ছেলেধরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গুজবে নাকাল বাংলাদেশ

ছেলেধরা

বিবিধ ডেস্ক ১২:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

print
ছেলেধরা

কিছুদিন আগে ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনির হার এমনভাবে বেড়ে গিয়েছিল, যাতে পুরো দেশ কেঁপে উঠেছে। যে গুজবের বলি হয়েছেন নিরপরাধ সাধারণ মানুষ। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। সব ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীকে ছেলেধরা হিসেবে সন্দেহ করে তার ওপর চড়াও হয়েছে একটি চক্র।

গুজবটি এতই ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে ছিল যে, এটি নিরসনে সেতু কর্তৃপক্ষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দু’দফায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু তারপরও তা সাধারণ মানুষকে সামান্য পরিমাণেও আশ্বস্ত করতে পারছিল না। বাংলাদেশে যেমন ছেলেধরা আতঙ্ক নতুন না, তেমনই গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাও নতুন নয়।

পরিসংখ্যান যাচাই করলে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত প্রতি বছরই সারা দেশে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে গণপিটুনিতে। ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত গণপিটুনিতে দেশে প্রায় ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যেগুলোর কোনোটা ছেলেধরা বা ডাকাত সন্দেহে, আবার কোনো কোনো ঘটনায় সামান্য চোর সন্দেহেও পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাহফুজা খানমের মতে, মানুষ তাদের ব্যক্তিগত জীবন বা সামাজিক জীবনের অপ্রাপ্তি থেকে উৎসারিত ক্ষোভ প্রকাশের সুযোগ পেলে হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ফ্রয়েড বলেছিলেন, সুযোগ পেলেই মানুষের ভেতরের আদিম পশুপ্রবৃত্তি বেরিয়ে আসতে চায়। ছোট্ট একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন মানুষের মধ্যে এরকম প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে যে ওই পশুপ্রবৃত্তিটি কাজ করছে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই এভাবে ক্রোধ উদ্গারের প্রবণতা বেশি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব নন্দী, যিনি ভারত ও বাংলাদেশে গণপিটুনি-বিষয়ক একটি গবেষণা করেছিলেন, মনে করেন মানুষের মধ্যে এই পশুপ্রবৃত্তি প্রকাশ হওয়ার প্রবণতা তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।