রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬

জ্ঞানচর্চা ও ঐতিহ্যের পাঠাগার

রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার

শাহিনুল আশিক ১:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

print
রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার

‘এমন কোন দিন যায়নি, যে দিন কোনো পাঠক আসেনি। আমি আসার আগেই অনেক ছেলেমেয়ে চলে আসে বই পড়তে। মুঠোফোনে কেউ কেউ বলে মামা-চাচা, কখন আসবেন? আমি বলি আসব রে মা-বাবা, রাস্তায় আছি।’

এমনভাবে দীর্ঘ ৩৬ বছর কেটেছে লাইব্রেরি অ্যাসিস্টেন্ট শামসুল হকের (৫৫)। তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ মানুষ পত্র-পত্রিকার পড়ার জন্য আসে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। এ গণগ্রন্থাগারটি নিরাপদ আশ্রয় বলে মেয়েরা বেশি আসে। প্রযুক্তির যুগেও এখনো পাঠক টানে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারটি। প্রতিদিনের শত পাঠকে মুখরিত হয় এ জ্ঞানের বাতিঘরে। বইপুস্তকে ঠাসা ঘরটি জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে যুগ-যুগ ধরে।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারটি উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে গণগস্থারটি ১১ হাজার ৯৩৭টি বই রয়েছে। যা অন্তর্ভুক্তি রেজিস্টার অনুযায়ী। স্থান সঙ্কটের কারণে ২০০৭ সাল বই আসা বন্ধ হয়ে গেলেও ২০১৮ সালের শেষে দিকে ৫৫৪টি ও সর্বশেষ ২০২০ সালে আরও বই আসে। এখন নয়টি জাতীয় ও ১২টি স্থানীয় পত্রিকা পাঠকরা পড়তে পারেন। এছাড়া ছয়টি সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রপত্রিকা পাওয়া যায়।

লাইব্রেরি অ্যাসিস্টেন্ট শামসুল হক জানান, চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে মোট ২ হাজার ৫৩৭ জন পাঠক পাড়াশোনার জন্য এসেছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ২১৮ জন ছেলে ও ২২২ জন মেয়ে। রয়েছে ৯৭ জন শিশু পাঠক। তারা এখানে জাতীয় ও স্থানীয় খবরের কাগজগুলো পড়ে। যদিও এখানে বিভিন্ন ধরনের বইও রয়েছে। তবে বেশি পাঠক হয় খবরের কাগজ পড়ার জন্য আসে।

তবে সোনাদীঘির মোড় এলাকার সড়ক প্রশস্থ করার লক্ষ্যে দোকানপাট ভেঙেছে সিটি করপোরেশন। যদিও এই রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারটির আশপাশের দোকানপাট ভাঙা হয়েছে। গণগ্রন্থাগারটি ভাঙলে সিটি করপোরেশন অন্য জায়গা দেবে। সেখানে চালু করব।