শীত আসছে ধেয়ে

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শীত আসছে ধেয়ে

বিবিধ ডেস্ক ১:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৯

print
শীত আসছে ধেয়ে

শীত নামছে পৃথিবীজুড়ে। নানা দেশে এর নানান আমেজ। আমাদের দেশে শীত মানে যেমন পিঠাপুলি, আত্মীয় সমাগম; তেমনিভাবে অনেক দেশ আছে, শীত মানে আলাদা উৎসব। হিমাঙ্কের নিচে যেসব দেশের তাপমাত্রা তাদের আছে নানা গল্প, দারুণ সব উদযাপন। তৈরি হয় বরফের ভাস্কর্য, ঘরবাড়ি, হোটেল, পার্ক আরও কত কী!

নিম্নতম তাপমাত্রা

পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে অ্যান্টার্কটিকার কেন্দ্রে। সেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ৯৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (-৯৩.২)। বাস্তবে এ তাপমাত্রায় ফুটন্ত পানিও মুহূর্তেই বরফ হয়ে যাবে। অ্যান্টার্কটিকার বাইরেও পৃথিবীতে আছে কিছু শীতলতম অঞ্চল-

ভস্তক, রাশিয়া
ভস্তক অত্যন্ত শীতলতম স্থান হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। ১৯৮৩ সালের ২১ জুলাই রাশিয়ার ভস্তক স্টেশনে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ছিল -৮৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা এখন পর্যন্ত পাওয়া পৃথিবীর ভূ-ভাগের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

এইসমিত্তি, গ্রিনল্যান্ড
এখানকার তাপমাত্রা শীতকালে মাইনাস ৮৫ থেকে ২৭ ডিগ্রির ভেতর থাকে। জুলাই মাসকে আনুমানিকভাবে উষ্ণতম সময় ধরা হয়। কিন্তু তখনো এর তাপমাত্রা থাকে ১০ ডিগ্রি, যা আসলে উষ্ণতম নয়। ফেব্রুয়ারির শীতল সময়ে এখানকার তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৫৩।

এস্তোনিয়া
ফিনল্যান্ড এবং বাল্টিক সি-এর মাঝখানে অবস্থিত এস্তোনিয়া। শীতকালজুড়ে এখানে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মাইনাস ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমকালে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ওয়াইময়াকন, রাশিয়া
১৯৩৩ সালে একবার এখানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল মাইনাস ৯০ ডিগ্রি। এ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, গ্রীষ্ম মৌসুমে এ আবহাওয়াই ৫০ ডিগ্রির ওপরও হতে পারে।

ক্রিক, আলাস্কা
১৯৭১ সালে রজার্স পাস বিটের কারণে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি হয়। সত্তরের দশকে সেখানে কয়েক হাজার জনসংখ্যা ছিল। এ এলাকায় পাইপলাইন নির্মাণের জন্য যারা বসবাস করেছিল, তারা কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় চলে যায়।

তুষারমানবী
স্রোনোম্যান বা তুষারমানব হলো মানুষের এমন অবয়ব যা বরফ দিয়ে তৈরি। পৃথিবীজুড়ে যেসব দেশে তুষারপাত ঘটে, সেখানের বাচ্চাদের তো বটেই, বড়দের জন্যও খুব আনন্দের বিষয় এ তুষারমানব।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তুষারমানব ছিল আসলে তুষারমানবী! এটিকে ২০০৮ সালে মাইনের বেথনেলে তৈরি করা হয়। উচ্চতায় ছিল ১২২ ফুট লম্বা এবং এর নাম দেওয়া হয়েছিল অলিম্পিয়া।

এটি তৎকালীন মার্কিন সিনেটর অলিম্পিয়া স্নোয়ীর সম্মানে নির্মাণ করা হয়েছিল। অবশ্য সবচেয়ে বড় তুষারমানবের রেকর্ডটিও রয়েছে বেথনেলের হাতে। ২০০৯ সালে তৎকালীন মাইনের গভর্নরের সম্মানে তারা একটি বিশাল তুষারমানব তৈরি করে। এর নাম পাহাড়ের রাজা অ্যানগাসের নাম অনুসারে দেওয়া হয় ‘অ্যানগাস কিং’, যার উচ্চতা ছিল ১১৩ ফুট ৭ ইঞ্চি।

অন্যদিকে পশ্চিম লন্ডনের জাতীয় পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারের গবেষকরা ২০০৯ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র তুষারমানবটি তৈরি করেন। এটি লম্বায় ছিল মাত্র ০.০১ মিলিমিটার। গবেষকরা একে ন্যানো টেকনোলজির মাধ্যমে তৈরি করেছিলেন।

আইস হোটেল
শীতকালে তুষারে ঢাকা পড়ে পৃথিবীর অনেক অঞ্চল। সে সময় ওই অঞ্চলগুলোতে গড়ে তোলা হয় সম্পূর্ণ বরফের তৈরি হোটেল। কানাডা, ফিনল্যান্ড, জাপান, নরওয়েসহ বিশ্বজুড়ে এমন হোটেল আছে বেশ কয়েকটি। বরফের হোটেলগুলো মূলত ক্ষণস্থায়ী। শীতের সময়টিতে প্রতিবছরই নতুন করে তৈরি করতে হয় এসব হোটেল। হোটেলের সবকিছুই বরফ ও তুষারে তৈরি। বিছানা, টেবিল, চেয়ার, এমনকি বাথরুমও শুভ্র তুষারের অপূর্ব সৃষ্টি।

এ ছাড়াও হোটেলের দেয়াল ও ছাদে থাকে চমৎকার বরফের নকশা। সঙ্গে শুভ্র বরফের গায়ে থাকে নানা রঙের আলোর ঝলকানি। ১৯৮৯ সালে প্রথম আইস হোটেল তৈরি করা হয় উত্তর সুইডেনের ইয়ুকাসিয়ার্ভি গ্রামে। বিশাল এ হোটেলে রয়েছে ৬৫টি কক্ষ। শুধু বিছানার জন্য জাজিম আর বলগা হরিণের চামড়া ব্যবহার করা হয়েছে।

এখানে রাতে থাকা যায় ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। শীতের শুরুতে শতাধিক ডিজাইনার ঘরগুলোর জন্য নকশার প্রস্তাব করেন। বাছাই করা নকশায় নভেম্বর থেকে প্রায় ১০০ জনের একটি দল হোটেলের কাজ শুরু করে। এতে ব্যবহৃত হয় প্রায় ৩৫ হাজার টন বরফ ও তুষার। তুষার শিল্পীরা এখানে প্রখ্যাত ভবন ও ভাস্কর্যের অনুলিপি তৈরি করেন। হোটেলের নয়নাভিরাম সেতুগুলোও বরফের তৈরি। সামনে থাকা সুবিশাল ভাস্কর্যগুলো রাতের বেলায় রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত করা হয়।


এস্কিমোদের বরফ জীবন
উত্তর মেরুর বরফ সমুদ্রে দিনরাতের হিসাবটা একেবারেই ভিন্ন। ৬ মাস দিন, ৬ মাস রাত। সেখানে বসবাস করা মানুষ বাড়ি বানায় বরফ দিয়ে। সে বাড়ি গলে যায় গ্রীষ্মকাল এলে। খাবার বলতে কাঁচা মাংস, মাছ আর কিছু ঘাস। পশুর চামড়া তাদের পোশাক। এরা হলো এস্কিমো বা ইনুইট জাতির মানুষ। এখানে গ্রীষ্মকাল আর শীতকাল ছাড়া আর কোনো প্রধান ঋতু নেই। উত্তর মেরুতে গ্রীষ্মকাল থাকে ১৮৭ দিন। এ সময় ২৪ ঘণ্টাই সূর্য থাকে আকাশে। এ সময় দিন থাকে একটানা। শীতকালের ব্যাপ্তি ১৭৮ দিন। এ সময় একটানা রাত থাকে এখানে।

মহাসমুদ্রের বুকে গেঁথে আছে উত্তর মেরু। ওপরে পুরু বরফের আস্তরণ। আর নিচে ছুটছে বিশাল সাগর। সেখানে মাছগুলো দিব্যি বেঁচে আছে। বিমান দিয়ে দিনের পর দিন উড়ে গেলেও বরফ সমুদ্রের সীমানা পাওয়া যায় না। আর্কটিকের বরফের ছোট-বড় দ্বীপগুলো ভেসে চলে গ্রীষ্মে। আর শীতে এসে জমে দাঁড়িয়ে যায়।

সারা বছরই এই অঞ্চল ঢাকা থাকে বরফে। তাই চলাচল খুবই বিপজ্জনক। এই বরফ এলাকায় এখনো যোগাযোগের অন্যতম বাহন হলো নৌকা এবং কুকুরে টানা স্লেজ গাড়ি। এ গাড়িকে তারা বলে কামুতিক।


আইসল্যান্ড বরফাবৃত নয়!
অনেকেরই ধারণা, দেশটি বরফাচ্ছাদিত বলেই তার নাম হয়েছে আইসল্যান্ড। বিষয়টা আসলে তা নয়। সবুজে ঘেরা কোনো জায়গার নাম যেমন গ্রিনল্যান্ড নয় একইভাবে আইসল্যান্ডও বরফাবৃত নয়। বরং উল্টো গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ ভাগ অঞ্চলই স্থায়ী বরফে আবৃত আর আইসল্যান্ডের মাত্র ১১ ভাগ অংশ বরফে ঢাকা। গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের এই বিপরীতধর্মী নাম ও বৈশিষ্ট্য খুব স্বাভাবিক কারণেই মানুষের কৌতূহলের কারণ হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, কেন এমন হলো? ৯ম শতকে ভাইকিংরা যখন প্রথম এই ভূখ- দুটিতে পা রাখে, তখনই নিজেদের সুবিধার জন্যই তারা এই চালাকিটা করেছিল।

অর্থাৎ ভাইকিংরা সবুজ ভূখ-টির নাম দিল আইসল্যান্ড। কারণ উর্বর ও অনুকূল আবহাওয়ার অঞ্চলটি যেন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু বা খুব বেশি লোকারণ্যে পরিণত না হয়। অন্যদিকে কঠিন বরফে আবৃত ভূখ-টির নামকরণ করা হলো গ্রিনল্যান্ড। নামকরণের এই উপাখ্যান লোকগাথা ও উপকথার মতো প্রচলিত। নরওয়েজিয়ান ভাইকিংদের প্রথা ছিল, প্রথমে যা তাদের দৃষ্টিগোচর হবে, সেই অনুসারে তার নামকরণ করা হবে। ভূখণ্ডের নামকরণের ক্ষেত্রে শেষে শুধু ‘ল্যান্ড’ যুক্ত করে দিলেই হলো। যেমন বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ভাইকিং এরিক দ্য রেডের ছেলে লিফ এরিকসন কানাডার একটি অঞ্চলের নামকরণ করেছিল ভিনল্যান্ড। সম্ভবত যে অংশে এরিকসন প্রথম নোঙর করেছিলেন সেখানে প্রচুর বন্য আঙুর (ঠরহ) দেখতে পেয়েছিলেন। তাই এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

উত্তর আটলান্টিক সাগরের একটি দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ড। মোট আয়তন ১,০২,৭৭৫ বর্গকিলোমিটার। উপসাগরীয় প্রবাহের দরুন আইসল্যান্ডের সাধারণ তাপমাত্রা যথেষ্ট উষ্ণ। বর্তমানে আইসল্যান্ডের তাপমাত্রা ফেব্রুয়ারিতে সাধারণত গড়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও জুলাই থেকে আগস্টে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। আইসল্যান্ড একসময় ছিল বিরান ভূমি। ভাইকিংদের হাত ধরে সেখানে জনপদ গড়ে উঠেছিল। একইভাবে ভাইকিংরা বিরোধী দলগুলোকে তাদের সবুজ দ্বীপ থেকে আরও দূরে সরিয়ে রাখতে প্রচার করেছিল, দূরে দারুণ সুন্দর সবুজ ও বিশাল একটি দ্বীপ রয়েছে।

আসলে বিশাল এ দ্বীপটি ছিল বরফে ঢাকা ও খুবই প্রতিকূল ভূখণ্ড। এই বিশাল দ্বীপটিই আজ গ্রিনল্যান্ড নামে পরিচিত। ২১,৬৬,০৮৬ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে থাকা গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ। গ্রিনল্যান্ড যদিও উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত কিন্তু দ্বীপটির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ইউরোপের হাতে। গ্রিনল্যান্ডের তাপমাত্রা আজকে যত কম, একসময় এত হিমশীতল ছিল না। বরফ ও শামুকের খোলসের প্রাপ্ত অংশ নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০০-১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ অংশ বর্তমানের তুলনায় অনেক উষ্ণ ছিল।

হার্বিন বরফ উৎসব
চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর হার্বিনে উদযাপিত হয় এমন উৎসব। প্রতিবছর জানুয়ারির ৫ তারিখ থেকে হার্বিন প্রদেশের হেলোজিঙ্গ শহরে ‘হার্বিন ইন্টারন্যাশনাল আইস অ্যান্ড স্নো স্কাল্পচার ফেস্টিভ্যাল’ নামে এটি চলে ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত। উৎসবের গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৯৬৩ সালে। তবে টানা আয়োজিত হচ্ছে ১৯৮৫ সাল থেকে। চীনের হারবিন শহর বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছে এই উৎসবের জন্য। বছরের শুরুতেই চীনের উত্তরাঞ্চলের এই শহরের তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


এ জন্য হারবিনকে বলা হয় বরফের শহর। উৎসবকে ঘিরে ছয় লাখ বর্গমিটার এলাকায় তৈরি করা হয় বিশ্বের নানা বিখ্যাত নিদর্শনের ভাস্কর্য। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও প্রায় কোটি দর্শনার্থীর আগমনে চাঞ্চল্য ফিরে আসে শহরজুড়ে। ভাস্কররা বরফের খাঁজ কেটে তৈরি করেন নানা মুগ্ধকর স্থাপনা। রাতে এসব ভাস্কর্যে জ্বালানো হয় রঙিন প্রদীপ। শহরটিকে তখন মনে হয় কোনো রূপকথার নগরী। হারবিন উৎসবে থাকে নানা আয়োজন।

তার মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হলো বরফের অট্টালিকা আর স্থাপত্য। এ ছাড়া থাকে তুষার দিয়ে গড়া পৌরাণিক সব চরিত্র, বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব কিংবা প্রাচীন প্রাসাদ। সোংহুয়া নদী থেকে দুই-তিন ফুট চওড়া বরফের চাঁই এনে তৈরি করা হয় অট্টালিকাগুলো। অট্টালিকাগুলো দাঁড়িয়ে গেলে সাজানো হয় বর্ণিল আলো দিয়ে। ব্যবহার করা হয় লেজার।

বাংলাদেশের সর্বনিম্ন
বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে।

এর আগে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে, সেটি ছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তুষারাবৃত পার্ক

প্লিটভিস ন্যাশনাল পার্ক
একটি অন্যটির জলপ্রপাতের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে বরফে জমে আছে ১৬টি হ্রদের রাশি। প্লিটভিস ন্যাশনাল পার্ক হলো পর্যটকদের জন্য ক্রোয়েশিয়ার অন্যতম আকর্ষণ। শীতকালে এর চারপাশ যেন মরুভূমির মতো দেখায়। তবে ঝর্ণাগুলো যে বরফে জমে যায়, সেই অপূর্ব দৃশ্য দেখার জন্য হাজারো পর্যটক সেখানে গিয়ে ভিড় করে।

জিগোকুদানি মাঙ্কি পার্ক
জিগোকুদানি শীতকালে জাপানের সবচেয়ে চমকপ্রদ প্রাকৃতিক দৃশ্যের জায়গা। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য অন্য সব সৌন্দর্য থেকে একে ভিন্নতা দেয়। কারণ তখন সেখানে জাপানে বসবাসকারী ম্যাকাক (বানর জাতীয় প্রাণী বিশেষ) অথবা স্নো মাঙ্কি বা তুষার বানরেরা ঝর্ণার ধোঁয়া ওঠানো গরম পানিতে স্নান করে।

বানফ ন্যাশনাল পার্ক
কানাডার বানফ পার্কের মূল আকর্ষণ মোরেন হ্রদ। লুইস হ্রদ (এটিও বানফ ন্যাশনাল পার্কের ভেতরে অবস্থিত) থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ হ্রদের স্বচ্ছ টলটলে পানিতে ১০টি পর্বত শৃঙ্গের চূড়ার তুষারাবৃত উপত্যকার প্রতিফলন ঘটে। এ দৃশ্যটি এতটাই সুন্দর, ১৯৭০ সালের দিকে কানাডার ২০ ডলারের ব্যাংক নোটে এ ছবিটি ছাপা হতো।