মনের মানুষ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

লালন বলে জাতের কী রূপ

মনের মানুষ

বিবিধ ডেস্ক ২:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

print
মনের মানুষ

জনপ্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মনের মানুষ’ উপন্যাসকে অবলম্বন করে আরেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ ছবি তৈরি করেছেন, নাম দিয়েছেন উপন্যাসের নামে ‘মনের মানুষ’। ছবিটি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় ২০১০ সালের ৩ ডিসেম্বর দুই বাংলায় একইসঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল।

মুক্তি পাওয়ার আগেই ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ৪১তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার ‘গোল্ডেন পিকক’ পায় মনের মানুষ। ‘বিস্ময়কর চালিচ্চিত্রিক সৌন্দর্য এবং ঘৃণা-ক্লেদে পূর্ণ আজকের পৃথিবীতে ভালোবাসার আন্তরিক চিত্রায়নের জন্য’ মনের মানুষকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অর্থাৎ লালন সাঁইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়া আর ছিলেন- রাইসুল ইসলাম আসাদ, চঞ্চল চৌধুরী, শুভ্র কুণ্ডু, পাওলি দাম, প্রিয়াংশু চ্যাটার্জী, তাথৈ, নাউফেল জিসান, চম্পা, হাসান ইমাম, শাহেদ আলীসহ আরও অনেকে।

‘মনের মানুষ’-এর প্রথম দৃশ্যটাতে নদীর ওপারে দিগন্তরেখায় সূর্যাস্ত দেখা যায়। ভেসে যাচ্ছে একটি কলাগাছের ভেলা। সুতির মশারির নিচে একটি মৃতদেহ শোয়ানো। অস্পষ্ট মৃতদেহ নিয়ে যখন ভেলা পশ্চিম দিগন্তে মিলিয়ে যায়, তখন ভেসে আসে আজানের ধ্বনি। ক্যামেরা জলের লেভেলে। এই মৃতদেহ কার প্রতীক? পরের দৃশ্য, হাউসবোটে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর স্কেচ আঁকছেন যার, তার বয়স হয়েছে ঢের। বাবরি চুল যেন উপচে পড়ছে, বাঁ হাতে আলগোছে লাঠি ধরা। পোঁটলা থেকে একতারার অংশ উঁকি মারছে। বার্ধক্য তার সর্বাঙ্গে, তবু চোখে কৌতুক। বসে আছেন। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ বললেন, ‘আপনার মতো সাধকের গান নিয়ে আমাদের পরিবারে চর্চা শুরু হয়েছে। এবারে আপনার ছবি দেখলে সবাই খুব উল্লসিত হবে।’

এই লালন ফকিরকে নিয়ে গৌতম ছবি এঁকেছেন সেলুলয়েডে। প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং পরিশ্রমের মিলনে। তথাকথিত বাংলা ছবির জাত এবং গড়ন থেকে ‘মনের মানুষ’ আলাদা। গান এবং গল্প মিলেমিশে ছবিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, কিন্তু প্রচলিত পথ ধরেনি।

বাংলা ছবিতে এই কিছু দিন আগেও চুম্বন প্রায় নিষিদ্ধ ছিল। ক্যামেরায় সরাসরি না দেখিয়ে জলে প্রতিবিম্ব ফেলে দেখানো হতো। দেখে মনে হতো সব কাচের মানুষ। অতি প্রয়োজনেও নায়ক-নায়িকা শরীরের চাহিদার কথা বলবে না। অবশ্য বলার অনুমতি সেন্সর বোর্ড দিলে অনেক পরিচালক পর্ন ফিল্ম বানাতে তৎপর হতেন। ‘মনের মানুষ’-এ সাহসী গৌতম এমন একটি দৃশ্য তৈরি করেছেন যা কোনো ভারতীয় পরিচালক এখনো পর্যন্ত ভাবতে পারেননি। মধ্যরাত্রে কমলী এসেছে লালনের ঘরে। লালনকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো আদর করতে করতে খেপে ওঠে সে, ‘কী হইল, তুমি কি পাথর? কামনাবাসনা নাই?’

লালন বলেন, ‘থাকবে না ক্যান? সব মাইনষের যেমন থাকে...!’ কমলীর মুখ নিচে নামে। ক্যামেরা তখন লালনের বুকে। কমলীকে দেখা যায় না। কিন্তু তার হাসি, আবিষ্কারের হাসি উছলে ওঠে। সে মুখ তুলে বলে, ‘তোমার বাসনা আছে ষোলো আনা। তুমি ভাবের ঘরে চুরি কর। আমারে শান্ত করো সাঁই।’ লালন বলেন, ‘শরীর জাগে শরীরের নিয়মে...মন যদি না জাগে!’

আমরা কোথাও অশ্লীলতার গন্ধ পেলাম না। জানলাম বাংলা ছবি সাবালক হয়ে গেছে। এই ছবির ক্যামেরায় গৌতম ছবি তোলেননি, এঁকেছেন।