বাংলাদেশের প্রতিশব্দ

ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি

বাংলাদেশের প্রতিশব্দ

আনোয়ারুল হক নিজামী ১২:৫৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২০

print
বাংলাদেশের প্রতিশব্দ

সারা জীবন বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের জন্য নানা ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম করে অবশেষে লাল সবুজের পতাকা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫২-১৯৭১ সাল ২৩ বছরের নিরবচ্ছিন্ন লড়াই সংগ্রামের ফসল মহান স্বাধীনতা। স্বাধীনতা তাই বরাবরই অমূল্য, দুর্লভ। আমরাও স্বাধীন ছিলাম না। আমাদের জন্য এ অমূল্য স্বাধীনতা এনে দেওয়ার দায়িত্ব যিনি স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নন।

১৯৭১ সালে ৭ মার্চের রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি এক হয়েছিল স্বাধীনতার জন্য। স্বপ্ন দেখেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের। কে আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল? হঠাৎ করে আসা কোনো ভিনদেশি নয়। মাটি আর মানুষের জন্য সারাটা জীবন ব্যয় করা একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবারে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছিল সেই শিশুটিই একদিন তার প্রশস্ত কাঁধে পুরো বাঙালি জাতির বোঝা তুলে নিয়েছিল।

১৮ বছর বয়সে তিনি বেগম ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৪০ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ১৯৪৩ সালে যোগ দেন বেঙ্গল মুসলিম লীগে। ১৯৪৬ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ইসলামিয়া কলেজ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের। এ সময় তিনি তার রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসনের পক্ষে কাজ করেন কলকাতায়।

১৯৪৭ সালে তিনি বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং খাজা নাজিম উদ্দীন উর্দুকে বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ১৯৪৯ সালের ২৬ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার উর্দুকে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে তিনি জেলখানায় বসে ১৩ দিনের আমরণ অনশন পালন করেন।

পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতারের আগে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তারিখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ তারিখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবার শপথ নেন।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবার শপথ নেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল ছিলেন। শেখ মুজিবের জীবন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূলত তার জীবনটাই বাঙালি জাতির ভাগ্য রচনার এক সুদীর্ঘ ফিরিস্তি।
anowar.up@gmail.com