সাইকেলে অ্যাডভেঞ্চার  সমাজসেবা...

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৩ চৈত্র ১৪২৬

সাইকেলে অ্যাডভেঞ্চার  সমাজসেবা...

খোলা কাগজ ডেস্ক ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০

print
সাইকেলে অ্যাডভেঞ্চার  সমাজসেবা...

পড়াশোনাও করি। আবার সাইকেলও চালাই। মানুষের সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম, সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবেশ বাঁচানো কার্যক্রম, হেলমেট ও গ্লাভসের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। সচেতন করার চেষ্টা করি। কথাগুলো বলছিলেন কাজী রিফাত হাসান। দিবস নামেই সমধিক পরিচিত তিনি। তিনি একজন সাইক্লিস্ট।

পড়াশোনা করছেন ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে, ডিপ্লোমা-ইন-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। এরই মধ্যে প্রায় নয় হাজার কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণ করেছেন। ফরিদপুর সাইক্লিস্ট কমিউনিটির প্রথম জিপিএস অ্যাপ ভিত্তিক সাইক্লিং চ্যালেঞ্জ (Highest Paddler of The Month– August 2019) প্রতিযোগিতায় ২৫০২.০৩ কিলোমিটার প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। বিডি সাইক্লিস্ট কর্তৃক আয়োজিত মাসিক এন্ডোমন্ডো চ্যালেঞ্জে BDCyclist Mondo Challenge– August 2019 এ ২৫০২.০৩ কিলোমিটার চালিয়ে BDCyclists Hall of Fame August 2019 অর্জন করেন।

সাইকেল চালিয়ে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের ৯ জেলা (ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর), খুলনা বিভাগের ৪ জেলা (বাগেরহাট, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ) এবং বরিশাল বিভাগের ৪ জেলা (বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর) মোট ১৭টি জেলা সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণ করেছেন।

তিনি ফরিদপুর সাইক্লিস্ট কমিউনিটির সদস্য। বাবার নাম কে. এম. কামরুল হাসান (মিরাজ কাজী)। তিনিও একজন সাইক্লিস্ট ছিলেন। ২০১৬ সালের মে মাসে মারা যান। ২০০৬ সালের ঘটনা। দিবস তখন ছুটিতে বেড়াতে গেছেন নানাবাড়ি। সেখানে ভাড়ায় সাইকেল পাওয়া যেত। ভাড়া করা সাইকেল দিয়ে চালানো শেখেন। নিজে একটি সাইকেলের মালিক হন দিবস ২০১৯ সালে। দিবস বলেন, হাত খরচের টাকা জমিয়ে রাখতাম। জমানো টাকা আর মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে প্রথম সাইকেল কিনি। বাবা নেই। ছোট দু’ভাই আর মা। ছোট কাঁধে যেন তার বড় দায়িত্ব।

পরিবারের বড় তিনি। পড়াশোনা আর সাইক্লিং। তাও দেশের বিভিন্ন স্থানে। সমস্যা হয় না? প্রশ্নটা শুনে দিবস মুচকি হাসি দিয়ে বলেন, ‘পড়াশোনা ঠিক রেখে যাই কর কোনো সমস্যা নেই। পড়ালেখা হল ১, আর বাকি সব পারদর্শিতা ০। ১-এর পরে যত লাগাতে পারো ভালো, কিন্তু আগে ওই ১টা ঠিক রাখতে হবে।’ কথাটা শুরুতেই পরিবার থেকে আমাকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে। আমি এটাকেই মেনে চলেছি। পড়াশোনা ঠিক রেখেই সাইক্লিং করা যায়।

দিবসের মতে, সাইক্লিং একজন কিশোরকে অনেক খারাপ নেশা থেকে দূরে এবং শরীরকে সুস্থ রাখবে। সাইক্লিং শরীর তো ভালো রাখেই। উপরন্তু খোলা আকাশের নিচে, গাছে ঘেরা রাস্তায় সাইকেল চালালে প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হয়। এতে করে মাথা থেকে দুশ্চিন্তাগুলো বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে যায়। মানসিক চাপ কমানোর জন্য এটি খুব ভালো একটি উপায়। অন্য যেকোনো ব্যায়ামের চেয়ে সাইক্লিং অনেক বেশি এনার্জেটিক এক্সারসাইজ। কেবল সাইক্লিংই নয়।