আহেদ তামিমি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৬

প্রতিবাদ মুখর পৃথিবী

আহেদ তামিমি

বিবিধ ডেস্ক ২:১৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

print
আহেদ তামিমি

বিশ্বজুড়ে গণবিক্ষোভে ফুসছে বঞ্চিত মানুষ। হংকং থেকে চিলি, ইরান, ইরাক থেকে লেবানন, কাতালোনিয়া, বলিভিয়া, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া- হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ জানাতে, বিক্ষোভে অংশ নিতে রাস্তায় নেমেছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভের ধরন এবং কারণ হয়তো ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু হাজার হাজার মাইল দূরের এসব দেশের বিক্ষোভকারীরা কিন্তু একে অন্যকে অনুপ্রাণিত করেছেন। এসব বিক্ষোভে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো নেতা ছিলেন না। কিছু কিছু বিক্ষোভকারী তাদের দেশে বিক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

 

 

১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি। প্রতিবাদ-প্রতিরোধের এক পর্যায়ে তার বাড়ির সামনে দাঁড়ানো ইসরায়েলি এক সৈন্যের গালে সপাটে চড় বসিয়ে দেন।

তামিমির সেই চড় মারার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। কোনো এক শুক্রবার। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে জুমার নামাজের পর আল-আকসা মসজিদের বাইরে এবং গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মুসল্লি।

বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনী বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ইসরায়েলি বাহিনীর কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেটের জবাবে পাল্টা পাথর নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ বিক্ষোভ ঠেকাতে পশ্চিমতীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করল ইসরায়েল। ১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমিও প্রতিবাদে অংশ নেন। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে তামিমির পরিবারের এক সদস্যকে মাথায় গুলি করেন ইসরায়েলি সেনারা। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কিশোরী তামিমি, সপাটে চড় দিয়ে বসেন এক সৈনিকের গালে। এ দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইসরায়েলি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তামিমি ও তার ২১ বছরের চাচাতো বোনকে অপহরণ করে। তাদের খবর নিতে গেলে তামিমির মাকেও আটক করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর প্রতিবাদী কিশোরী আহেদ আত তামিমিকে নিয়ে তোলপাড় চলতে থাকে পৃথিবীজুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ব্রিটিশ মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্র তামিমির নাম। তামিমির গ্রেফতারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। গ্রেফতারকৃত এই ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমির নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান ব্রিটিশ এমপিরা। সোশ্যাল মিডিয়ার পর খবরটি প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের শিরোনাম হলে ইসরায়েলিদের কাছে তা অপমানকর বলে বিবেচিত হয়। ইসরায়েলি সেনারা দ্রুতই প্রতিক্রিয়া জানায়। আহেদ তামিমিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। আটকাবস্থায় থাকা তামিমিকে দেখতে গেলে তার মাকেও গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার পর তামিমি বীর হিসেবে অভিহিত হচ্ছে। তার ছবি নিয়ে কার্টুন এবং আরবি ও ইংরেজি ভাষায় স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরি হয়েছে। জর্ডানের প্রিন্স আলি বিন হুসেইন ফিলিস্তিনি এই কিশোরীর প্রশংসা করে টুইটারে ছবি প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে তামিমির মুক্তির দাবি জানান যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন।

জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠকের মন্তব্যে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তিনটি ছবিকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মধ্যে রয়েছে তামিমির ঝড় তোলা সেই প্রতিবাদের ছবি। ঘটনার সূত্রপাত ইসরায়েলি সেনার গালে চড় মারা থেকে হলেও তামিমি কিন্তু অনেক আগে থেকেই তার আন্দোলন শুরু করেছিল। ২০১৪ সালে ইসরায়েল সৈন্যরা তার ভাইকে গ্রেফতার করার পর সে বেশ স্পর্ধা দেখিয়েছিল। সে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তখনকার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তামিমির সাহসিকতার অনেক প্রশংসা করেছিলেন। আর তুরস্কের ইস্তাম্বুল বাসাখেইর নগরী তাকে ‘হানজালা কারেজ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার দিয়েছিল।