স্মরণোৎসব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

লালন বলে জাতের কী রূপ

স্মরণোৎসব

বিবিধ ডেস্ক ২:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

print
স্মরণোৎসব

ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমার তিথিতে, দোল পূর্ণিমায় লালন ফকির তার আখড়ায় সাধুসঙ্গ করতেন। কালের বিবর্তনে আজ তা লালন স্মরণোৎসবে রূপ নিয়েছে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটে।

আসেন সব শ্রেণির মানুষ। লালনের যারা অনুসারী তারা আসেন, আসেন সাধারণ ভক্তরা। এটি তখন উৎসবের কেন্দ্রে পরিণত হয়। তিন দিন সারাক্ষণ মেলা চলে। মেলায় হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে দোকানিরা বসে থাকেন।

স্থানীয় লোকের ধারণা এখানে কোটি টাকার ব্যবসা হয়। গ্রাম বাংলার মেলার সঙ্গে এর সাদৃশ্য আছে। গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রীও পাওয়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আর রাজশাহী থেকে কালাই রুটির দোকানিরা আসেন। বসে বাতাসার দোকান, জিলাপি আর পাপরের দোকান।

বিভিন্ন বয়সের লোকের সমাবেশ ঘটে, নারী শিশুরাও পিছিয়ে থাকেন না। মেলার কদিন লালন ফকিরের সমাধিতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। আলোকসজ্জা করা হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় লালন মঞ্চে আলোচনা হয়। চারদিকে রঙিন বাতি জ্বালানো হয়। লালন গবেষকরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

তারপর শুরু হয় সংগীত পরিবেশনা। খ্যাতিমান শিল্পীরা আসেন। তাদের পাশাপাশি সাধকরাও গান পরিবেশন করেন। ভোর পর্যন্ত চলে এ অনুষ্ঠান। সকালের দিকে লোকসমাগম কম থাকে। দুপুরের পর থেকে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একসময় তা জনস্রোতে পরিণত হয়। সাধুরা অবশ্য পূর্ণিমা শুরুর আগেই আসেন।