ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বইমেলা

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

বইমেলা : দেশে ও বিদেশে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বইমেলা

স্বাতী চৌধুরী ৯:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

print
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী বইমেলা

অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমির বইমেলা সাহিত্যামোদী ও বইপ্রেমী মানুষের প্রাণের মেলা। ধীরে ধীরে এটি ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। যতদূর মনে পড়ে নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে আমি যখন শহরজীবনে পা রেখেছি তখন একুশে ফেব্রুয়ারির দিন বিকালে জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরির প্রাঙ্গণে অথবা কোনো মুক্তমঞ্চের পাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বইমেলা জমে উঠত।

মফস্বলবাসীরা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো অর্ধদিবস মেলার স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতাম আর একটা-দুটো বই কিনতাম। ২০০৭ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকি। এখানে এসেও দেখলাম একুশে ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে বইমেলা জমে ওঠে। কখনো সেটা ৩-৪ দিন স্থায়ী হয় কখনো বা সপ্তাহব্যাপী মেলা চলতে থাকে।

শহরের বই বিপণিগুলোই মূলত তাদের দোকানের বই দিয়ে জেলা শহরের মেলার স্টল সাজায়। তখন স্টলগুলো কারা তৈরি করতেন জানি না। তবে অনেক দিন যাবত দেখছি জেলা প্রশাসন স্টলগুলো তৈরি করে দেয়। পাশের মঞ্চে তাদের মনোনীত সংগঠন ও ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। কখনো কখনো স্থানীয় লেখকদের প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচনও হয়।

২০১০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চে। সে বছর প্রকাশিত আমার উপন্যাস ‘বৃহন্নলাবাসের কাল’সহ আরও কয়েকজন লেখকের গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল বইমেলাটি শুরু হয়েছে অনেক আগে। তবে ১৯৯৬ সালে সরকার ঘোষণা দেয় পয়লা জানুয়ারি থেকে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী দু-এক বছর তাই হয়। তারপর আবার একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তা বন্ধ ছিল।

তারপর থেকে আবার আগের মতো একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সপ্তাহব্যাপী মেলা হচ্ছে। মেলাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যামোদীদের সম্মিলন ঘটে। পুস্তক ব্যবসায়ীরা জানান সপ্তাহব্যাপী মেলায় তাদের বিক্রি ভালোই হয়। গত বছর বেশ ভালো বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলবে। সে জন্য জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে।