লালন ও রবীন্দ্রনাথ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

লালন বলে জাতের কী রূপ

লালন ও রবীন্দ্রনাথ

বিবিধ ডেস্ক ২:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

print
লালন ও রবীন্দ্রনাথ

লালন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখোমুখি সাক্ষাৎ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ আছে। লালন শাহ ১৮৯১ সাল পর্যন্ত বেঁচেছিলেন। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশুনা করতে কুষ্টিয়ায় আসা শুরু করেন ১৮৯০ সালের শেষদিকে। সে হিসেবে তাদের দেখা হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। ড. আনোয়ারুল করীম, মুহাম্মদ আবুতালিব প্রমুখ গবেষকরা সাক্ষাৎ লাভের পক্ষেই অভিমত দেন। ঘটনা যাই হোক, রবীন্দ্র রচনায় লালনের গানের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লালন ফকিরের ২০টি গান প্রকাশ করেছিলেন। যা প্রবাসী পত্রিকায় হারামনি বিভাগে প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তৃতায় লালনের ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ গানের ইংরেজি অনুবাদ বিদেশি শ্রোতাদের শুনিয়েছিলেন।

বলা হয়ে থাকে, লালনের গান রবীন্দ্রনাথকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে’।

ঠাকুর পরিবারে লালন শাহের আসা-যাওয়া ছিল-এমনটাও বলছেন কিছু কিছু গবেষক। রবীন্দ্রনাথের জ্যোতিদার (জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর) আঁকা লালনের ছবিটি লালনের জীবিত অবস্থার একমাত্র প্রতিকৃতি। বৃদ্ধ লালন একটা চেয়ারে সামনের দিকে ঝুঁকে বসে আছেন!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার এক লেখায় বলেছেন ‘লালন ফকির নামে একজন বাউল সাধক হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের সমন্বয় করে কী যেন একটা বলতে চেয়েছেন আমাদের সবারই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’ ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়/ধরতে পারলে মনো-বেড়ি দিতাম পাখির পায়।’

লালনের এই গানটি শুনে রবীন্দ্রনাথ এমনই মুগ্ধ হলেন, দেহতত্ত্বের এ গানটিকে রবীন্দ্রনাথ ইংরেজিতে অনুবাদ করলেন। ১৯২৫ সালের ভারতীয় দর্শন মহাসভায় ইংরেজি বক্তৃতায় এই গানের উদ্ধৃতিও দিলেন রবীন্দ্রনাথ।

লালনের সঙ্গে দেখা না হলেও লালন-অনুসারীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে কবির এ ব্যাপারে কণামাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। কবির এক চিঠিতে পাওয়া যায়, ‘তুমি তো দেখেছ শিলাইদহতে লালন শাহ ফকিরের শিষ্যদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমার কিরূপ আলাপ জমত। তারা গরিব। পোশাক-পরিচ্ছদ নাই। দেখলে বোঝার জো নাই তারা কত মহৎ। কিন্তু কত গভীর বিষয় সহজভাবে তারা বলতে পারত।’

লালন গীতির কোনো লিখিত রূপ লালন সাঁইয়ের স্বহস্তে না থাকার কারণে তার শিষ্যদের কণ্ঠে বা খাতায় মূল ভাবাদর্শের রূপখানি অনেকাংশে বিকৃত হয়ে গেছে বলে অনেকে মনে করেন। এমনকি তার দেহান্তরের পরে বহু সংগ্রাহক ও সংকলকরাও সংশোধনের নামে যথেচ্ছ বিকৃত ঘটিয়েছেন।

তথাপি লালন ভাবাদর্শে বিশ্বাসীরা লালন সংগীতকে, তার দর্শনকে আবৃত রেখে ধরে রাখার প্রচুর শ্রমব্যয় করেছেন। সেই ফকির লালন শাহের জীবনকাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সেসব জ্ঞানী অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিরা কর্ম প্রয়াস চালিয়ে আসছেন।