অ্যাডভেঞ্চার ও ভ্রমণের নেশায়...

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৩ চৈত্র ১৪২৬

অ্যাডভেঞ্চার ও ভ্রমণের নেশায়...

খোলা কাগজ ডেস্ক ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০

print
অ্যাডভেঞ্চার ও ভ্রমণের নেশায়...

ভ্রমণকন্যা সাকিয়া হক, মানসী সাহা এবং নারীদের ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সংগঠন ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ। ভ্রমণকন্যাদের সংগঠন ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ। জিনিয়া তাবাসসুম সাইকেলে দেশ বিদেশ ভ্রমণ করেন। আবার জনকল্যাণমূলক কাজও করেন। কাজী রিফাত হাসান তরুণ সাইক্লিস্ট। সমাজকল্যাণমূলক কাজও করে। তাম্মাত বিন খয়ের বিখ্যাত সাইক্লিস্ট। এরা সবাই দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেন। এদের অ্যাডভেঞ্চার ও ভ্রমণ নিয়ে লিখেছেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

সাকিয়া-মানসীর চোখে রূপময় বাংলাদেশ

তারা দুজন একই স্কুল, একই কলেজ, একই মেডিকেল কলেজে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে চিকিৎসকের চাকরি পেয়েছেন। দুজনে বেড়ে উঠেছেন খুলনায়। আবার স্কুটিতে করে দেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ করেছেন একত্রে। স্কুলের ছাত্রীদের নারীর ক্ষমতায়ন, বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা, খাদ্য ও পুষ্টি এবং আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোসহ নানা বিষয়ে সচেতন করে তোলার কাজ করেছেন। তাদের দুজনার হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ। যা আজ বাংলাদেশের নারীদের ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সংগঠন। ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ নারীর জন্য বন্ধ জানালা খুলে দিয়েছে। এতক্ষণ যে সফল দুই নারীর কথা বলা হলো তারা হলেন ডা. সাকিয়া হক, ডা. মানসী সাহা।

সাকিয়া, মানসী দুজনেই ভ্রমণ পছন্দ করেন। সাকিয়া তখন মেডিকেলের থার্ড ইয়ারে পড়েন। একদিন ক্লাসে বান্দরবান কোথায় জানতে চাইলেন ম্যাডাম। সাকিয়া উত্তর দিলেন, উত্তর দিকে। অমনি চারদিকে হাসির রোল পড়ে গেল। এরপর ম্যাপ ঘেটে আসল চিত্রটা দেখলেন। প্রতিজ্ঞা করলেন সারা দেশ ঘুরবেন।

২০১৭ সালে সাকিয়া ভ্রমণ শুরু করলেও তা শেষ হয় কিশোরগঞ্জ জেলা ভ্রমণের মাধ্যমে ১৯ মার্চ ২০১৯ সালে। ২০১৭ সালে স্কুটি নিয়ে নারীর চোখে বাংলাদেশ প্রজেক্ট শুরু করেন সাকিয়া আর মানসী। এই প্রজেক্ট শুরু হওয়ার আগে সাকিয়ায় ভ্রমণ করেন টানা এক মাস। সঙ্গে ছিল সুইস বান্ধবী আসল। ততদিনে তার ৩৫ জেলা ভ্রমণ শেষ হয়েছে। ২০১৮-তে তা বেড়ে হয় ৫৩। বাকি জেলাগুলো ২০১৯ সালে ভ্রমণ করায় ভ্রমণকৃত জেলার সংখ্যা ৬৪-তে পৌঁছে।

সাকিয়ার কাছের বান্ধবী মানসী সাহা। দুজনে থাকতেন মেডিকেলের এক রুমে। সাকিয়াকে কাছে পেয়ে মানসীর ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। মানসী তার ছোড়দার কাছে ভ্রমণের গল্প শুনতেন। একদিন ছোড়দা এক দুর্গম লেকের গল্প শোনালেন। লেকের নাম বগা লেক।

