বাহারি শীতের পিঠা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬

বাহারি শীতের পিঠা

বিবিধ ডেস্ক ৩:০৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

print
বাহারি শীতের পিঠা

শীতের পিঠা-পুলি বাঙালির আদি খাদ্য সংস্কৃতির অংশ। প্রতিবছরই আমাদের দেশে শীতকালে দেশজুড়ে পিঠা তৈরির উৎসব পড়ে যায়। তবে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে ধুম পড়ে যায় পিঠা বানানোর। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা সন্ধ্যায় গাঁয়ের বধূরা চুলোর পাশে বসে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অতিথি, বিশেষ করে জামাইদের দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ানো হয়ে থাকে। আর এখন শুধু গ্রামে নয়, শহরেও পাওয়া যায় শীতের পিঠার সুবাস-

নামকরণের কারণ
ভাপা পিঠার নাম কেন ভাপা পিঠা হলো? কিংবা নকশি পিঠার নাম কেন নকশি পিঠা? কখনো এমন প্রশ্ন জেগেছে? অনুসন্ধানী মনে জাগতেই পারে প্রশ্ন। কারণ, মানুষ তো ভোজনরসিকের পাশাপাশি কৌতূহলীও। এখানে কয়েকটি পিঠার নামকরণের কারণ বলা হলো-

চালের গুঁড়া, নারকেল, খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো হয় ভাপা পিঠা। গোল আকারের এ পিঠা পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ঢাকনা দেয়া হাঁড়ির ফুটন্ত পানিতে ভাপ দিয়ে তৈরি করা হয়। এ কারণেই এর নাম ভাপা পিঠা। গুড় গোলানো চালের আটা তেলে ছেড়ে দিয়ে যে পিঠা তৈরি করা হয়, তার নাম তেল পিঠা। চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হয় চিতই পিঠা।

অতি সাধারণ এই পিঠাটি গুড় বা ঝাল শুঁটকি ভর্তা দিয়ে খেতে খুবই মজা। এই চিতই পিঠাকেই সারা রাত দুধে বা গুড়ের রসে ভিজিয়ে তৈরি দুধ চিতই বা রস পিঠা।

আরেকটি চমৎকার পিঠা হলো নকশি পিঠা। এই পিঠার গায়ে বিভিন্ন ধরনের নকশা আঁকা হয় বা ছাঁচে ফেলে পিঠাকে নানা রকম নকশার আদলে তৈরি করা হয় বলেই এ পিঠার এমন নাম।

নকশি পিঠা তৈরির জন্য প্রথমে আতপ চালের গুঁড়া বা আটা সেদ্ধ করে মণ্ড তৈরি করা হয়। এই মণ্ড বেলে মোটা রুটির মতো তৈরি করে তার ওপর চাঁদ, তারা, মাছ, গাছ, ফুল, লতাপাতা ইত্যাদির নকশা করা হয়। হাতের বদলে ছাঁচ দিয়ে পিঠাতে নকশা আঁকা হয়। ছাঁচগুলো সাধারণত মাটি, পাথর, কাঠ বা ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। এসব ছাঁচের ভেতর দিকে নকশা আঁকা থাকে।

গান ও কবিতায় জড়িয়ে...
বাংলা সাহিত্যে ও গানে জড়িয়ে আছে শীতের পিঠা। কবি সুফিয়া কামাল পিঠা নিয়ে ‘পল্লী মায়ের কোল’ কবিতায় লিখেছেন ‘পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসি খুশিতে বিষম খেয়ে, আরও উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।’

কৃত্তিবাসের ‘রামায়ন’-এ যেমন বাঙালির খাদ্য তালিকায় ‘দধি পরে পরমান্ন পিষ্টকাদি যত’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। তেমনি মহাভারতে দময়ন্তীর বিবাহভোজের বিবরণেও দেখা যায় ‘সুমিষ্ট পিষ্টক এবং দই’-এর কথা। ময়মনসিংহ গীতিকায় ‘কাজলরেখা’- পিঠা হয়ে ওঠে অমৃত সমান। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় মাটির গান ভাওয়াইয়া গানেরও পিঠার প্রভাব পড়েছে- ‘মনটাই মোর পিঠা খাবার চাই।’

ঈশ্বরচন্দ্র তো শীতের পিঠা খেতে একবার গ্রামের বাড়িতে যেতে না পেরে আক্ষেপ করে বলেই ফেলেছিলেন, ‘এবার বছরকার দিনেরে ভাই জুটলো নাকো পুলি পিঠে।’ ‘পান পানি পিঠা, এই তিনই শীতে মিঠা’-এই প্রচলিত প্রবচনেই প্রমাণ করে পিঠার ব্যাপারে শীতকালই শ্রেষ্ঠ।