিল ডি এ ডাবল সি এ, যার উচ্চারণ হুবহু ডাক্কা বা ঢাক্কা’ই দাঁড়ায়। প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৫ অক্টোবর ১৯৮২ সালে উৎপত্তির প্রমাণক ওই বানানকে বাতিল করে উচ্চারণানুগ নতুন বানান স্বাব্যস্ত করেন ডি এইচ এ কে এ। সেই থেকে এখন পর্যন্ত Dacca লিখিত হচ্ছে Dhaka রূপে।

আলু বাজার

আক্ষরিক অর্থে আলু বেচাকেনার বাজার হলেও এর নামের উৎপত্তির সঙ্গে আলুর কোনো রকম সম্পর্ক নেই। সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে জাফর খান ঢাকায় বাস করতে আসেন। তিনি লালবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। এ এলাকাটি তার মালিকানাধীন ছিল যা আজ ‘আলুর বাজার’ নামে পরিচিত। তার ছেলের নাম ছিল আলেয়ার খান। আলেয়ার খানের সময়ই এ বাজারের কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলমান ছিল। মোঘল সম্রাটের এর মতে এ বাজারের মূল নাম ছিল ‘আলেয়ার খানের বাজার’ যা কালের বিবর্তনে আজকে ‘আলুর বাজার’।

ইস্কাটন

ইস্কাটন শব্দটি ‘স্কটল্যান্ড’ এর একটি বিকৃত সংস্করণ। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কালে একটি গির্জা কিছু স্কটিশ প্রচারক দ্বারা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ নামের উৎপত্তি সেখান থেকেই।

কাকরাইল

১৯ শতকের শেষ দশকে, ঢাকার ব্রিটিশ কমিশনারের নাম ছিল ককেরেল। ইতিহাসবিদদের মতানুযায়ী, যেহেতু কূটনীতিকদের নামানুসারে ঢাকার সড়কের নামকরণ করার একটা প্রবণতা ছিল, সেহেতু তার নামানুসারে সম্ভবত একটি রাস্তা ছিল যার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে ওই এলাকা এই নামে পরিচিতি লাভ করে। মানুষ শেষ পর্যন্ত ককেরেলকে কাকরাইল উচ্চারণ করা শুরু করে।

চকবাজার

যেই জায়গা থেকে আমরা দারুণ সব কাবাব ও রমজানের সময় সুস্বাদু সব ইফতারি কিনে থাকি সেখানে একসময় ক্রীতদাস ক্রয়-বিক্রয় করা হতো। ১৮০৯ সালে চার্লস ডেল চকবাজার সম্পর্কিত বর্ণনায় বলেছেন‘চক’ Nakhas দ্বারা পরিচিত। এটি ২০০ ফুটের একটি বর্গক্ষেত্র এলাকা যা সূর্যাস্তের সময় জমজমাট হয়ে ওঠে। আরবিতে Nakhas অর্থ হচ্ছে ‘দাস বিক্রেতা’। মোঘল আমলে এটি ছিল দাস ব্যবসায় এবং লোকজনের আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু। এখন সেই বিনোদনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ এলাকায় তৈরি হচ্ছে মুখরোচক সব খাবার।

বেচারাম দৈউড়ি

বেচারামের নাম তালিকাভুক্ত করা হয় ১৭৯০ সালে। তবে তিনি কী করতেন সেই সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, তিনি হয়তো ওই এলাকায় বসবাসরত কোনো উচ্চপদের অফিসার বা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ছিলেন যার নামে এলাকাটির নামকরণ করা হয়।

বেগম বাজার

এ এলাকার নামকরণের পেছনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইতিহাস হলো, ১৯৩৯-১৯৪০ সালে সরফরাজ খান ঢাকার নায়েব-এ-নাজিম ছিলেন। তার মেয়ের নাম ছিল লাডলি বেগম। অনেকের মতে তার নামেই এ এলাকার নামকরণ করা হয়। বেগমবাজার মসজিদের কাছাকাছি অবস্থিত মাছের বাজারটিও তার মালিকানাধীন ছিল। এ বাজারটি ১৯৭৭ সালে অগ্নিদগ্ধ হয়। অতঃপর কিছু বর্ধিত ভাতার বিনিময়ে সরকার লাডলি বেগমের কন্যা পুন্নী বেগম ও হাজি বেগম থেকে এর মালিকানা গ্রহণ করেন।

এলিফ্যান্ট রোড

শুনতে অবাক লাগলেও, এককালে আমাদের এ আধুনিক নগরী ঢাকায় প্রচুর হাতির আনাগোনা ছিল। তবে তাদের মাঠে চরা বা গোসল করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। ১৮৬৪ সালে দুই কাউন্সিল গঠনের পূর্বে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ঢাকা দর্শন করতে আসেন। ঢাকা কমিটির সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী সে সময় হাতির পাল ঢাকায় ভয়ানক উপদ্রব করে। রমনা এলাকাটি হাতির চারণ এবং এর আশপাশের খালগুলো গোসল এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। পিলখানা থেকে রমনা পর্যন্ত হাতিদের চলার পথটি কালের বিবর্তনে ‘এলিফ্যান্ট রোড’ নামে পরচিত।`রাজধানী’ ঢাকা ১৬১০

ঢাকাকে প্রথম বাংলার রাজধানী করা হয়। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী, ১৬ জুলাই, ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবে বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর পরবর্তী শাসক রাজধানীকে ঢাকা থেকে সরিয়ে নেন।

১৬৬০

সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন। এরপর বেশ কিছুকাল ঢাকা নির্বিঘেœ রাজধানীর মর্যাদা ভোগ করার পর ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।

১৯০৫

দীর্ঘকাল পর ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা আবার তার গুরুত্ব ফিরে পায়। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয়। কংগ্রেসের বাধার মুখে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে ব্রিটিশরা আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

১৯৪৭

ভারত বিভাগের পরে ঢাকা পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসনিক রাজধানীতে পরিণত হয়।

১৯৭১

ঢাকা সর্বশেষ স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হয়। আধুনিক ঢাকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান কেন্দ্র।

ঢাকার প্রথম

মসজিদ

১৪৫৬-৫৭ সালে নির্মিত নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদই সম্ভবত ঢাকার প্রথম মসজিদ। শিলালিপি অনুযায়ী, সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে মারহামাতের কন্যা মুসাম্মাৎ বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করান। [মুনতাসীর মামুন, ঢাকা : স্মৃতি-বিস্মৃতির নগরী, পৃষ্ঠা ১৮০]। গুলিস্তান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে ৬নং নারিন্দা সড়কে এ মসজিদের অবস্থান। ঢাকায় এটিই একমাত্র মসজিদ, যার নাম রাখা হয়েছে একজন নারীর নামে।

ইদগাহ

ঢাকার প্রথম পরিকল্পিত প্রাচীন ঈদগাহ হলো ধানমন্ডি শাহী ঈদগাহ। ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ সুজার প্রধান অমাত্য মীর আবুল কাসেম ধানমন্ডি শাহী ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকায় অবস্থিত মোগল স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর অন্যতম এ ঈদগাহ।

মূলত, ঢাকার মোগল শাসক ও তাদের অমাত্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরাই এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করতেন। সাধারণ নগরবাসীরা এতে প্রবেশ করার তেমন একটা সুযোগ পেতেন না। পরে ঈদগাহটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ ঈদগাহের চার কোণে রয়েছে অষ্টাভুজাকৃতির বুরুজ এবং তিন ধাপের মিম্বর। এ ছাড়া এ ঈদগাহের দেয়ালে মোগল আমলে খোদিত শিলালিপি দেখতে পাওয়া যায়।

মন্দির

ঢাকা শহরে অবস্থিত সর্বপ্রথম মন্দির হলো ঢাকেশ্বরী মন্দির। ‘ঢাকার ঈশ্বরী’ অর্থাৎ ঢাকা শহরের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হতে এমন নামকরণ। মন্দিরটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। ধারণা করা হয়, সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন ১২শ শতাব্দীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে সেই সময়কার নির্মাণশৈলীর সঙ্গে এর স্থাপত্যকলার মিল পাওয়া যায় না বলে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন।

হাসপাতাল

মিটফোর্ড হাসপাতাল ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম আধুনিক হাসপাতাল। ঢাকার কালেক্টর এবং প্রাদেশিক আপিল বিভাগের জজ স্যার রবার্ট মিটফোর্ডের নামানুসারে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৪ সালে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তখন এই স্থানটি ‘কাটরা পাকুড়তলী, বাবুবাজার নামে পরিচিত ছিল। পূর্বে এ জায়গায় ওলন্দাজ কুঠি ছিল। প্রথম থেকেই এ হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব ঢাকা পৌরসভার অধীন ছিল।

১৮৮২ সালে ঢাকার নবাব আহসানউল্লাহ এবং ভাওয়ালের রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায়ের দানে হাসপাতালে একটি মহিলা ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৭ সালে এটি একটি প্রথম শ্রেণির হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

স্কুল

ঢাকা শহরে স্থাপিত প্রথম স্কুল হলো ‘ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল’। এ বিদ্যালয়টি পুরান ঢাকার সদরঘাটে অবস্থিত। ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই একটি ইংরেজি বিদ্যালয় হিসেবে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় স্কুলটির নাম ছিল ‘ঢাকা গভর্নমেন্ট হাইস্কুল’ এবং এর প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মি. রিজ নামের একজন ইংরেজ মিশনারি।

বাংলার স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক রায় সাহেব রত্নমনি গুপ্ত ১৮৮৮ হতে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার সময় প্রবেশিকা পরীক্ষায় ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল একাধিক্রমে আট বছর প্রথম স্থান অধিকার করে।

ঢাকাই মসলিন

ঐতিহ্যশালী ঢাকাই মসলিন ঢাকার গর্বের প্রতীক। কেবল ভারতীয় শাসকের অন্তঃপুর নয়, মসলিন মাতিয়ে রেখেছিল রোমান সা¤্রাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, চীন এবং ইউরোপের রাজা-স¤্রাটের দরবার। ১৮৫১ সালে লন্ডনের প্রদর্শনীতে মসলিন বিপুল প্রশংসা লাভ করে, সেখানকার পত্র-পত্রিকায়ও বেশ আলোচনা হয় ঢাকাই মসলিন নিয়ে। মসলিন নেই, তবে মসলিনের ঐতিহ্য নিয়ে টিকে আছে তার পিশতুতো বোন জামদানি।

লোক কিংবদন্তি আছে যে ৪০ হাত লম্বা এবং দুই হাত চওড়া মসলিন সাধারণ আংটির ভেতর অনায়াসে প্রবেশ করানো যেত। মসলিন তৈরিতে যে বিশেষ সুতা ব্যবহৃত হতো তার এক পাউন্ডের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইশ মাইল হতো।

ইরাকের মসুলে এক ধরনের সূক্ষ্ম বস্ত্র তৈরি হতো; এর সঙ্গে তুলনা করে ঢাকাই মসলিনের নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।