নাম শুনেই শিহরণ জাগল। তখন অল্প কিছু মানুষ বগা লেকে বেড়াতে যেত। তখন ভেবেছিলাম, বড় হই। একদিন যেতেই হবে সেখানে। বলছিলেন মানসী সাহা। একটা দুটো করে এরই মধ্যে তার দশটি জেলা ঘোরা হয়ে যায়। ২০১৬ সালে ভ্রমণ শুরু করে ২৫ মার্চ ২০১৯ সালে তার ৬৪ জেলা ভ্রমণ শেষ হয়। কর্ণফুলী প্রেজেন্টস নারীর চোখে বাংলাদেশ প্রজেক্ট শুরু হওয়ার আগেই সাকিয়া, মানসীদের অনেক জেলা ভ্রমণ শেষ হয়। তারা দুজনে স্কুটিতে করে ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের আনাচে-কানাচে। কর্ণফুলী গ্রুপ তাদের দুটি স্কুটি কিনে দেয়।

আর অনান্য খরচপাতি নিজেরাই ম্যানেজ করেন। এ প্রসঙ্গে মানসী সাহা বলেন, ‘নিজেদের টিউশনির টাকায় পুরো কাজটি আমাদের করতে হয়েছে।‘ তবে একটা সময় এসে জ্বালানি সহায়তা পেয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে।

সাকিয়া হক বললেন, আমাদের উদ্দেশ্যই ছিল নিজের দেশ দেখা, সেই সঙ্গে স্কুলের মেয়েদের সচেতন করা। তবে আরেকটি অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল, সেটা হলো মোটরবাইকে যে নারীরাও দেশ ভ্রমণ করতে পারেন, এটা প্রতিষ্ঠিত করা। সাকিয়া হক আর মানসী সাহা হলেন প্রথম দুই নারী, যারা বাংলাদেশে প্রথম ৬৪টি জেলা ভ্রমণ করেছেন। স্কুটিতে সামনের সিটে তারা বসলেও পেছনে অন্য দুজন থাকতেন।

নারীর চোখে বাংলাদেশ’ মূলত ‘ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ ভ্রমণকন্যা’ নামের নারীদের নিয়ে গঠিত একটি ফেসবুক গ্রুপের অধীনে এ উদ্যোগ। এ পেজের সদস্যদের উদ্দেশ্য ছিল ভ্রমণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন করা। বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণে তাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন শামসুন নাহার, নিঝুম রাইফা, নুসরাত জাহান, ফারিয়া ফেরদৌস, কাজী শান্তা ইসলাম, আছমা আক্তার, নাজমুন নাহার, জান্নাতুল ফেরদৌস, মুনতাহা রহমান ও সিলভী রহমান।

ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ কমিটি
ডা. মানসী সাহা (সভাপতি), ডা. সাকিয়া হক (সাধারণ সম্পাদক), টুম্পা প্রামাণিক (সহ-সভাপতি), সামসুন নাহার সুমা (সহ-সাধারণ সম্পাদক), সিলভী রহমান, (সাংগঠনিক সম্পাদক), রাবেয়া বসরী রাইসা (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), কাজী শান্তা (ভ্রমণকন্যা কো-অর্ডিনেটর), ডা. সাদিয়াতুল মুনতাহা যিদনী (অর্থ সম্পাদক), উন্মে হাবিবা সিন্থিয়া (তথ্য ও পরিকল্পনা সম্পাদক), জয়ন্তী রানী বিশ্বাস (তথ্য ও পরিকল্পনা সহসম্পাদক), নাজমুন নাহার মুক্তা (প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), জান্নাতুল ফেরদৌস সুভা (জনসংযোগ সম্পাদক), তামান্না তাবাসসুম মিম, (জনসংযোগ সহসম্পাদক), আয়শা সুলতানা সুখী (সামাজিক মাধ্যম কো-অর্ডিনেটর), মুশফিকা রহমান নিঝুম (সাংস্কৃতিক সম্পাদক), মুনতাহা রুম্মান অর্থী (অঙ্গসজ্জা সম্পাদক), আছমা আক্তার (আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক), নুসরাত জাহান রিজভী (নারীর চোখে বাংলাদেশ ও ভলান্টিয়ার অর্ডিনেটর), প্রাপ্তী আচার্য্য (নারীর চোখে বাংলাদেশ ও ভলান্টিয়ার এসিস্ট্যান্ট অর্ডিনেটর), ফারহানা ইসলাম ফারহি (কার্যকরী সদস্য)।